১৮ নভেম্বর ২০১৯

ঝালকাঠিতে ঝুঁকিপূর্ণ আদালত ভবনে চলছে বিচারিক কার্যক্রম

এজলাসে ঝুঁকিপূর্ণ ছাদ থেকে পলেস্তরা খসে পড়েছে হনয়া দিগন্ত -

ঝালকাঠি জেলা জজ আদালত ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এ দীর্ঘ সময়ে সংস্কার না হওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভবনটি। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে আদালতের বিচারক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। সংশ্লিষ্টদের ঝুঁকির পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীরাও আতঙ্কে বিচারিক সেবা নিচ্ছেন। ভবনটির ছাদ ও পিলারের রডে মরিচা ধরায় পলেস্তরা খসে পড়ছে। বেশ কিছু স্থানে বড় বড় ফাটলও দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, ৩০ বছর আগে নির্মিত ভবনটি ক্রমান্বয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আসছে। দ্বিতল এই ভবনের ওপর ২০০৫-০৬ অর্থবছরে নির্মিত হয় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন। এ কারণে ভবনটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিচতলার ভবনের পশ্চিম পাশের পিলারসহ বিভিন্ন স্থানে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া ভবনটির বিভিন্ন স্থানের ছাদের পলেস্তরা খসে পড়তে শুরু করেছে অনেক আগেই। প্রায়ই জেলা জজ আদালত ভবনে বারান্দার পলেস্তরা খুলে পড়েছে। আদালতের হাজতখানা ভবনটির অবস্থা আরো করুণ। গত ২৭ অক্টোবর শেষ বিকেলে নলছিটি সিনিয়র জজ আদালত কার্যালয় কক্ষের ভেতরের ছাদের মরিচা ধরা রডসহ পলেস্তরা ধসে পড়ে। আদালতের কার্যক্রম শেষে এ ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি। পলেস্তরা খুলে পড়ার সময় একটি বৈদ্যুতিক পাখা বাঁকা হয়ে যায়। এর বিকট শব্দে আদালত ভবনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে বিচারকরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বিচারকার্য সম্পন্ন করছেন। পাশাপাশি আইনজীবী, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিচারপ্রার্থী এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
জেলা জজ আদালতের নাজির সেলিম জাহান জানান, তাদের ভবনটি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিভিন্ন স্থানের পলেস্তরা খসে পড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ কারণে তাদের আতঙ্কিত হয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ভবনের সংস্কারকাজ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়াও পূর্ব চাঁদকাঠি কোয়ার্টারে ‘এ টাইপ’ ভবনও (পুরনো ডি টাইপ) ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। ইলেকট্রিক সামগ্রী, আসবাবপত্র, বিছানা ও সন্তানদের পড়াশোনার বইপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দ্রুত সংস্কার করা না হলে পলেস্তরা খসে পড়ে যেকোনো সময় প্রাণহানির মতো ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান বিন কালাম বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জজ আদালত ভবনটি অনেক আগে নির্মাণ করায় এর ধারণক্ষমতা নাজুক হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিয়ে পরিদর্শন করে এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ করতে হলে প্রয়োজনে কিছু দিন কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৫ দিন থেকে এক মাসের মধ্যে সাময়িক সংস্কারকাজ করতে হবে।


আরো সংবাদ