২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

সূচকের বড় উত্থানে পুঁজিবাজার

বেড়েছে লেনদেনও ; কমেছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর
-

গত সপ্তাহে বড় ধরনের ধসের পর দেশের পুঁজিবাজার বড় উত্থানে রয়েছে। আগের দিন ২৩২ পয়েন্ট বৃদ্ধির ধারাবাহিকাতায় গতকালও দেশের উভয় বাজারে সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধিতে এ দিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ৫২ পয়েন্ট বেড়েছে। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৯১ পয়েন্ট। সেই সাথে বড় অঙ্কের বাজার মূলধন ফিরে এসেছে। এর মধ্য দিয়ে পুঁজিবাজার উত্থানে পার করল টানা চতুর্থ দিন। তবে গতকাল সোমবার বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা সঙ্কট আর আতঙ্কে সম্প্রতি পুঁজিবাজারে ধস নেমেছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শেয়ারবাজারের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বেড়েছে। এর ফলে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ফিরে এসেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল দিনভর ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ১৪৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৬১টির। আর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৪১টির। বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমলেও বড় মূলধনের বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ৫২ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৪৩৪ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ২৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৫১৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
সূচকের উত্থানে এ দিন সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে বড় মূলধনের প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে বড় অঙ্কের বাজার মূলধন ফিরে পেয়েছে ডিএসই। বাজার মূলধন আগের দিনের তুলনায় ৪ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা বেড়ে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১১৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বাজার মূলধনের পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও। দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৯৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৪১১ কোটি ৩৬ লাখ। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৮৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে গ্রামীণফোনের শেয়ার। ২৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে কোম্পানিটির। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এসএস স্টিলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকার। ২৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লাফার্জ হোলসিম। এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছেÑ স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্র্যাক ব্যাংক, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, খুলনা পাওয়ার, এবিএন টেলিকম ও ন্যাশনল ব্যাংক।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৯১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৪৬৯ পয়েন্টে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেয়া ২৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৩টির, কমেছে ১০২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮টির।
ব্লক মার্কেট : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল ব্লক মার্কেটে মোট ১৪ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিগুলোর মোট ৭৬ লাখ ৮৪ হাজার ৯৮৯টি শেয়ার লেনদেন হয়; যার আর্থিক মূল্য ২৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। জানা গেছে, কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ১৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে বিকন ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেডের। ম্যারিকো ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা এসএস স্টিল ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এ ছাড়া ব্লকে লেনদেন করা অন্য কোম্পানিগুলো হচ্ছেÑ এডিএন টেলিকম, বেঙ্গল উইন্ডসোর, ব্র্যাক ব্যাংক, ফ্যাস ফিন্যান্স, নর্দার্ন জুট, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, এসইএমএল লেকচার ইক্যুয়িটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, এসকে ট্রিমস ও সামিট পাওয়ার লিমিটেড।
তদারকি কমিটির বৈঠক : পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের গঠিত সমন্বয় ও তদারকি কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বিকেলে আইসিবির পরিচালনা পর্ষদ কক্ষে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অর্থমন্ত্রীর কাছে দেয়া ডিএসইর প্রস্তাবগুলো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ আজ অর্থমন্ত্রণালয়ে দেয়া হবে বলে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ), ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
জানা যায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাকসুরা নূরকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে অর্থ মন্ত্রাণলয়। বৈঠকের অন্য সদস্যরা হলেনÑ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্বাহী পরিচালক, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব ড. নাহিদ হোসেন।
উল্লেখ্য, পুঁজিবাজার উন্নয়নে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বৈঠক করেছিল। তাদের দেয়া সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা প্রণয়নসহ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবে। এ ছাড়া বাস্তবায়নের অগ্রগতি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে মনিটরিং করে সরকারের কাছে রিপোর্ট পেশ করবে।

 


আরো সংবাদ