১৫ নভেম্বর ২০১৯

চরফ্যাসনে প্রবাসীর অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিলো কথিত বাবা

-

ভোলার চরফ্যাসনে প্রবাসীর অর্ধকোটি টাকা ও জমি প্রতারণা করে হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে কথিত বাবা জাহাঙ্গীর জমাদারের বিরুদ্ধে। উপরন্তু টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য ভুক্তভোগী সিঙ্গাপুর প্রবাসী বেল্লাল ঘটনাটি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানোয় জাহাঙ্গীর তাকে মারধর করেছে। পরবর্তীতে বেল্লাল বাদি হয়ে চরফ্যাসনে কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে জাহাঙ্গীরের হুমকি-ধমকির কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বেল্লাল।
জানা গেছে, চরফ্যাসন উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন জমাদারের বাড়িতে প্রাইভেট মাস্টার হিসেবে থাকতেন বেল্লাল। সে সময় বেল্লালকে ছেলে জানত জাহাঙ্গীর। বেল্লালও তাকে বাবার মতো জানতেন। কাজের সন্ধানে বেল্লাল এক সময় সিঙ্গাপুর যান। সিঙ্গাপুর যাওয়ার পরে জাহাঙ্গীর জমাদারকে বিশ্বাস করে ন্যাশনাল ব্যাংক চরফ্যাসন শাখার সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ৩৪০৫৩০১৭ এ ৪৪টা ব্যাংক স্লিপের মাধ্যমে (৭ বছরে) জাহাঙ্গীরের একাউন্টে অর্ধকোটি টাকা পাঠান প্রবাসী বেল্লাল। সরল বিশ্বাসে জাহাঙ্গীরকে বিদেশ থেকে টাকা পাঠাতেন বেল্লাল। সেই টাকায় বেল্লালকে প্রতিষ্ঠিত করার নানা প্রলোভন দেখাতে থাকে জাহাঙ্গীর। কিন্তু এক সময় জাহাঙ্গীরের চরিত্র প্রকাশ হয়ে পড়ে। শুধু টাকাই নয়, চরফ্যাসনে বেল্লালের কেনা জমির দলিল ও প্রয়োজনীয় মালামাল সব কিছুই আমানত ছিল জাহাঙ্গীরের কাছে। বেল্লাল যখন সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরে জাহাঙ্গীর জমাদারের কাছে টাকা ফেরত চাইলেন ঠিক তখনই বেরিয়ে এলো জাহাঙ্গীরের আসল চরিত্র। জাহাঙ্গীর উল্টো বেল্লালের কাছে টাকা পাবে বলে নাটক সাজিয়ে ফেলে এবং বেল্লালের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে সালিসি বৈঠক বসায়। বেল্লাল সালিসে উপস্থিত হলে সালিসদারদের উপস্থিতে চরফ্যাসন কলেজ রোড আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে বেল্লালকে মারধর করে জাহাঙ্গীর ও তার লোকজন। এরপর গত ২৯ অক্টোবর চরফ্যাসন শহরের শরিফ পাড়ায় জাহাঙ্গীর অসাধু কিছু পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে বেল্লাল ও তার মামলার সাক্ষী হানিফকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। সাজানো নাটক উপস্থিত জনতার সামনে ফাঁস হলে পুলিশের কবল থেকে রক্ষা পান বেল্লাল। জাহাঙ্গীর গংরা আরো বহু সাজানো ঘটনায় বেল্লালকে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি দেয়। নিজের জীবনের সমস্ত পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব বেল্লাল ভোলায় এসে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
অসহায় বেল্লাল তার আমানতকৃত টাকা ও তার জমির দলিলাদিসহ প্রয়োজনীয় মালামাল উদ্ধারের জন্য প্রভাবশালীদের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিয়েও কোনো ফল পাননি। এ ঘটনার পর গত ২৬ অক্টোবর বেল্লাল চরফ্যাসন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে বেল্লাল প্রতারক জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে চরফ্যাসনের বিচারিক হাকিমের আদালতে মামলা করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাহাঙ্গীর সরকারদলীয় প্রভাবশালী এক নেতার প্রশ্রয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে। প্রবাসী বেল্লাল ও এলাকার ভুক্তভোগীরা প্রতারক জাহাঙ্গীর ও তার বাহিনীর কবল থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর জমাদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার একাউন্টে বিল্লালের টাকা পাঠানোর কথা স্বীকার করে বলেন, ‘সে আমার একাউন্টে টাকা পাঠিয়েছে সত্য, তবে আমি তাকে ছেলে হিসেবে লালন পালন করেছি। লেখাপড়া করিয়েছি। এনজিও ব্র্যাক থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ করে বিদেশে পাঠিয়েছি। সেই টাকা আমি নিয়েছি।’


আরো সংবাদ