১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কাঁচা চামড়া ক্রয় শুরু করেছেন ট্যানারি মালিকরা

-

ট্যানারি মালিকরা কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া ক্রয় শুরু করেছেন। তারা গতকাল শনিবার লবণযুক্ত কাঁচা চামড়া ক্রয় করেন। সরকার নির্ধারিত মূল্যে আগামী দুই মাস চামড়া সংগ্রহ চলবে।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ জানান, ট্যানারি মালিকরা লবণযুক্ত কাঁচা চামড়া কেনা শুরু করেছেন। গতকাল ময়মনসিংহের শম্বুগঞ্জ হাট থেকে ট্যানারি মালিকরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে কাঁচা চামড়া ক্রয় করেন। এভাবে আগামী দুই মাস চামড়া সংগ্রহ চলবে।
যেসব চামড়া ভালোভাবে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে, সেসব চামড়া ভালো দামে কেনা হবে বলে তিনি জানান। সাখাওয়াত বলেন, সরকারের অনুরোধে এবার আমরা আগেভাগেই চামড়া সংগ্রহ শুরু করেছি। ২০ আগস্ট থেকে চামড়া কেনার পরিকল্পনা থাকলেও সরকারের অনুরোধে গতকাল থেকে ট্যানারি মালিকরা চামড়া সংগ্রহ করছেন।
এ দিকে আজ রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ট্যানারি মালিক, আড়তদার ও চামড়া ব্যবসার সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক করবে। সেখানে চামড়ার বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
প্রসঙ্গত, এবার পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার ও ব্যবসায়ীরা মিলে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরু ও মহিষের চামড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। আর ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম ১৩ থেকে ১৫ টাকা।
কিন্তু এবার ঈদের দিন থেকেই নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কেনা হচ্ছে না বলে অভিযোগ আসতে থাকে। উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর পাশাপাশি ট্যানারি মালিকদের ১৭ আগস্ট থেকে কাঁচা চামড়া সংগ্রহের অনুরোধ করেন।
এ দিকে শিল্প সচিব মো: আব্দুল হালিম বলেছেন, চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করার ফলে কিছু কিছু স্থানে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা কাঁচা চামড়া নষ্ট করে ফেলেছেন।
তিনি বলেন, তবে এটি সমগ্র দেশের চিত্র নয়। অন্যান্য স্থানের চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
মো: আব্দুল হালিম গতকাল সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে চামড়া শিল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন অংশীজনদের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সাভার ট্যানারি শিল্পনগরীর সিইটিপি সম্পূর্ণ চালু রয়েছে। কোরবানির সময় ট্যানারিগুলো সারা বছরের সরবরাহের অর্ধেক চামড়া সংগ্রহ করে। তাই আগামী দুই-তিন মাস এই শিল্পনগরী ট্যানারিগুলো পূর্ণগতিতে চলবে। পিক সিজনে উৎপাদিত চামড়ার আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার স্বার্থে সব ট্যানারিকে একসাথে কাজ না করে নিজেদের মধ্যে সময় নির্ধারণ করে কাজ করার আহ্বানও জানান শিল্প সচিব।
সভায় বিসিকের চেয়ারম্যান মোশ্তাক হাসান, প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী জিতেন্দ্রনাথ পাল, বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: আব্দুল জলিল, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো: সাখাওয়াত উল্লাহ, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ দিলজাহান ভূঁইয়া ও উপদেষ্টা এম এ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।
মো: আব্দুল হালিম বলেন, লেদার ওয়াার্কং গ্রুপের মানদণ্ডে মোট ১৩৬২টি পয়েন্ট রয়েছে। এর মধ্যে ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ও ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্টের জন্য ২০০ পয়েন্ট।
লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের সার্টিফিকেট অর্জনে অবশিষ্ট পয়েন্টগুলোর প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান শিল্প সচিব।

 


আরো সংবাদ