২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বরগুনায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের মাটি যাচ্ছে ইটভাটায় : ধসের আশঙ্কা

-

উপকূলীয় বরগুনার ছয়টি উপজেলার সদর, আমতলী, পাথরঘাটা, বামনা, তালতলী ও বেতাগীর বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের মাটি যাচ্ছে অবৈধ ইটভাটায়। ফলে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধধসের আশঙ্কাও রয়েছে। এলাকার প্রভাবশালী মহল বন্যানিয়ন্ত্রণবাঁধের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ কেটে মাটি বিক্রি করায় হুমকিতে রয়েছে হাজার হাজার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ জলোচ্ছ্বাস হলে এই বাঁধ ভেঙে এলাকা তলিয়ে যাবে। দ্রুত এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার দাবি করছে তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীসংলগ্ন ৪৩/১ পোল্ডারে ১৯৬৬ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রণবাঁধ নির্মাণ করে। ওই বাঁধের কারণে জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে আমতলী সদর ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিরাপদে জীবন যাপন করছে। ১০ দিন ধরে সেকান্দারখালী গ্রামের প্রভাবশালী সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আব্দুল মালেক হাওলাদারের ছেলে মিল্টন হাওলাদার বাঁধের নদীর পাশেরও খাস জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাশের মাটি কাটায় হুমকিতে পড়েছে ২০ হাজার মানুষ। এ ছাড়াও ওই বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাশে খাস জমির অর্ধশতাধিক গোলপাতা গাছ কাটা হয়েছে। সেকান্দারখালী গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মহিলা বলেন, ‘মোরা কি হরমু, গত তিন বচ্ছর ধইর্যাইতো মিল্টন হাওলাদার বান্দের মাটি কাইট্টা লইয়্যা যাইতে আছে। হ্যারে তো কেউ কিছু হরতে পারে না।’ বরগুনা সদর উপজেলার মালেক হাওলাদার বলেন, বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের মাটি কাটা অন্যায়। আমার ছেলে যে মাটি কেটেছে তা ভরে দেয়া হবে। মিল্টন হাওলাদার বাঁধের মাটি কাটার ভুল স্বীকার করে বলেন, যেটুকু কাটা হয়েছে তা পরে ভরে দেবো।এ বিষয়ে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আজিজুর রহমান সুজন বলেন, কোনো মতেই বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ কাটা যাবে না। বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 


আরো সংবাদ