০৮ ডিসেম্বর ২০১৯

জোয়ারভাটায় দরপতন কমেছে লেনদেনও

-

সূচকের চলার পথে জোয়ারভাটায় দরপতন দিয়ে লেনদেন শেষ হলো দেশের পুঁজিবাজার। বেশির ভাগ বা ৫৯ শতাংশ কোম্পানি দরপতনের কবলে। বাজারে লেনদেনের পরিমাণও কিছুটা কমেছে। লেনদেন ঢাকায় ৭১ কোটি টাকা। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক বাড়লেও লেনদেন কমেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদিও বেশির ভাগ কোম্পানির দরপতন হয়েছে কিন্তু সার্বিকভাবে পতনের ধারা কাটিয়ে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরেছে দেশের শেয়ারবাজার। গত সপ্তাহের শেষ তিন কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল সোমবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সব ক’টি মূল্য সূচক বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে লেনদেনের সূচনাতে সূচক বৃদ্ধি পায়। লেনদেনের শুরু হয় সাড়ে ১০টায়। শুরুতেই সূচক বেড়ে যায়। প্রথম ৫ মিনিটেই ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ১২ পয়েন্ট। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে সূচক ১১ পয়েন্ট বাড়ে। ১০টা ৪৫ মিনিটে সূচক গত কার্যদিবসের চেয়ে ১৭ পয়েন্ট বাড়ে। ১০টা ৫০ মিনিটে সূচক ১৬ পয়েন্ট বাড়ে। ১০টা ৫৫ মিনিটে সূচক ২৪ পয়েন্ট বাড়ে। এরপর সূচক বৃদ্ধির প্রবণতা কমতে থাকে। বেলা ১১টায় সূচক ১৭ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা সাড়ে ১১টায় সূচক ৮ পয়েন্ট বাড়ে, দুপুর ১২টায় সূচক ৪ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ১টায় সূচক বাড়ে মাত্র ৩ পয়েন্ট, বেলা ২টায় সূচক ৭ পয়েন্ট বাড়ে এবং বেলা আড়াইটায় লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ৯ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৭৮১ পয়েন্টে অবস্থান করে।
গতকাল ডিএসই প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৭৮১ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯০ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৬৪ পয়েন্টে। ডিএসইতে ২৯৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকার স্টক হাতবদল হয়েছে; যা আগের কার্যদিবস থেকে ৭০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা কম। গত বৃহস্পতিবার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৬৭ কোটি ৯ লাখ টাকা। ডিএসইতে ৩৩১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৫টির, কমেছে ১৪৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৭টির। দিন শেষে ঢাকা স্টকের বাজার মূলধন হলো ৩ লাখ ৬০ হাজার ১৭২ কোটি ২৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩১৩ টাকা।
লেনদেনের ভিত্তিতে (টাকায়) প্রধান ১০টি কো¤পানি হলো ন্যাশনাল টিউবস, সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স, জেনেক্স ইনফোসিল, উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড, ফরচুন সুজ, স্কয়ার ফার্মা, খুলনা পাওয়ার, বঙ্গজ লিমিটেড, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ ও রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
দর বৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কো¤পানি হলো ন্যাশনাল ফীডস, সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স, ডাচ্ বাংলা ব্যাংক, ফাইন ফুডস, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, তসরীফা ইন্ডাস্ট্রিজ, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স ও সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ।
অন্য দিকে দর কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো জেনারেশন নেক্সট, প্রগ্রেসিভ লাইফ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, সাভার রিফ্রেক্টরিজ, আইসিবি ইসলামি ব্যাংক, বীচ হ্যাচারি, ন্যাশনাল টিউবস, এটলাস বাংলা, সিএনএ টেক্স ও এভেন্স টেক্সটাইল।
সিএসই
সিএসইতে লেনদেনে প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ২৩ পয়েন্ট বেড়ে ৮ হাজার ৮২১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সিএসই-৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে ১২ হাজার ৭৮৬ পয়েন্টে এবং সিএএসপিআই সূচক ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৫২০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। দিন শেষে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার স্টকের।
আর দাম বৃদ্ধির ভিত্তিতে সিএসইর শীর্ষ কোম্পানিগুলো হলো ন্যাশনাল ফিড মিল, সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স, আইসিবি এএমসিএল দ্বিতীয় মিউচুয়াল ফান্ড, ইমাম বাটন, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, প্রাইম ফাইন্যান্স, ইউনাইটেড এয়ার, এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স এবং সেন্ট্রাল ফার্মা।


আরো সংবাদ