২৬ জুন ২০১৯

নোয়াখালীতে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের পলেস্তারা খসে ৫ শিশুসহ ১০ জন আহত

ঝুকিপূর্ণ ভবনে ৪ বছর যাবত চলছে চিকিৎসা সেবা
-

নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের পলেস্তারা খসে পড়ে পাঁচ শিশু, তাদের স্বজনসহ ১০ আহত হয়।

আজ বুধবার সকালে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ৪নং শিশু ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হচ্ছেন- কবিরহাট উপজেলার নলুয়া গ্রামের ইব্রাহিম (৫০), সুমাইয়া (১২), ইসমাইল (৫), সদর উপজেলার মনসাদপুর ইমাম উদ্দিন (৫), সোনাপুরের পারুল বেগম (৪৭), সুবর্ণচর উপজেলার রাসেল (১৬), সাদ্দাম (৩৫) ও রাফি (২) সহ ১০ জন।

ভুক্তভোগীরা জানান, আজ সকালে হঠাৎ করে বিকট শব্দে ছাদের পলেস্তারা ভেঙে নিচে থাকা শিশু ও রোগীদের গায়ে পড়ে। এ সময় রোগী ও স্বজনদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এতে তিন রোগী শিশু ও তাদের স্বজনসহ ১০ জনের শরীরের বিভিন্ন অংশে কেটে গিয়ে জখম হয়।

খবর পেয়ে মাইজদি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল গিয়ে অন্য রোগীদের বের করে আনেন। আহতদের মধ্যে এক শিশুর অবস্থা আশংকাজনক। এতে সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে রোগী ভর্তির কার্যক্রম।

এ ঘটনায় পর অনেকেই তাদের শিশুদের হাসপাতাল ছেড়ে অন্যত্র নিয়ে যেতে দেখা যায়। নোয়াখালী জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন।

এ দিকে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার জন্য ভবনটির জরাজীর্ণ অবস্থাকে দায়ী করেছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ফরিদউদ্দীন আহমেদ।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সৈয়দ মহি উদ্দিন আবদুল আজিম জানান, আহতদের উদ্ধার করে নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলার ১ ও ৩নং ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এ ভবনে চিকিৎসার কার্যক্রম আর চলবে না। ওয়ার্ড সিলগালা করা হবে।

নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালটি ৭০ দশকের দিকে স্থাপিত হয়। এর এ ভবনটি ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ২০১৫ সালে এটি পুরোপুরি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পরেও এ ভবনের দোতলায় চারটি ওয়ার্ড- দুইটি শিশু, একটি মহিলা ও একটি পুরুষ ওয়ার্ডে চলছে চিকিৎসা সেবা। শুধু তাই নয়, এ ভবনের নিচতলায় জরুরি বিভাগে আসা অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে গত চার বছর ধরে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিভিন্ন সময়ে হাসপাতাল ভবনের বর্তমান পরিস্থিতি জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি দিয়ে অবগত করেন। গত বছর তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০তলা ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের স্থলে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ আলোর মুখ দেখেনি। এমতাবস্থায় উক্ত ভবনে চলছে চিকিৎসা সেবা।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১২ জুলাই নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের পুরনো ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ওয়ার্ডের ছাদ ধসে দুই নার্স আহত হয়েছিলেন। তারা হলেন- সিনিয়র স্টাফ নার্স স্বপ্না মজুমদার ও শিক্ষানবিশ নার্স রানী আক্তার।


আরো সংবাদ