২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

পুঠিয়ায় চাতাল মিলের চাল কেনায় গুদামের কারসাজি

-

রাজশাহীর পুঠিয়ায় একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে খাদ্য গুদাম। কৃষককে বঞ্চিত করে ধান ক্রয়ে জটিলতা কাটতে না কাটতে আবারো স্থানীয় মিলারদের জিম্মি করে বাইরে থেকে চাল কেনা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষক ও মিলারদের পক্ষে প্রতিবাদ করতে স্বয়ং মাঠে নেমেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান। এসব ঘটনার দুই দিন থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান-চাল ক্রয় বন্ধ রয়েছে।
খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি জানুয়ারি থেকে উপজেলা খাদ্য গুদাম মোট ৩১ জন মিলারের কাছ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে সর্বমোট ২৬৭ মেট্রিক টন চাল ক্রয় কার্যক্রম শুরু করেছে। চাল কেনা চলবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
স্থানীয় মিলারদের অভিযোগ, তাদের প্রতিটি মিলে কাজ করে ১০-২৫ জন কর্মচারী জীবিকা নির্বাহ করেন। অথচ তাদের জিম্মি করে কমিশন বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন একশ্রেণীর স্বার্থবাদী। তারা আরো বলেন, গুদাম কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা ও রাজনৈতিক নেতাদের দাপটের কারণে ১০ বছর ধরে তারা খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহ করতে পারছেন না।
উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম হীরা বাচ্চু বলেন, স্থানীয় মিলারদের কথা বিবেচনা করে গত বুধবার খাদ্য গুদামে গিয়ে ব্যবসায়ীদের চাল ক্রয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছি। সে সময় পাবনা থেকে আসা একটি চাল বোঝাই ট্রাক (পাবনা ট- ১১-১০৫৩) ফেরত পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, নিয়ম অনুসারে খাদ্য গুদাম ধান কিনবে কৃষকের কাছ থেকে আর চাল কিনবে মিলারদের কাছ থেকে। কিন্তু এখানে তার বিপরীত ঘটছে। এসব অনিয়ম এখানে চলতে পারে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চাতালকল মালিক বলেন, গত ১৩ জানুয়ারি সকালে তালিকাভুক্ত সব মিলারকে ডাকা হয় খাদ্য গুদামে। সব মিলার সেখানে গেলে খাদ্য কর্মকর্তা, ওসিলিটি, একজন ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা, দু’জন চাল ও ধান সরবরাহকারী উপস্থিত হন। পরে তারা আমাদেরকে খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহ না করতে সাফ জানিয়ে দেন। এ ছাড়া ওই চক্রটি লাভের একটা অংশ আমাদের দেবেন বলেও জানান। আর তাদের কথা না রেখে চাল সরবরাহ করলে বিভিন্ন অজুহাতে তা ফেরত পাঠানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন। এ ঘটনায় সব মিল মালিক কোণঠাসা হয়ে পড়েন।
খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসিলিটি) জালাল উদ্দীন ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজশের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমরা আলোচনা করতে মিলমালিকদের ডেকেছিলাম। সেখানে তাদের কোনো প্রকার হুমকি বা লেনদেনের বিষয়ে আলোচনা হয়নি। আমরা বর্তমানে মিলারদের তালিকা অনুসারে ও মান যাচাই করে চাল কিনছি। এ পর্যন্ত ১২২ মেট্রিক টন চাল কেনা হয়েছে।
তবে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও খাদ্য ক্রয় কমিটির সভাপতি ওলিউজ্জামান বলেন, খাদ্য গুদামে সরবরাহকৃত চালের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন দেয়ার পর এ ঘটনার সাথে জতিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরো সংবাদ