২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

হঠাৎ মেঘনায় ইলিশ, ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে

বিলম্বে হলেও ভোলার মেঘনায় ধরা পড়ছে ইলিশ। এতে সরগরম হয়ে উঠেছে মাছের আড়ত। জেলে, আড়তদার ও পাইকারদের হাঁকডাকে জমজমাট হয়ে পড়েছে মাছের ঘাট। জেলেদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। জাল, নৌকা ও মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে নদীতে ছুটছেন, কারো বসে থাকার সময় নেই। মাছ ধরা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মৎস্যজীবীরা।

এদিকে দেরিতে হলেও নদীতে মাছ ধরা পড়ায় হাসি ফুটেছে জেলেদের চোখ-মুখে। মাছ বিক্রির টাকায় লোকসান পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশাবাদী তারা। জেলেরা বলছেন, এতদিন নদীতে মাছের দেখা মেলেনি। এর ফলে বেশির ভাগ জেলে দাদন আর মহাজনের দেনায় চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু দুই দিন ধরে নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পড়ছে। এতে দেনা পরিশোধ হবে। সঙ্কট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন তারা।

গত শুক্রবার ভোলার খাল, ইলিশা ও বিশ্বরোড ঘাটসহ বেশ কয়েকটি ঘাট ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে। জেলেদের আহরণকৃত এসব মাছ ঘাট থেকেই বরফ দিয়ে ঝুড়িতে প্যাকেটজাত করে পাঠানো হচ্ছে ঢাকা, বরিশাল ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন আড়তে।

ইলিশা এলাকার জেলে নিজাম ও আ: করিম জানান, আগে সারাদিন জাল নিয়ে ছুটলেও ফিরতে হতো খালি হাতে। কিন্তু এখন যা মাছ পাওয়া যাচ্ছে তা সন্তোষজনক। এক খ্যাপ দিয়ে ১০-১৫ হাজার টাকার মাছ পাওয়া যাচ্ছে। জেলে মো: মাসুদ বলেন, গত দুই দিনে ৩০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেছি, মাছের আমদানি অনেক ভালো। এতে অনেক জেলেই ঋণ শোধ করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।

বিশ্বরোড মাছ ঘাটের আড়তদার মো: সাহাবুদ্দিন বলেন, নদীতে মাছ ধরা পড়ায় জেলে ও আড়তদাররা অনেক খুশি। দিন যত বাড়বে মাছের আমদানিও সেই সাথে বাড়বে। এখানকার মাছ ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। সামসুদ্দিন নামের অপর আড়তদার বলেন, মাছ ধরা পড়লেও মা ইলিশ অভিযান নিয়ে কিছুটা চিন্তিত, কারণ শেষ মুহূর্তে মাছ ধরা পড়া শুরু করেছে। তবে জেলেরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। ভোলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান বলেন, এ বছর ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন, এখন পর্যন্ত ৪০-৪৫ টন উৎপাদন হয়েছে। আশা করি ইলিশের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। টানা ডিসেম্বর পর্যন্ত ইলিশ ধরা অব্যাহত থাকবে।


আরো সংবাদ