২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

জটিল রোগে আক্রান্ত সাংবাদিক জাকিরুল

প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা
বিরামপুর হাসপাতালে সাংবাদিক জাকিরুল -

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার সাংবাদিক জাকিরুল ইসলাম জটিল রোগে আক্রান্ত। অর্থাভাবে তিনি উন্নত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। তিনি স্নায়ুজনিত রোগ ঐরৎধুধসধ উরংবধংব সহ অহশুষড়ংরহম ঝঢ়ড়হফুষরঃরং উরংবধংবং-এ অক্রান্ত; যা বিশ্বে বিরল রোগ হিসেবে পরিচিত। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৩০ লাখ টাকা। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতা কামনা করেছে তার পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জাকিরুল গত জুলাই মাসে বিরামপুর উপজেলার নবনির্মিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন হস্তান্তর অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহের সময় হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে অন্য সাংবাদিকরা তাকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ অবস্থায় তার দু’টি হাতের মাংস শুকিয়ে বিকলাঙ্গ হয়ে যায় এবং পা দু’টি ধীরে ধীরে অবশ হতে থাকে। টানা ১৮ দিন চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে ডাক্তারদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে পাঠানো হয়। সেখানে নিমহ্যান্স হসপিটাল ও ন্যাশনাল নিউরো সায়েন্স সেন্টারের চিকিৎসক ডা: তাপস কুমার ব্যানার্জী ও ডা: এ কে পালসহ ১৬ জন চিকিৎসকের সমন্বয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ড পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জাকিরুলের শরীরে ঐরৎধুধসধ উরংবধংব সহ অহশুষড়ংরহম ঝঢ়ড়হফুষরঃরং উরংবধংবং রোগ নির্ণয় করেন; যা বিশ্বে বিরল রোগ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ ছাড়াও ঐরৎধুধসধ উরংবধংব এর জন্য একটি মেজর অপারেশন করার পরামর্শ দেন সেখানকার চিকিৎসকরা। অহশুষড়ংরহম ঝঢ়ড়হফুষরঃরং উরংবধংবং এর জন্য তাকে ১২টি ইনজেকশন পুশ করতে বলা হয়। একেকটি ইনজেকশনে খরচ হচ্ছে ৭০ হাজার টাকা।
বিরামপুর হাসপাতালের আরএমও নিউরোমেডিসিন ডা: আহসান হাবিব বকুল জানান, তার নার্ভগুলো ধীরে ধীরে ড্যামেজ হয়ে যাচ্ছে। মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের অবস্থা খুবই খারাপ পর্যায়ে। এ ধরনের রোগীকে সাধারণত আইসিইউতে রাখতে হয়। তার দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।
জাকিরুলের স্ত্রী জানান, জমিজমা বিক্রি করে এবং মাথা গোঁজার শেষ সম্বল বসতবাড়িটিও ব্যাংকের কাছে বন্ধক রেখে প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ করে তার স্বামীর চিকিৎসা করা হয়েছে। এখন ধীরে ধীরে শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হচ্ছে। এমতাবস্থায় অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা নিতে না পারায় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে রাখা হয়েছে। তিনি আরো জানান, তার স্বামী সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় এখন তারা খুবই কষ্টে জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার স্বামীর উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানান।


আরো সংবাদ