০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

পুঁজিবাজারে বেড়েছে সূচক ও লেনদেন

কর্মকৌশল জানতে চেয়েছে সরকার
-

সূচকের উন্নতি দিয়েই সপ্তাহ শেষ করেছে দেশের পুঁজিবাজার। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের দুই পুঁজিবাজারেই সূচকের উন্নতি ঘটে। বড় কোনো বিক্রয়চাপ ছাড়াই দিনটি পার করে দুই বাজার। সকালে সূচকের বড় উন্নতি দিয়ে দিন শুরু করা বাজারগুলো মাঝখানে সামান্য বিক্রয়চাপের শিকার হলে বেড়ে যাওয়া সূচকের পুরোটা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। এ সময় উভয় বাজারেই লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনও।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ১৪ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ৪ হাজার ৬৯১ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা সূচকটি বৃহস্পতিবার দিনশেষে পৌঁছে যায় ৪ হাজার ৭০৬ দশমিক ৬৬ পয়েন্টে। একই সময় ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৩২ ও ৬ দশমিক ৩২ পয়েন্ট। দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৯ দশমিক ১২ ও ৫ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট। সিএসই শরিয়াহ বৃদ্ধি পায় দশমিক ৮১ পয়েন্ট।
সূচকের পাশাপাশি গতকাল দুই পুঁজিবাজারের লেনদেনও বেড়েছে। ঢাকা শেয়ারবাজার গতকাল ৪২১ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে, যা আগের দিন অপেক্ষা ১৫ কোটি টাকা বেশি। গত বুধবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৪০৬ কোটি টাকা। প্রকৃতপক্ষে গতকালের লেনদেন ডিএসইতে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত ৩০ সেপ্টেম্বরের পর আর এ পর্যায়ে পৌঁছেনি ডিএসইর লেনদেন। চট্টগ্রাম স্টকে ১৫ কোটিতে পৌঁছে লেনদেন। গত বুধবার বাজারটির লেনদেন ছিল ১৪ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার সকালে সূচকের উন্নতি দিয়েই দিন শুরু করে দুই পুঁজিবাজার। ঢাকায় মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় সূচকের উন্নতি ঘটে ৩০ পয়েন্টের বেশি। ৪ হাজার ৬৯১ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট থেকে যাত্রা করা ডিএসইর প্রধান সূচকটি সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে পৌঁছে যায় ৪ হাজার ৭২২ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে। লেনদেনের এ পর্যায়ে মৃদু বিক্রয়চাপের শিকার হয় বাজারটি। পরবর্তী ১০ মিনিটে ডিএসই সূচক নেমে আসে ৪ হাজার ৭১০ পয়েন্টে। এখান থেকে ফের ঊর্ধ্বমুখী হয় সূচক। বেলা ১১টায় আবার পৌঁছে যায় ৪ হাজার ৭১৯ পয়েন্টে। বেলা পৌনে ১টা পর্যন্ত সূচকের এ অবস্থান ধরে রাখে বাজারটি। বেলা ১টার দিকে ফের বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হলে দিনশেষে ১৪ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রেখে ৪ হাজার ৭০৬ দশমিক ৬৬ পয়েন্টে স্থির হয় সূচকটি।
এ দিকে তারল্য সঙ্কট দূর করে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সম্প্রতি সরকারের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল চেয়েছিল ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংকারসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। এ বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল জানতে চেয়েছে সরকার। গত বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো: আসাদুল ইসলামের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি তাদের কাছে তহবিল কিভাবে পুঁজিবাজারে কার্যকর প্রভাব রাখবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল জানতে চান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সভায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মিডওয়ে সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান ও ডিএসইর পরিচালক মো: রকিবুর রহমান, ইবিএল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিএসই পরিচালক মো: ছায়েদুর রহমান, ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ আলী, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজের সিইও মো: আনোয়ার হোসেন, ব্যাংক এশিয়ার সিকিউরিটিজের সিইও সুমন দাশ, সিটি ব্রোকারেজের সিইও মিসবাহ উদ্দিন আফফান ইউসুফ ও এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেসের পরিচালক মো: রেজাউর রহমান।
সভায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা পুুঁজিবাজারের স্বার্থে সহজ শর্তে তহবিল প্রদানের গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ তহবিল থেকে স্টক ব্রোকার, ডিলার, মার্চেন্ট ব্যাংকারসহ সব প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা অর্থ নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলে সেটি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন। এমনকি এ তহবিলের অর্থ শুধু সেকেন্ডারি বাজারে মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা। সভায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো: আসাদুল ইসলাম প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মন্ত্রণালয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল জমা দেয়ার কথা বলেছেন। তাদের কাছ থেকে কর্মকৌশল পাওয়ার পর এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

 


আরো সংবাদ

সকল