২৪ অক্টোবর ২০১৯

যাত্রী সঙ্কটে বিমানের ইয়াঙ্গুন রুট বন্ধ হচ্ছে

-

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ ঢাকা-ইয়াঙ্গুন রুট অবশেষে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরেই এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি বিপুল আর্থিক লোকসান গুনছে। এ দিকে প্রতি বছর শীতকাল সামনে রেখে ফ্লাইট অপারেশন শিডিউলে আনা হচ্ছে পরিবর্তন। এবারো কয়েকটি রুটে বিমান কর্তৃপক্ষ পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। তারমধ্যে ঢাকা-মদিনা সরাসরি ফ্লাইট অপারেশন শুরু হতে যাচ্ছে অক্টোবর মাসের ২৮ তারিখ থেকে।

গতকাল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, ২০১৫ সালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-ইয়াঙ্গুন রুটে সরাসরি ফ্লাইট অপারেশন শুরু করে। শুরুর পর থেকেই এই রুটে যাত্রী সঙ্কট দেখা দেয়। বছরের পর বছর এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে গিযে বিমান কর্তৃপক্ষকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

তিনি বলেন, নতুন পরিকল্পনা মোতাবেক ২৮ অক্টোবর থেকেই ঢাকা-ইয়াঙ্গুন রুটে ফ্লাইট চলাচল আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হতে যাচ্ছে। সেই সাথে ওই দিন থেকে ঢাকা-মদিনা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে। তিনি আরো বলেন, ২৮ অক্টোবর থেকে ঢাকা-গুয়াংজু রুটেও বিমানের সরাসরি ফ্লাইট শুরুর পরিকল্পনা ছিল; কিন্তু এ ব্যাপারে এখনো ক্লিয়ারেন্স পাওয়া যায়নি। তবে চলতি বছরের যেকোনো সময় ঢাকা-গুয়াংজু রুটে ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বর্তমানে মোট ১৬টি রুটে বিমানের ফ্লাইট চলাচল করছে। রুটগুলো হচ্ছে ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, নেপাল, কলকাতা, দিল্লি, মাস্কাট, আবুধাবি, দোহা, কুয়েত, দুবাই, রিয়াদ, দাম্মাম, জেদ্দা, লন্ডন ও ইয়াঙ্গুন। লিজ এয়ারক্রাফট, নতুন প্রজন্মের ড্রিমলাইনারসহ মোট ১৬টি উড়োজাহাজ দিয়ে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। ইয়াঙ্গুন রুটে ৭৪ সিটের ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ দিয়ে প্রতি সপ্তাহের চার দিন ফ্লাইট চলাচল করছে।

গতকাল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অপর একজন কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, আমার জানা মতে ঢাকা-ইয়াঙ্গুন রুট চালু হওয়ার পর থেকেই যাত্রী সঙ্কট ছিল। তারপরও কেন এই রুটে বিমান কর্তৃপক্ষ বছরের পর বছর লোকসান দিলো তা নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিমানেরই কিছু অতি উৎসাহী কর্মকর্তার ভূমিকার কারণে ঢাকা-ইয়াঙ্গুন রুটে কমসংখ্যক যাত্রী নিয়েই ফ্লাইট পরিচালিত হয়ে আসছিল। এতে বিপুল লোকসান গুনছে বিমান কর্তৃপক্ষ। তিনি এই রুটের ফ্লাইট পরিসংখ্যান জানিয়ে বলেন, ৭৪ সিটের এয়ারক্রাফটে কোনো দিন যাওয়ার সময় যাত্রী থাকে ১৮ জন। আবার ফিরতি ফ্লাইটে থাকে ২৪ জন। এক দিন-দু’দিন নয়, প্রায় দিনের ফ্লাইটের চিত্রই থাকে একই রকম।

এসব বিষয়ে গত কয়েক দিন ধরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান তাহেরা খন্দকারের এর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি টেলিফোন ধরেননি। গতকাল রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক (ফ্লাইট অপারেশন) ফারহাত জামিল হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও টেলিফোন ধরেননি।
শীতকালীন সময়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অপারেশন সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তজার্তিক রুটের ফ্লাইট পরিকল্পনায় আনা হয়েছে বেশ কিছু পরিবর্তন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন আহমেদ এর আগে সাংবাদিকদের জানান, যাত্রী চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ঢাকা-দিল্লি রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এই রুটে বর্তমানে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট চলাচল করলেও এবার পাঁচটি করা হচ্ছে। আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট বৃদ্ধির পাশাপাশি এ রুটের ফ্লাইট শিডিউলেও পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।


আরো সংবাদ