১০ ডিসেম্বর ২০১৯
ভাণ্ডারিয়ায় লবণ কিনতে ভিড়

পাইকারী দোকান ও ডিলারে লবণ শূন্য

ভাণ্ডারিয়ায় লবণ ক্রয়ের হিড়িক! - নয়া দিগন্ত

১৫০ টাকা হবে লবণের কেজি’ এমন গুজবে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় লবণ ক্রয় ও বিক্রয়ের হিড়িক পড়েছে। ভাণ্ডারিয়া বাজারের শত শত পাইকারি ও খুচরা দোকানে লাইন দিয়ে খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের লবণ ক্রয় করতে দেখা গেছে। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিংয়ে নামতে হয়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় লবণের কেজি ১৫০ টাকা হবে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এ গুজবের কারণে মঙ্গলবার দুপুর থেকে ভাণ্ডারিয়া বাজারে লবণের ডিলার, পাইকারি বিক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতাদের দোকানে লবণ ক্রয়ের জন্য ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। বিকাল ৪ টার মধ্যে ডিলার ও অনেক পাইকারি ব্যবসায়ীর গোডাউন লবণ শূণ্য হয়ে যায়। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন লবণের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য মাঠে নামে।

এদিকে, হঠাৎ করে এভাবে লবণ ক্রয়ের কারণে অনেক ডিলার বা পাইকারি ব্যবসায়ীরাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বিকালে ভাণ্ডারিয়া বাজারে লবণ ক্রেতা সিপন সরদার বলেন, লবণের দাম বাড়বে তাই ২৫ কেজি লবণ ক্রয় করেছি। অন্য ক্রেতা সাইদুর রহমান ও সৈয়দ আলী জানান ,পেয়াজের দাম বেড়েছে । শুনছি লবণেরও দাম বাড়বে তাই তারা ১০ কেজি করে লবণ ক্রয় করেছেন। এদিকে লবনের দাম বৃদ্ধির গুজবে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের হাট-বাজারের ব্যবসায়ীরা ৩০/৩৫টাকা কেজি দরের লবন ৬০/৭০টাকা দামে বিক্রি করার খবর পাওয়া গেছে।উপজেলার সর্বত্র আজ লবন কান্ডে মুখরিত।

অপরদিকে, খবরে পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহীদুল ইসলাম পুলিশ নিয়ে ভাণ্ডারিয়া বাজারে অভিযান করেন। এসময় লবণ ক্রেতা ৪ ব্যবসায়ী মানিক দাস,জয়দেব, হায়দার আলী ও মাহবুব আলমের সাথে পাওয়া ৩৫৫ কেজি লবণ আটক করে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

মোল্লা সুপার লবণের ভাণ্ডারিয়ার ডিলার ছগির জোমাদ্দার বলেন, একটি গুজবের উপরে ভর করে জনগণ হঠাৎ করে এভাবে লবণ ক্রয় শুরু করেছে। আমরা পূর্বের দামেই সব লবণ বিক্রি করছি।

পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতা শেখর সরকার বলেন, মঙ্গলবার দুপুরের থেকেই আমাদের দোকানে লবণ ক্রয়ের জন্য সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা ভীড় করে। মুহুর্তের মধ্যে আমাদের দোকানে থাকা ১২শত ৫০ কেজি লবণ বিক্রি হয়ে যায়। তিনি আরো বলেন,
মুসকান লবণের ডিলার ভাই সঞ্জিব সরকারের গোঠাউনে কোন লবণ নেই।

উপজেলা পৌর শহরের খুচড়া এক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, দোকানে লবণ নেই। তাই ভাণ্ডারিয়া বাজারে মঙ্গল শাহর পাইকারীর দোকানে লবণ কিনতে গেলে তিনি চড়াদাম চান। এতো দামের কারণ জানতে চাইলে বলে এখন আর বিক্রির জন্য লবণ নেই। অথচ ওই সময়ই একটি লবণ ভর্তি ট্রাক দিয়ে লবণ বিক্রি করছেন তিনি। এ প্রতিবেদক আজ সন্ধ্যার প্রায় ২৫ টি পাইকারী ও খুচরা দোকানে লবণ কিনতে গেলে কোথাও লবণ পাওয়া যায়নি। এছাড়াও অনেক দোকান বন্ধ দেখা গেছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, লবণের মূল্য বৃদ্ধির গুজবের কারণে ভাণ্ডারিয়া বাজারে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই লবণ ক্রয়ের হিড়িক পড়ে যায়। খবর পেয়ে আমরা দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বাজারে ছুটে আসি। প্রত্যেক ডিলারকে বলে দিয়েছি পূর্বে তারা ব্যবসায়ীদের কাছে যে পরিমান লবণ বিক্রি করতো এখন সেই পরিমাণ বিক্রি করতে হবে। এ ছাড়া খুচরা বিক্রেতাদেরকে ১ কেজি থেকে ২ কেজির উপরে লবণ বিক্রি করতে নিষেধ করেছি।

 


আরো সংবাদ