২১ নভেম্বর ২০১৯

৪ দিনে ডিএসইর ৯ হাজার কোটি টাকা মূলধন হাওয়া

-

মাত্র চারটি কর্মদিবস। এরই মধ্যে নেই হয়ে গেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধনের ৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যা বাজারটির মোট মূলধনের ২ দশমিক ৫২ শতাংশ। রোববার তিন লাখ ৭২ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা মূলধন নিয়ে সপ্তাহ শুরু করা পুঁজিবাজারটির মূলধন সপ্তাহান্তে দাঁড়ায় তিন লাখ ৬৩ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকায়। দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির কারণে গত সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজারে কর্মদিবস ছিল চারটি। আর এ চার দিনেই এত বড় আকারের মূলধন হারাল দেশের প্রধান পুঁজিবাজারটি। সব কর্মদিবসে সূচকের পতনেই এ মূলধন হারায় ডিএসই।
এর আগে আরো দু’টি সপ্তাহ পতনের মধ্য দিয়েই পার করে পুঁজিবাজার। গত সপ্তাহ নিয়ে তা পৌঁছে টানা তৃতীয় সপ্তাহে। বাজারসংশ্লিষ্টরা পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক এ পতনের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। তবে বাজারের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি অংশ মনে করছে, পুঁজিবাজারের অভ্যন্তরে সুশাসনের অভাবই এর কারণ। বিনিয়োগকারীরা স্থানীয় হোন বা বিদেশীÑ এ মুহূর্তে চরম আস্থাহীনতায় ভুগছেন। আর পরিস্থিতি সামাল দিতে নিকট অতীতে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে পারছে না। ফলে এ মুহূর্তে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মূল্যস্তর সাম্প্রতিক সময়ের সর্বনি¤েœ হলেও তারা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নন। ফলে প্রতিদিনই বিক্রয় চাপে বিপর্যস্ত হচ্ছে বাজার।
গত সপ্তাহে ডিএসইর সব সূচকের পতন ঘটেছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এ সময় ১২৭ দশমিক ৬১ পয়েন্ট তথা দুই দশমিক ৫৮ শতাশ হারায়। রোববার চার হাজার ৯৩৭ দশমিক ৮২ পয়েন্ট থেকে সপ্তাহ শুরু করা সূচকটি বৃহস্পতিবার দিনশেষে নেমে আসে চার হাজার ৮১০ পয়েন্টে। একই সময় ডিএসই-৩০ সূচক ৫০ দশমিক ৭১ এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক হারায় ২৫ দশমিক ০১ পয়েন্ট। শতাংশের হিসাবে এ দুই সূচকের অবনতি ঘটে দুই দশমিক ৮৯ ও দুই দশমিক ২১ শতাংশ। আগের দুই সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহের পতনের হার ছিল বেশি।
সূচকের পাশাপাশি অবনতি ঘটে গত সপ্তাহের লেনদেনেও। ডিএসই গত সপ্তাহে এক হাজার ২৭৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে, যা আগের দিন অপেক্ষা ৩৫ দশমিক ৮২ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে বাজারটির মোট লেনদেন ছিল এক হাজার ৯৫৮ কোটি ৮৭ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। পূজার ছুটির কারণে এ সময় বাজারটির কর্মদিবস ছিল চারটি।
মোট লেনদেনের পাশাপাশি হ্রাস পেয়েছে ডিএসইর গড় লেনদেনও। গত সপ্তাহে ডিএসইর সাপ্তাহিক গড় লেনদেন ছিল ৩১৯ কোটি ২১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা ১৮ দশমিক ৫২ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে গড় ডিএসইর লেনদেন ছিল ৩৯১ কোটি ৭৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। লেনদেনের অবনতির কারণে গত সপ্তাহে ব্যাপকভাবে হ্রাস পায় লেনদেনকৃত শেয়ারের সংখ্যা। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮ কোটি ৪৯ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়, যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা ৪৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে শেয়ার হাতবদলের পরিমাণ ছিল ৬৯ কোটি ২০ লাখ ৫৪ হাজার। কমেছে হাওলা সংখ্যাও। আগের সপ্তাহের ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৩টির স্থলে গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট হাওলা ছিল ৪ লাখ ১০ হাজার ৬৫১টি, যা ২৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ কম।
অন্য দিকে সূচকের অবনতির কারণে গত সপ্তাহ শেষে ডিএসইর মূল্য-আয় অনুপাত (পিই) নেমে আসে সাম্প্রতিক সময়ের সর্বনিম্নে। গত সপ্তাহান্তে ডিএসইর পিই দাঁড়ায় ১২ দশমিক ০১, যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা তিন দশমিক ০৮ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে বাজারটির পিই ছিল ১৩ দশমিক ৩১। ২০১৫ সালের পর ডিএসইর পিই আর এত নিচে নামেনি। এ সময় তালিকাভুক্ত ৩৫৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৩৬টির। বিপরীতে দর হারিয়েছে ৩০৫টি। দর অপরিবর্তিত ছিল ১৪টির। আর লেনদেন হয়নি ২টি কোম্পানির।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেনের শীর্ষস্থানে ছিল ন্যাশনাল টিউবস। ৯৪ কোটি ৭০ লাখ ৩৬ হাজার টাকায় এ সময় কোম্পানিটির ৪৯ লাখ ৪০ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়, যা ছিল ডিএসইর মোট লেনদেনের সাত দশমিক ৪২ শতাংশ। ৩৮ কোটি ৬২ লাখ ৮৯ হাজার টাকায় ৫ লাখ ৪২ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস ছিল দ্বিতীয় স্থানে। সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল ওয়াটা কেমিক্যালস, সামিট পাওয়ার, স্কয়ার ফার্মা, মুন্নু স্টাফলারস, এটলাস বাংলাদেশ, বিকন ফার্মা, বিএসসি ও স্টাইলক্রাফট।


আরো সংবাদ

সকল