২২ আগস্ট ২০১৯

অবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারের জেল সুপার ও ডেপুটি জেলারের বদলির নির্দেশ

উচ্চ পর্যায়ের তদন্তে দুর্নীতি প্রমাণ হবার পর অবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের সুপার নূূরন্নবী ভূইয়া বদলি হলেন। বদলি করা হয়েছে ডেপুটি জেলার হুমায়ুন কবিরকেও। জেল সুপার নূরন্নবী ভূইয়াকে মুন্সিগঞ্জ আর ডেপুটি জেলার হুমায়ুন কবিরকে বরগুনা কারাগারে বদলি করা হয়েছে। বুধবার একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিৎ করেছে।

সূত্র জানায়, গত সোমবার চট্টগ্রামের কারা উপ মহাপরিদর্শক মো. ফজলুল হক কারাগার পরিদর্শন করেন এসময়ই তাদের বদলির আদেশ দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, স্বরষ্ট্র্র মন্ত্রনালয়ের একটি তদন্ত কমিটি গত এপ্রিল মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারের নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এ তদন্তে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের ৯ খাতে বাণিজ্যসহ দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র বেড়িয়ে আসে।

এসব দুর্নীতির মধ্যে রয়েছে কারাগারে বন্দি বেচাকেনা, সাক্ষাৎ বাণিজ্য, সিট বাণিজ্য, খাবার বাণিজ্য, চিকিৎসা বাণিজ্য, পিসি বাণিজ্য, পদায়ন বাণিজ্য, কারা অভ্যন্তরে নিষিদ্ধ মালামাল প্রবেশ এবং জামিন বাণিজ্যসহ নানান অপকর্ম। তদন্ত প্রতিবেদনে এসব অপকর্মের সঙ্গে জেল সুপার নূরন্নবী ভূঁইয়া, জেলার এজি মাহমুদ ডেপুটি জেলার হুমায়ুন কবির, হিসাবরক্ষক মো. নাজিম উদ্দিন সরাসরি জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়। তাদের সহযোগী হিসেবে আসে ২৭ কারারক্ষীর নাম। চলতি বছরের ২৮ শে এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার পর মে মাসেই ২৬ কারারক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। এর আগে আগে সর্বপ্রধান কারারক্ষী আব্দুল ওয়াহেদকে বরখাস্ত করা হয়।

সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের দীর্ঘদিনের অনিময়-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেবা সুরক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (কারা অনুবিভাগ) সৈয়দ বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্য ছিলেন, সেবা সুরক্ষা বিভাগের উপসচিব (কারা-১) মো. মনিরুজ্জামান।

উক্ত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে গত ৬ এপ্রিল ৫১ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এতে কারাগারে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংগঠিত অনিয়ম-দুর্নীতির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়। যথাযথ পর্যালোচনার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ২৮ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদনটি কারা মহাপরিদর্শক ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কারা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।

এরপরই মে মাসে কারা মহা পরিদর্শক ২৬ কারারক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর আগে সর্বপ্রধান কারারক্ষী আব্দুল ওয়াহেদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এতদিন দায়ী কর্মকর্তাদের কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

উল্লেখ্য যে, বিগত ২০১৫ সালের ১৮ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেল সুপার হিসেবে যোগদান করেন নূরন্নবী ভূইয়া। ৪ বছর ধরে এই কারাগারে রয়েছেন। জেল সুপারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিকভাবে জেলার, ডেপুটি জেলার এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা বিগত ৪ বছর ধরে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ব্যাপারে ইতোপূর্বে দৈনিক নয়াদিগন্তে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।


আরো সংবাদ