২১ নভেম্বর ২০১৯
বেশি দর হারাচ্ছে মৌলভিত্তির কোম্পানি

৪৮০০ পয়েন্টের নিচে ডিএসই সূচক

-

এবার ৪ হাজার ৮০০ পয়েন্টের নিচে নামল দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক। গতকাল ৪ হাজার ৮১০ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি দিনশেষে নেমে আসে ৪ হাজার ৭৬১ পয়েন্টে। ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বরের পর ডিএসইর প্রধান সূচক আর এত নিচে নামেনি। সে হিসাবে গতকাল ডিএসই সূচক নেমে আসে তিন বছরের সর্বনিম্নে। এ সময় উভয় পুঁজিবাজারেই লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির দরপতন ঘটে।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৪৮ দশমিক ২৪ পয়েন্ট হ্রাস পায়। দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ হারায় ১৫ দশমিক ২৭ ও ১১ দশমিক ২৪ পয়েন্ট। একইভাবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে ১৪৫ দশমিক ১৯ ও ৮৬ দশমিক ১৩ পয়েন্ট। এখানে সিএসই-৫০ ও সিএসই শরিয়াহ হারায় ৫ দশমিক ০৭ ও ৯ দশমিক ১৮ পয়েন্ট। গতকাল নিয়ে টানা পঞ্চম দিন দরপতনের শিকার হলো পুঁজিবাজারগুলো।
সূচকের বড় অবনতির এ দিন লেনদেনের দুই পুঁজিবাজারের চিত্র ছিল দুইরকম। ডিএসই গতকাল ২৯৮ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ২৯ কোটি টাকা কম। গত বৃহস্পতিবার বাজারটির লেনদেন ছিল ৩২৭ কোটি টাকা। তবে লেনদেন বেড়েছে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে। এখানে ১২ কোটি টাকা থেকে ১৪ কোটিতে পৌঁছে লেনদেন।
এ দিকে পুঁজিবাজারের ধারাবাহিক এ দরপতনে বেশি দর হারাচ্ছে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলো। এর মধ্যে যেমন বয়েছে বহুজাতিক কোম্পানি তেমনি দেশীয় ভালো কোম্পানিগুলো। এ ধরনের বেশির ভাগ কোম্পানি গতকাল সাম্প্রতিক সময়ের সর্বনিম্ন দরে লেনদেন হতে দেখা যায়। এমনকি কয়েকটি কোম্পানি ভালো লভ্যাংশ দিলেও অব্যাহত রয়েছে দরপতন।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন বাজারের সাম্প্রতিক আচরণ খুবই উদ্বেগের। কারণ বাজারে তালিকাভুক্ত হাতেগোনা ভালো কোম্পানিগুলোই এবার পতনের শিকার হচ্ছে অপেক্ষাকৃত বেশি। বিনিয়োগকারীদের আস্থা এমন তলানিতে পৌঁছেছে যেখানে ভালো কোম্পানিগুলোরও আস্থা রাখতে পারছেন না তারা। এভাবে চলতে থাকলে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগ তুলে নিতে পারেন। তখন বিক্রিয়চাপ আরো বাড়তে পারে। তখন বাজার পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটতে পারে।
গতকাল লেনদেন শুরুর আধঘণ্টার মাথায় বিক্রয়চাপের সৃষ্টি হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রথম আধঘণ্টায় সূচকের উন্নতি ঘটে ২৯ পয়েন্ট। ৪ হাজার ৮১০ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করে বেলা ১১টায় সূচকটি পৌঁছে যায় ৪ হাজার ৮২৯ পয়েন্টে। এখান থেকেই শুরু হয় বিক্রয়চাপ। দিনের বাকি সময় এ চাপ অব্যাহত থাকে। দিনশেষে ৪৮ পয়েন্ট হারিয়ে ৪ হাজার ৭৬১ পয়েন্টে স্থির হয় সূচকটি।
দুই পুঁজিবাজারেই বেশির ভাগ খাতে ব্যাপক দরপতন ঘটে গতকাল। দর হারায় লেনদেন হওয়া কোম্পানির বেশির ভাগ। সবচেয়ে বেশি দরপতন ঘটে টেলিকমিউনিকেশন, সেবা, কাগজ, প্রকৌশল, মিউচুয়াল ফান্ড ও টেক্সটাইল খাত। এসব খাতে দরপতন ঘটে ৯০ শতাংশ কোম্পানির। তা ছাড়া ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৮০ শতাংশের বেশি দর হারায়। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ৩৪৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৪১টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ২৬৭টি। অপরিবর্তিত ছিল ৩৭টির দর। অপর দিকে চট্টগ্রাম স্টকে লেনদেন হওয়া ২৩৬টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৩০টির দাম বাড়লেও কমে ১৮১টির। অপরিবর্তিত ছিল ২৫টির দর।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে ছিল ন্যাশনাল টিউব। ২৫ কোটি ২৩ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ১৩ লাখ শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ১৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকায় ২ লাখ ৬ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে ওয়াটা কেমিক্যালস ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস, মুন্নু জুট স্টাফলারস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, সিলকো ফার্মা, স্কয়ার ফার্মা, বিকন ফার্মা, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস ও সামিট পাওয়ার।

 


আরো সংবাদ