১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

নামমাত্র উন্নতি পুঁজিবাজার সূচকের, কমেছে লেনদেন

-

সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবসটিও সূচকের উন্নতি দিয়েই শেষ করেছে দেশের পুঁজিবাজার। তবে গতকাল বাজারগুলোতে সূচকের উন্নতি ছিল নামমাত্র। লেনদেন হওয়া কোম্পানির বেশির ভাগ দরপতনের শিকার হলেও ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি বাজারের সর্বোচ্চ মূলধনের কোম্পানি গ্রামীণফোনের মূল্যবৃদ্ধি বাজারগুলোর পতন ঠেকায়। এ ছাড়া রেকর্ড তারিখের কারণে ২০ কোম্পানির লেনদেন বন্ধ থাকায় হ্রাস পেয়েছে বাজারগুলোর লেনদেনও।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল দশমিক ৩৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। এ সময় দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ যথাক্রমে ৯ দশমিক ০৯ ও ১ দশমিক ০৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। এ নিয়ে গত তিন দিনে প্রধান পুঁজিবাজারটির প্রধান সূচক বাড়ল ১২ পয়েন্ট। দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৯ দশমিক ১৮ ও ৬ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট। এখানে সিএসই-৫০ ও সিএসই শরিয়াহ যথাক্রমে ২ দশমিক ৮৬ ও ১ দশমিক ৭২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।
সূচকের কমবেশি উন্নতি ঘটলেও লেনদেন হ্রাস পেয়েছে দুই পুঁজিবাজারেই। ঢাকায় গতকাল ৩৮০ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয় যা আগের দিন অপেক্ষা ২৯ কোটি টাকা কম। গত সোমবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৪০৯ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেন নেমে আসে ১৪ কোটিতে। গত সোমবার সিএসইর লেনদেন ছিল ২২ কোটি টাকা। তবে রেকর্ড তারিখের কারণে উভয় পুঁজিবাজারেই ২০টি কোম্পানির লেনদেন বন্ধ ছিল গতকাল। এটাকেও লেনদেন হ্রাস পাওয়ার একটি কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল সূচকের উন্নতি দিয়েই লেনদেন শুরু করে দুই পুঁজিবাজার। ঢাকায় ডিএসইএক্স সূচকটি ৪ হাজার ৭২২ দশমিক ০২ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করে বেলা সোয়া ১১ টায় পৌঁছে যায় ৪ হাজার ৭৩৮ পয়েন্টে। লেনদেনের এ পর্যায়ে বিক্রয়চাপ শুরু হয়। পরবর্তী দেড়ঘণ্টা এ চাপ অব্যাহত থাকলে বেলা পৌনে ১টায় ডিএসই সূচক নেমে আসে ৪ হাজার ৭২২ পয়েন্টে। লেনদেনের শেষদিকে এসে সূচকের ওঠানামা বেড়ে যায়। কিছুক্ষণের জন্য বিক্রয়চাপ হ্রাস পেলেও পরক্ষণেই তা আবার বেড়ে যাচ্ছিল। এভাবে বেশ কিছু সময় অস্থির আচরণের পর দিনশেষে ৪ হাজার ৭২২ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে স্থির হয় ডিএসই সূচক।
ব্যাংকিং খাতের মূল্যবৃদ্ধিই বলতে গেলে বাজারের পতন ঠেকায় গতকাল। এর সাথে গ্রামীণফোনের মূল্যবৃদ্ধিও ভূমিকা রাখে। গতকাল প্রায় ৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির। এ ছাড়া বীমা খাতও আগের দিনের মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রাখে। এর বাইরে দুই বাজারের বাকি খাতগুলোতে ব্যাপক দরপতন ঘটে। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ৩৩৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১২৪টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ১৭৪টি। অপরিবর্তিত ছিল ৩৬টির দর। অপর দিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ২৪০টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৮৩টির দাম বাড়ে, ১২৩টির কমে এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।
এ দিকে মূল্যবৃদ্ধির সুবাদে ডিএসইতে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে গ্রামীণফোন। ২৪ কোটি ১১ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৭ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ১৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকায় ৯ লাখ ৫৯ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে ন্যাশনাল টিউবস ছিল দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, স্টাইল ক্রাফট, মুন্নু স্টাফলারস, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস, নিটল ইন্স্যুরেন্স, ব্র্যাক ব্যাংক ও অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস।
দিনের মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল সি-পার্ল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির। ৯ দশমিক ৮৩২ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বিকন ফার্মা। উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি পাওয়া অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে এম হোসাইন স্পিনিং ৯.৩৭, অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস ৯.০৯, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস ৭.৪৯ ও এমবি ফার্মার ৭.৪৮ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। অপর দিকে দিনের সর্বোচ্চ দরপতনের শিকার ছিল প্যাসিফিক ডেনিমস লিমিটেড। রেকর্ড পরবর্তী মূল্যসমন্বয়ে ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ দর হারায় টেক্সটাইল খাতের এ কোম্পানি। এ ছাড়া সাইফ পাওয়ারটেক ১০.৫৯, ইন্ট্রাকো সিএনজি ৮.৩৮, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলস ৭.৭৭, দেশ গার্মেন্টস ৭.৬৫, আইসিবি ৭.৬১ ও তিতাস গ্যাস ৭.৩৬ শতাংশ দর হারায়।


আরো সংবাদ