২১ নভেম্বর ২০১৯

সময়ের সর্বনিম্নে ডিএসই সূচক বিনিয়োকারীরা আবারো বিপর্যয়ের আশঙ্কায়

-

২১, ২২, ৩২ ও ৫২ সপ্তাহের চারটি কর্মদিবসের প্রতিটিতে এভাবেই সূচক হারিয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। প্রতিদিনই বেড়েছে পতনের মাত্রা। কোনো কোনো দিন শুরুতে ভালো থাকলেও পরবর্তীতে বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে বাজার। আবার কোনো কোনো দিন লেনদেনের শুরুতেই ভর করে বিক্রয়চাপ। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল তেমন একটি দিন। দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানা পতনের মধ্যে ছিল দেশের দুই পুঁজিবাজার। ফলাফল দিনশেষে বড় অবনতি বাজার সূচকের। আর এতে সাম্প্রতিক সময়ের সর্বনি¤œ অবস্থানে নেমে আসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক।
এ দিকে সূচকের ধারাবাহিক এ অবনতিতে নতুন করে বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। কারণ গত আড়াই মাসেরও কম সময়ে ঢাকা পুঁজিবাজার হারিয়েছে সাড়ে ৬০০ পয়েন্টের বেশি। গত ১১ জুন ডিএসইর প্রধান সূচকটি অবস্থান করছিল ৫ হাজার ৪৭৫ পয়েন্টে। গতকাল একই সূচক নেমে আসে ৪ হাজার ৮১০ পয়েন্টে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ হারায় প্রায় ৯০০ পয়েন্ট। এ সময় বাজারকে স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হলেও কোনো ফল আসেনি। সর্বশেষ অর্থ মন্ত্রণালয় স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্ট করেও ব্যর্থ হয়েছে। পরবর্তীতে নীতি সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু তাতে সাময়িক উন্নতি ঘটলেও তা টিকেছিল মাত্র দুই দিন। এরপর আবার টানা পতন ঘটছে পুঁজিবাজার সূচকের।
বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়া যেভাবে বাজারের পতন ঘটে চলেছে তাতে একসময় বিনিয়োগকারীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাবে। তৈরি হবে আতঙ্ক, যা নতুন করে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বিভিন্ন ব্রোকার হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের ট্রেডিং ফ্লোরে গিয়ে বিনিয়োগকারীদের সাথে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বললে তারা নয়া দিগন্তের কাছে এ আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। তাদের মতে, গত দু-তিন মাসে পুঁজিবাজারে যে পতন ঘটেছে তাতে বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশের মূলধনের ৫০ শতাংশই লোকসানে। প্রতিদিন যে হারে পতন ঘটছে তাতে কিছু দিনের মধ্যে মূলধনের কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না। এ অবস্থায় বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়া বিচিত্র নয়। তা ছাড়া এবার বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও তা কোনো ফল বয়ে আনেনি। এটিই বেশি হতাশ করেছে বিনিয়োগকারীদের।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৫২ দশমিক ০৩ পয়েন্ট হারায়। ৪ হাজার ৮৬২ দশমিক ২৫ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি গতকাল দিনশেষে নেমে আসে ৪ হাজার ৮১০ দশমিক ২১ পয়েন্টে। বিগত ২ বছর ১১ মাসের মধ্যে এটি ডিএসই সূচকের সর্বনি¤œ অবস্থান। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বরের পর আর এত নিচে নামেনি ডিএসই সূচক। একই সময় ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ২০ দশমিক ৩৬ ও ১২ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ১৪৮ দশমিক ৬৯ ও ৮০ দশমিক ১৪ পয়েন্ট। এখানে সিএসই-৫০ ও সিএসই শরিয়াহ হারায় যথাক্রমে ১০ দশমিক ৭৪ ও ১১ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট।
গতকাল লেনদেনের শুরুতেই পুঁজিবাজারগুলোতে বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হয়। ঢাকায় ৪ হাজার ৮৬২ দশমিক ২৫ পয়েন্ট থেকে যাত্রা করা সূচকটি দুপুর ১২টায় নেমে আসে ৪ হাজার ৮২৪ পয়েন্টে। সূচকের এ অবস্থান থেকে সাময়িক বিক্রয়চাপ হ্রাস পেলে ঊর্ধ্বমুখী হয় সূচকটি। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে শুরু হওয়া দ্বিতীয়বারের মতো বিক্রয়চাপ আবারো নি¤œমুখী করে তোলে বাজার সূচককে, যা দিনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। দিনশেষে ৪ হাজার ৮১০ দশমিক ২১ পয়েন্ট স্থির হয় সূচকটি।
ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমার মতো প্রধান খাতগুলো ছাড়াও অন্যান্য খাতে ব্যাপক দরপতন ঘটে গতকাল। সেবা, তথ্য প্রযুক্তি, মিউচুয়াল ফান্ড চামড়া, বিনোদন ও টেলিকমিউনিকেশন খাতে দরপতনের শিকার ছিল শতভাগ কোম্পানি, যা দিনের সূচকের বড় অবনতিতে ভূমিকা রাখে। আর এ দরপতনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলো। এ ধরনের কোম্পানিগুলোর বেশির ভাগই এ সময় লেনদেন হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ের সর্বনি¤œ দরে। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ৩৫৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৫৯টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ২৭১টি, যা লেনদেন হওয়া কোম্পানির প্রায় ৭৭ শতাংশ। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন পরিস্থিতির উন্নতি না হলে স্থানীয় বিনিয়োগকারীই শুধু নন; বিদেশী ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীরাও একপর্যায়ে তাদের বিনিয়োগ তুলে নিতে পারেন।


আরো সংবাদ