২২ নভেম্বর ২০১৯

উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ‘জোছনা উৎসব’ বাংলাদেশে

বরগুনার তালতলীতে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় জোছনা উৎসব পালন উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অঃ দাঃ) মো. সেলিম মিঞা’র সভাপতিত্বে উপজেলা চেয়ারম্যান রেজবী-উল-কবির জোমাদ্দার, ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মনিকা নাজনীন মনি, ওসি শেখ শাহিনুর রহমানসহ উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আগামী ১৩ নভেম্বরের এ জোছনা উৎসবকে সফল করার লক্ষ্যে মুল কমিটির সাথে ১৫টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দিনব্যাপী এ জোছনা উৎসবকে ঘিরে তালতলীর নলবুনিয়ার শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতকে এক অপরূপ সাজে সজ্জিত করা হচ্ছে। এ জোছনা উৎসবে দেশ-বিদেশ থেকে প্রায় ১০ লক্ষ পর্যটকদের সমাগম ঘটবে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৫০০ মিটার প্রস্থ’র এ পর্যটন স্পটে পর্যটকদের সুবিধার্থে ২০টি পাবলিক টয়লেট, পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলা সদর থেকে সড়কে পর্যটন স্পট পর্যন্ত ২০টি তোরণ নির্মান করা হচ্ছে। এ সড়কে তোরণ নির্মানের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ঝারবাতি দিয়ে সু-সজ্জিত করা হচ্ছে। পর্যটকদের নদীপথে আসার জন্য তৈরী করা হচ্ছে অস্থায়ী ভাসমান পল্টুন। সড়ক পথে আসলে সু-ব্যবস্থা করা হয়েছে গাড়ী পার্কিংয়ের। জোছনা উৎসবে বিনোদনের জন্য রয়েছে খেলাধুলার বিশেষ আয়োজন ও বাহারী ঘুড়ি উড়ানো। সূর্যাস্ত উপভোগের পরে থাকছে প্রদীপ প্রজ্বলন ও রাখানইদের প্রধান ঐতিহ্যবাহী উৎসব ৩০টি ফানুস উড়ানো। প্রতিটি ফানুসে থাকছে পর্যটকদের মন মাতানো ৫০টি করে ঝাড়বাতি। রাতে বিনোদনে থাকছে জোছনা অবগাহন। মঞ্চে প্রদর্শিত হবে রাখাইন নারীদের একক ও দলীয় নৃত্য, অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুতুল নাচ, যাদু প্রদর্শনী ও পুথি পাঠ। প্রদর্শিত হবে মিনি যাত্রা। পর্যটকদের সুবিধার্থে তৈরী করা হবে শতাধিক বিভিন্ন ধরনের স্টল। এতে পাওয়া যাবে ৯৯ রকমের বাহারী খাবার। 

পর্যটকদের নিরপত্তার স্বার্থে আইন শৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রায় পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছা সেবক নিয়োজিত থাকবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক মনিটরিংয়ের জন্য খোলা হবে কন্ট্রোল রুম। যাতে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা যায়।


আরো সংবাদ