২২ আগস্ট ২০১৯

শখের বনসাই এখন তারিকুলের পেশা

মানুষের শখ বিচিত্র। বিচিত্র শখের পেশায় সাফল্যের সম্ভাবনাও বেশি। কেউ শখ করে কাপড় বুনে, কেউ বা কাপড়ে ফুল তোলে, কেউ বা আবার বাঁশি বাজায়, অনেকে পাখি পুষে, কেউ আবার বাগান তৈরী করে। আবার কেউ শখের বশে বনসাইয়ের বাগান তৈরি করেন। তবে বনসাই কি অনেকেই জানেন না। বনসাইয়ের ইতিহাস বহু পুরনো। ধারণা করা হয় প্রায় ২০০০ বছর পূর্বে চীনে এর শুরু। পরবর্তী সময়ে জাপানে বনসাই বিস্তৃতি লাভ করে। বনসাই শব্দটি জাপানি। বন শব্দের অর্থ ছোট পাত্র এবং সাই শব্দের অর্থ গাছ। অর্থাৎ বনসাই মানে দাঁড়াচ্ছে, ছোট পাত্রে গাছ। বনসাই মূলত ছোট পাত্রে বিশেষ পদ্ধতিতে লাগানো গাছ।

শখের তৈরি যেকোন জিনিসই আনন্দ ও ভালোবাসার খোরাক যোগায় মানুষের জীবনে। তেমনিভাবে পটুয়াখালীর দুমকিতে রয়েছেন একজন বনসাই প্রেমী। উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের জলিশা গ্রামের লুৎফুর রহমানের ছেলে তারিকুল ইসলাম। একাউন্টিং বিষয় নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করা তারিকুল বনসাইকেই এখন পেশা হিসেবে বেছে নিতে চান। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহযোগিতা পেলে বনসাইকে পরিপূর্ণরূপে দাঁড় করাতে পারবেন বলে বেশ আশাবাদী তিনি।

তারিকুল বলেন, বর্তমান কারিকুলামের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবেচনায় চাকরির সুযোগ খুবই প্রতিযোগিতাপূর্ণ। সে কারণে স্বাধীন বিকল্প পেশা হিসেবে বনসাইকে বেছে নিতে চান। তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই বনসাই পছন্দ তার। তবে ইউটিউবে বনসাই দেখে পুরোপুরি প্রেমে পড়ে যান। সেখান থেকেই মনের ভিতর ইচ্ছা জাগে বনসাই করবেন। লেখাপড়া শেষে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগদান করেন। তবে কিছুদিন পরে চাকরি ছেড়ে বাড়িতে এসে বিভিন্ন স্থান ঘুরে চারা সংগ্রহ করে বাড়ির আঙ্গিনায় মাত্র ১ শতক জমিতে বনসাই শুরু করেন। তার বনসাই গ্যালারিতে রয়েছে- নিম, গাব, বেল, তেতুল, বকুল, ডালিম, কমলা, বহেরা, অর্জুন, জামরুল, করমচা, কদবেল, কামরাঙা, বট, নুডা বট, পাকুর বট, কাঠলি বট, গোলাপজাম, সাদা নয়নতারা, স্টার কুইন, বাগান বিলাস, ক্যাকটাস, পাতাবাহার, লাল জামরুল, চায়না কমলা, কাজু বাদাম, ডেউয়াসহ আরো অনেক গাছ ।

বিশিষ্ট উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ও গবেষক, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. মাহবুব রাব্বানী বলেন, বর্তমানে বনসাইয়ের অনেক কদর রয়েছে। তবে বনসাই করে মনের শখ পূরণের পাশাপাশি আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জিব কুমার গোস্বামী বলেন, উপজেলায় এমন একজন বনসাই প্রেমী আছেন শুনে খুব ভাল লাগছে। তবে উপজেলা কৃষি অফিস ও ব্যক্তিগতভাবে আমার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে।


আরো সংবাদ