১৫ নভেম্বর ২০১৯

ভাণ্ডারিয়ায় শ্রমিকলীগ নেতা মামুন মাঝীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ জেলেরা

-

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার চরখালী ফেরিঘাট এলাকার কঁচানদীর তীরে মাছ ব্যবসায়ী শ্রমীকলীগ নেতা মামুন মাঝীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ কঁচানদীর অর্ধশত জেলেরা। মামুন মাঝী উপজেলার নদমূলা ইউনিয়নের চরখালী গ্রামের আব্দুল হাই মাঝীর ছেলে। সে অত্র ইউনিয়ন শ্রমিকলীগ নেতা। তার অত্যাচার থেকে জেলেরা এখন মুক্তি চান।

জানা গেছে, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মামুন মাঝী কাঁচা নদীর জেলেদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। কখনো কখনো নির্যাতন করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও স্থানীয় জেলেদের মোটা অঙ্কের দাদন (টাকা) দিয়ে জিম্মি করেন এবং অসাধুপায়ে একক চেটিয়া ব্যবসা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। তার ভয়ে জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরুপায় জেলেদের কেউ প্রতিবাদ করলে সেইসব জেলেদের ওপর নেমে আসে অমানুষিক অত্যাচার ও নির্যাতন। তার অত্যাচারে কোন জেলে অন্যত্র মাছ বিক্রি ও অন্য কোন ব্যবসায়ীরাও ব্যবসা করতে পারছেনা বলে অভিযোগ উঠছে।

হেতালীয়া গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী আব্দুর রব কঁচানদীর তীরে চরখালী ফেরিঘাটে মাছ কিনতে গেলে উক্ত মামুন মাঝী তাকে লাঞ্চিত করে এবং হত্যার হুমকি দেয়। তিনি বলেন, এ ঘটনায় গত বুধবার মামুন মাঝীর বিরুদ্ধে ভাণ্ডারিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করলে থানা পুলিশ তাকে ঢেকে নিয়ে ৪/৫ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর এসব অপকর্ম না করার শর্তে মুসলেকা দিয়ে মুক্ত হন মামুন মাঝী। ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মাকসুদুর রহমান এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

কঁচানদীর জেলে ও মাছ ব্যবসায়ী মোঃ মাসুম ও কয়েক জেলের সাথে আলাপ কালে জানাগেছে, মামুন মাঝীর দলীয় প্রভাবের ভয়ে অন্য কোন আড়তে মাছ বিক্রি করতে পারছেনা জেলেরা। ফলে জেলেরা মাছের সঠিক মূল্য পাচ্ছে না।

কঁচানদীর জেলে আনোয়ার ফারাজী মুঠোফোনে অভিযোগ করেন, কয়েক বছর পূর্বে রাতে কঁচানদীর মধ্য দিয়ে প্রায় ৯০ হাজার টাকার চিংড়ি মাছ নিয়ে ফেরার পথে এই মামুন মাঝী লোকজন নিয়ে তার মাছ ডাকাতি করে নিয়ে যায়।

নাম না প্রকাশের শর্তে একাধীক জেলে জানান, মামুন মাঝীর হাতে প্রায় অর্ধশত জেলেরা দাদনের ফাঁদে জিম্মি। তার কাছে মাছ বিক্রি করে কানাকড়িও লাভ হয়না। তবুও নিরুপায় হয়ে মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে তার পাওনা দাদন টাকা এক সাথে চায় সাথে নানামূখী অত্যাচার ও নির্যাতনে পড়তে হয় তাদের। তার অত্যাচারে অন্য কোন ব্যবসায়ীরাও ব্যবসা করতে পারছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত মাছ ব্যবসায়ী মামুন মাঝী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি নদমূলা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক।


আরো সংবাদ