১২ ডিসেম্বর ২০১৯

পুঁজিবাজারে সূচকের পতন বেড়েছে লেনদেন নতুন ইনডেক্স যোগ হবে ডিএসইতে

-

আবার পতন ঘটেছে পুঁজিবাজার সূচকের। এর আগে তিন দিন সূচকের কমবেশি উন্নতি ধরে রাখা গেলেও গতকাল তা আর সম্ভব হয়নি। আর এ তিন দিনে সূচকের উন্নতি যেখানে ১২ পয়েন্ট সেখানে গতকাল একদিনেই পতন ঘটেছে তার আড়াই গুণ। লেনদেনের শুরুতেই সৃষ্টি হওয়া বিক্রয়চাপ বলবৎ ছিল আড়াই ঘণ্টার বেশি। এ সময় দেশের উভয় পুঁজিবাজারেই লেনদেন হওয়া কোম্পানির বেশির ভাগ দরপতনের শিকার হলেও বৃদ্ধি পায় বাজারগুলোর লেনদেন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৩০ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট হ্রাস পায়। ৪ হাজার ৭২২ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি গতকাল দিনশেষে নেমে আসে ৪ হাজার ৬৯১ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে। একই সময়ে ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ হারায় যথাক্রমে ১৫ দশমিক ৯১ ও ১০ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট। এর আগের তিন দিনে ডিএসই সূচকের উন্নতি ছিল ১২ পয়েন্টের কম। দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৭১ দশমিক ৩৭ ও ৪৬ দশমিক ১৭ পয়েন্ট। এখানে সিএসই শরিয়াহ হারায় ১০ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট।
সূচকের অবনতি ঘটলেও গতকাল লেনদেন বেড়েছে দুই পুঁজিবাজারেই। ঢাকা স্টক গতকাল ৪০৬ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে, যা আগের দিন অপেক্ষা ২৬ কোটি টাকা বেশি। মঙ্গলবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৩৮০ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেন হয় ১৫ কোটি টাকা। আগের দিন বাজারটির লেনদেন ছিল ১৪ কোটি টাকা।
এ দিকে আগামী মাসের মধ্যেই দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে নতুন ইনডেক্স যোগ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। সূত্র মতে, চলতি বছরের মধ্যেই একটি নতুন ইনডেক্স যোগ করা হবে ডিএসইতে। নতুন ইনডেক্স যোগ হলে ডিএসইর মোট চারটি ইনডেক্স হবে। এজন্য একটি তিন সদস্যের টিম করেছে ডিএসই, যারা নতুন ইনডেক্স নিয়ে কাজ করবে। তারা এ বিষয়ে শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের সাথে সমন্বয় করার জন্য শিগগিরই চীন যাবেন।
ডিএসইর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, কৌশলগত অংশীদারের (স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার) সাথে কাজ করার অংশ হিসেবে এ বছর নতুন ইনডেক্স যোগ করতে যাচ্ছে পুঁজিবাজারটি। ইনডেক্সটি হবে মার্কেট মূলধনের ওপর ভিত্তি করে। তবে মার্কেট মূলধন কত তার ওপর নির্ভর করে ইনডেক্সটি হবে তা এখনো ঠিক করা হয়নি। শেনজেনে তিনটি ক্যাটাগরিতে ইনডেক্সটি আছে। ক্যাটাগরিগুলো হচ্ছে ক্ষুদ্র বাজার মূলধন, মাঝারি বাজার মূলধন, বড় বাজার মূলধন।
সূত্র আরো জানায়, এ বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই ইনডেক্সটি চালু করার কথা। আশা করা যায়, ডিএসইর বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) আগেই সেটা সম্ভব হবে। ইনডেক্সটি যোগ হলে ডিএসইতে লেনদেনের একটি নতুন মাত্রা বাড়বে এবং লেনদেনও বাড়বে বলে আশা করছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে তিনজনের একটি টিম করা হয়েছে। তারা শিগগিরই শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জে এ বিষয়ে সমন্বয় করার জন্য যাবেন।
গতকাল লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্রয়চাপে পড়ে দুই পুঁজিবাজার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪ হাজার ৭২২ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট থেকে যাত্রা করে প্রথম দিকে ৪ হাজার ৭৩১ পয়েন্টে পৌঁছলেও বেলা ১১টার আগেই আবার নি¤œমুখী হতে শুরু করে। বেলা সোয়া ১টা পর্যন্ত এ চাপ অব্যাহত থাকলে ডিএসই সূচক নেমে আসে ৪ হাজার ৬৮৭ পয়েন্টে। শেষ মুহূর্তে হারানো সূচকের সামান্যই ফিরে পায় বাজারটি।
গতকাল দুই পুঁজিবাজারেই বেশির ভাগ খাতে দরপতন ঘটে। এক দিনের ব্যবধানে ব্যাংকগুলো ফের দরপতনের মুখে পড়ে গতকাল। দরপতন ঘটে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতেও। এ ছাড়া সেবা ও কাগজ শিল্প খাতে দর হারায় শতভাগ কোম্পানি। তবে একই সময় মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রাখে বীমা খাত। ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ৩৪০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৩২টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ১৬১টি। অপরিবর্তিত ছিল ৪৭টির দর। অপর দিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ২৪১টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৯১টির দাম বাড়ে, ১১১টির কমে এবং ৩৯টি সিকিউরিটিজের দর অপরিবর্তিত থাকে।


আরো সংবাদ