২০ নভেম্বর ২০১৯

স্টেকহোল্ডারদের সাথে বৈঠকের খবরে সূচক বাড়ল পুঁজিবাজারে

-

পুঁজিবাজার পরিস্থিতি উন্নয়নে অর্থমন্ত্রীর সাথে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের মতবিনিময় সভার খবরে পতন থেমেছে পুঁজিবাজারের। বেড়েছে দেশের দুই পুঁজিবাজার সূচক। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে দীর্ঘ দিন টানা পতনের পর গত রোববার ঢাকা শেয়ারবাজারের সূচকের নামমাত্র উন্নতি ঘটলেও পতনের শিকার ছিল চট্টগ্রাম শেয়ারবাজার। তারল্য সঙ্কট ও আস্থাহীনতার জেরে ঘটতে থাকা অবিরাম পতন সামাল দিতেই এ সভা।
এ দিকে গতকাল সকাল থেকেই দুই পুঁজিবাজার সূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী। দিনের শেষভাগে সৃষ্ট বিক্রয়চাপ সূচকের উন্নতির পথে কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়ালেও দিনশেষে দুই পুঁজিবাজারই সূচকের কম-বেশি উন্নতি ধরে রাখে। উভয় বাজারেই লেনদেন হওয়া কোম্পানির বেশির ভাগ মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় উঠে আসার পাশাপার্শি বেড়েছে বাজারগুলোর লেনদেনও।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ১৭ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ৪ হাজার ৯৪২ দশমিক ২৩ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি গতকাল দিনশেষে ৪ হাজার ৯৫৯ দশমিক ৭৩ পয়েন্টে স্থির হয়। একই সময় ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের উন্নতি হয় যথাক্রমে ১৬ দশমিক ৮১ ও ১ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট। অন্য দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি হয় যথাক্রমে ৮৯ দশমিক ০১ ও ৫৪ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট। এখানে সিএসই-৫০ ও সিএসই শরিয়াহ সূচক যথাক্রমে ৭ দশমিক ৫৬ ও ২ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।
সূচকের পাশাপাশি উন্নতি হয় দুই পুঁজিবাজারের লেনদেনে। ডিএসই গতকাল ৩৮৮ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে, যা আগের দিন অপেক্ষা ৭১ কোটি টাকা বেশি। রোববার বাজারটির লেনদেন ছিল ৩১৭ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে ২১ কোটি থেকে ৩৩ কোটি টাকায় পৌঁছে লেনদেন। আর্থিক তিনটি খাতে গতকালও দরপতন অব্যাহত থাকে। তবে অন্য খাতগুলোর বেশির ভাগই গতকাল হারানো দর ফিরে পেতে দেখা যায়। লেনদেন ও সূচকের উন্নতির পেছনে এটিই মূলত ভূমিকা রাখে। টানা পতনের পর বাজারের এ ঘুরে দাঁড়ানোকে তাই ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বাজারের ধারাবাহিক পতন যেমন আস্থাহীনতার জন্ম দেয়, তেমনি ধারাবাহিক উন্নতি কমিয়ে আনে আস্থাহীনতা। বৃদ্ধি পায় বিনিয়োগ।
গতকাল সূচকের উন্নতি দিয়েই দিন শুরু করে দুই পুঁজিবাজার। ঢাকা শেয়ারবাজারে ৪ হাজার ৯৪২ দশমিক ২৩ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা ডিএসইএক্স সূচকটি বেলা সাড়ে ১১টায় পৌঁছে যায় ৪ হাজার ৯৭০ পয়েন্টে। এভাবে প্রথম ঘণ্টায়ই ২৮ পয়েন্ট উন্নতি হয় সূচকটির। পরবর্তীতে বিক্রয়চাপ সক্রিয় হলে নি¤œমুখী হতে থাকে বাজার সূচক। দিনশেষে ১৭ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট উন্নতিতে ৪ হাজার ৯৫৯ দশমিক ৭৩ পয়েন্টে স্থির হয় সূচকটি।
দুই পুঁজিবাজারের বেশির ভাগ খাতে মূল্যবৃদ্ধি হলেও গত কয়েক দিনের মতো স্বল্প মূলধনের কোম্পানিগুলো গতকালও দুই পুঁজিবাজারের মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নেয়। তবে অন্যান্য দিনের মতো মৌলভিত্তির দিক থেকে পিছিয়ে থাকা কোম্পানিগুলোর দরের খুব বেশি উল্লম্ফন দেখা যায়নি। অন্য দিকে মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় জায়গা করে নেয় কয়েকটি বহুজাতিক কোম্পানিও। গত কয়েক দিন ব্যাপকভাবে দর হারানো এ কোম্পানিগুলোও ফিরে পায় হারানো দর। দিনের মূল্যবৃদ্ধির দিক থেকে এগিয়ে ছিল সিরামিকস, সিমেন্ট, ওষুধ ও রসায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ৩৫৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৬১টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ১৩৬টি। অপরিবর্তিত ছিল ৫৬টির দর। অন্য দিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ২৪৭টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ১২৫টির দাম বাড়ে, ৮৬টির কমে এবং ৩৬টি সিকিউরিটিজের দাম অপরিবর্তিত থাকে।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে ছিল মুন্নু স্টাফলারস। ৩৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকায় কোম্পানিটির এক লাখ ৮৯ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ২১ কোটি ১৮ লাখ টাকায় ১২ লাখ ৮৬ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে রাষ্টায়ত্ত প্রকৌশল খাতের প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল টিউব উঠে আসে দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় আরো ছিল যথাক্রমে স্টাইলক্রাফট, মুন্নু সিরামিকস, বিকন ফার্মা, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস, জেএমআই সিরিঞ্জ, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, লিগেসি ফুটওয়্যার ও ভিএফএস থ্রেড লিমিটেড।

 


আরো সংবাদ