১৭ নভেম্বর ২০১৯

পাথরঘাটায় ছাত্রলীগের দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে পুলিশের লাঠিচার্জ

পাথরঘাটায় ছাত্রলীগের দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে পুলিশের লাঠিচার্জ - ছবি : সংগ্রহ

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মো. এনামুল হোসাইনকে স্বপদে বহালের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিরার দুপুর ১২টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা শহরের আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল থেকেই পাথরঘাটায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত শুক্রবার থেকেই পাথরঘাটায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে এনামুলের সমর্থক নেতাকর্মীদের এমন কর্মসূচিকে প্রতিহত করতে পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অবস্থান নেয় তার ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। পরে পুলিশ তাৎক্ষণিক লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় উভয় পক্ষের প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়। এসময় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের নাম জানা যায়নি।

অন্যদিকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে পাথরঘাটার বিভিন্ন স্থানে। দুপুর ১২টার দিকে এনামুলের সমর্থক নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ মিছেল প্রতিহত করতে চাইলে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর আশঙ্কা সৃষ্টি হয়

জানা গেছে, ১৭ অক্টোবর পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. এনামুল হোসাইনকে অনুপ্রেবশকারী উল্লেখ করে সাংগঠনিক নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তাকে বহিষ্কার করে। এরপর থেকে এনামুলের সমর্থক ও প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এ অবস্থায় এনামুলকে স্বপদে বহালের দাবিতে শুক্রবার পাথরঘাটায় বিক্ষোভ মিছিল এবং শনিবার একই দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করলে এই উত্তেজনায় শুরু হয়।

এদিকে পুলিশের লাঠিচার্জ বাধা উপেক্ষা করে এনামুল হোসাইনের নেতৃত্বে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে শেষে দুপুর ১টার দিকে পাথরঘাটা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে নিজেকে অনুপ্রবেশকারী এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেনি এবং আওয়ামী পরিবারের সদস্য বলে দাবি করে বলেন, আমি একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রেরর শিকার। কিন্তু প্রতিপক্ষের ছাত্রলীগ নেতারা সেই মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন পন্ড করার জন্য আমার নেতাকর্মীদের শহরে প্রবেশ করতে দেয়নি এবং পথে পথে তাদের ওপর হামলাও করেছে। আমার সমর্থক নেতাকর্মীরদের মারধর করে ছত্রভঙ্গ করে দিচ্ছে। মারধরে আমার অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

অপরদিকে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান নাইম বলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ালিদ মক্কি ও পৌর সাধারন সম্পাদক শাহাদাত হোসেন মধুসহ পুলিশের লাঠিচার্যে ছাত্রলীগের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৫জনকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।

তবে পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান সোহাগ বলেন, এনামুল ও তার নেতাকর্মীরা যেটা করছেন, তা সম্পূর্ণ সংগঠনবিরোধী। তিনি তার পদ ফেরত পাওয়ার জন্য কেন্দ্রে আপিল করতে পারেন। কিন্তু তিনি তা না করে মিছিল মিটিং করে পাথরঘাটায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।

পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেন, শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষাকার জন্য সাদা পোশাকধারীর পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ ও ডিবি পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে এবং উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করা হয়েছে।


আরো সংবাদ