১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

দামুড়হুদায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ এখন বাণিজ্যিক হাট

দামুড়হুদার ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বসা হাট : নয়া দিগন্ত -

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে গড়ে উঠেছে স্থায়ী দোকান ও বাণিজ্যিক হাট। বিদ্যালয় চলাকালীন সপ্তাহে দুই দিন এই হাট বসায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন ভোগান্তি। পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ভেঙে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা।
জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামে ৯২ শতক জমির ওপর ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৯৫ জন। বিদ্যালয়ে আটজন শিক্ষক ও একজন নৈশপ্রহরী রয়েছেন। কিন্তু এলাকার এক শ্রেণীর প্রভাবশালী ব্যবসায়ী বিদ্যালয়ের মাঠেই বানিয়েছেন স্থায়ী দোকান এবং বসিয়েছেন বাণিজ্যিক হাট। দীর্ঘদিন ধরে সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার এ হাট বসছে। হাটের দিন দূর-দূরান্ত থেকে আগত পাইকাররা ট্রাক ও বিকট শব্দযান নছিমন, করিমন, ভটভটি ও আলমসাধু ভর্তি করে কাঁচামাল নিয়ে এসে বিদ্যালয়ের মাঠেই লোড-আনলোড করেন। হাটে অস্থায়ী দোকানিরা কাঁচা তরিতরকারি ও বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করেন। বিদ্যালয়ের মাঠে যানবাহন ও বিক্রেতাদের ভিড়ের মধ্য দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কোনো রকমে বিদ্যালয়ে এলেও হট্টগোলের মধ্যে তারা ক্লাস করতে পারে না। যে কারণে অনেক অভিভাবক হাটের দিন তাদের সন্তানকে বিদ্যালয়ে যেতে দিতে চান না। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের কোনো নজর নেই বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।
সরেজমিন দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠে ব্যবসায়ীরা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন। ক্রেতারা দরদাম করে পণ্য কিনছেন। এর মধ্যেই বিদ্যালয়ে চলছে পাঠদান। ক্রেতা-বিক্রেতাদের শোরগোলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা কী পড়াচ্ছেন তা শিক্ষার্থীদের বোঝার উপায় নেই। শিক্ষার্থীদেরও পাঠে নেই মনোযোগ। শ্রেণিকক্ষের পাশেই রয়েছে হাটের ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রয়েছে ২৪টি পাকা দোকানঘর। বিদ্যালয়ের প্রায় ২০ শতক জমি দখল করে এসব দোকান গড়ে তোলা হয়েছে।
পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জেনিফার আক্তার লাইলা বলে, সপ্তাহের সোম আর বৃহস্পতিবার স্কুলে আসতে মন চায় না। চারদিকের চিৎকার-চেঁচামেচি ও মাইকের শব্দে ঠিকমতো ক্লাস করতে পারি না। সপ্তাহের অন্য দিন মাঠ ফাঁকা থাকলেও হাটের ময়লা-আবর্জনার পচা গন্ধে প্রতিদিনই ক্লাস করতে সমস্যা হয়, মাঠে খেলাধুলা করতেও কষ্ট হয়।
এ বিষয়ে খানজাহান আলী নামের এক অভিভাবক বললেন, শিশুরা তো লেখাপড়া-খেলাধুলার মধ্য দিয়েই শিখবে। স্কুলের মাঠ দখল করে দোকান তৈরি, নিয়মিত হাট বসানো এবং তা সরকারিভাবে ইজারার বন্দোবস্ত দেয়া কতটা যুক্তিযুক্ত জানা নেই আমার।
এ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন সময় দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু কার্যকর সমাধান মেলেনি। গুণগত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এর দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আনিছুর রহমান শেখ বলেন, শিশুরা স্কুলে শুধু লেখাপড়া করতে আসে না, খেলাধুলাও করতে আসে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে হাট অপসারণ এবং বিদ্যালয়ের অন্য সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন। বিষয়গুলো নিয়ে বহুবার আমরা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু কাজ হয়নি।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাকী সালাম জানান, বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে হাট ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে শুনানি সম্পন্ন হয়েছে, আশা রাখি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।


আরো সংবাদ