১৭ নভেম্বর ২০১৯

বড় পতন ঠেকাল ব্যাংকিং খাত ভালো কোম্পানিতেও আস্থা নেই বিনিয়োগকারীদের

-

এক দিন উন্নতির পর ফের পতনের ধারায়ই ফিরে গেল পুঁজিবাজার। কোনোভাবেই বিক্রয়চাপের ধাক্কা সামলে উঠতে পারছে না বাজারগুলো। এ ছাড়াও বর্তমানে পুঁজিাবাজারে আস্থাহীনতা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, যেখানে মৌল ভিত্তির ভালো কোম্পানিতেও আর আস্থা রাখতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। গতকাল দুই পুঁজিবাজারে প্রচলিত অর্থে মৌল ভিত্তিসম্পন্ন হিসেবে পরিচিত কোম্পানিগুলোর ব্যাপক দরপতন ঘটতে দেখা যায়। লেনদেনের বিভিন্ন পর্যায়ে মনে হচ্ছিল বিনিয়োগকারীরা যেন লোকসানের ভার সহ্য করতে না পেরে মুক্তির পথ খুঁজছেন।
ব্যাংকিং খাতের প্রায় শতভাগ কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধির পরও দুই পুঁজিবাজার সূচকের অবনতি নতুন একটি বার্তা দিলো বিনিয়োগকারীদের। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে এমনটিই মন্তব্য করলেন বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারী। নয়া দিগন্তকে তারা বলেন, একসময় বহুজাতিকসহ দেশীয় কিছু কিছু কোম্পানির ওপর ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রচণ্ড আস্থা ছিল। এগুলোতেই সীমাবদ্ধ ছিল বিদেশী বিনিয়োগও। শত দরপতনের মধ্যেও এ কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীদের হত্যাশ করেনি; কিন্তু এবারের দরপতন অতীতের সব রেকর্ডকে ভেঙে ফেলেছে। গত কয়েক বছরের সর্বনি¤œ দরে এখন এসব কোম্পানির শেয়ার; তা সত্ত্বেও থামছে না বিক্রয়চাপ।
তারা মনে করেন, গ্রামীণফোনসহ বহুজাতিক সবগুলো কোম্পানির পাশাপাশি স্কয়ার ফার্মা, এসিআই লি:, এসিআই ফরমুলেশন, এমবি ফার্মা, মোবিল যমুনা, বিবিএস ক্যাবলস, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ছাড়াও অ্যাপেক্স গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানি বরাবরই বিনিয়োগকারীদের ভালো লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। এ তালিকায় আরো রয়েছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহকারী কোম্পানি। দরপতনের শুরু হওয়ার পর বেশ কিছু দিন এ কোম্পানিগুলো দর ধরে রাখতে পারলেও এখন আর পারছে না। এখন গত কয়েক বছরের সর্বনি¤œ অবস্থানে এসব কোম্পানির শেয়ারদর। তাই বিনিয়োগকারীরা আর আস্থা রাখতে পারছেন না এসব কোম্পানিতেও। সোমবার এসব কোম্পানিতে ব্যাপক বিক্রয়চাপ ছিল, যার পরিণতি কোম্পানিগুলোতে ব্যাপক দরপতন। আর এভাবে চলতে থাকলে বাজারে যে স্বল্পসংখ্যক দেশী-বিদেশী দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী আছেন তারাও বিনিয়োগ গুটিয়ে নেবেন। এমনটিই মনে করেন তারা।
গতকালের বাজার আচরণ নিয়ে তারা বলেন, ব্যাংকিং খাতের মূল্যবৃদ্ধি না ঘটলে গতকাল সূচক পড়ত ১০০ পয়েন্টের বেশি। এ প্রসঙ্গে তাদের যুক্তিÑ ২০টির বেশি কোম্পানির দিনের সর্বনি¤œ দরে লেনদেন। এ ছাড়া কমপক্ষে ৫০টি কোম্পানির দরপতন ঘটেছে ৫ শতাংশের বেশি। ব্যাংকিং খাতের শতভাগ কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধিই গতকাল সূচকের বড় পতন ঠেকায়। ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ৩৫৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৬৩টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ২৫০টি। অপরিবর্তিত ছিল ৪১টির দর। অপর দিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ২৫৫টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দাম বাড়ে ৬৩টির। কমে ১৬৩টির। অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির দর।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ২০ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট হ্রাস পায়। ৪ হাজার ৭৮২ দশমিক ০৯ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি সোমবার দিনশেষে নেমে আসে ৪ হাজার ৭৬১ দশমিক ৪২ পয়েন্টে। একই সময় ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ১০ দশমিক ৪৫ ও ৯ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৫৯ দশমিক ৯৪ ও ৩৫ দশমিক ১১ পয়েন্ট। এখানে সিএসই শরিয়াহ হারায় ৮ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট।
সূচকের অবনতি ঘটলেও লেনদেন বেড়েছে ঢাকা শেয়ারবাজারে। ডিএসই গতকাল ৩৫০ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে, যা আগের দিন অপেক্ষা ৩৮ কোটি টাকা বেশি। রোববার বাজারটির লেনদেন ছিল ৩১২ কোটি টাকা। তবে লেনদেন কমেছে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে। এখানে ২০ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয়, যা আগের দিন ছিল ৫১ কোটি টাকা।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে ছিল ইউনাইটেড পাওয়ার। ১২ কোটি ৮১ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৪ লাখ ৬০ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ১১ কোটি ৯৭ লাখ টাকায় ৬ লাখ ৫৫ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে ন্যাশনাল টিউবস ছিল দ্বিতীয় স্থানে। লেনদেনে শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে প্রিমিয়ার ব্যাংক, ওয়াটা কেমিক্যালস, স্কয়ার ফার্মা, মুন্নু স্টাফলারস, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স, সামিট পাওয়ার ও ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স।


আরো সংবাদ