১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

চকলেটের লোভ দেখিয়ে ১৭ মাসের শিশুকে ধর্ষণ

চকলেটের লোভ দেখিয়ে ১৭ মাসের শিশুকে ধর্ষণ - ছবি : নয়া দিগন্ত

মিরসরাইয়ে ১৭ মাস বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ হয়েছে। অভিযুক্ত মো.শিহাব উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার (৯আগষ্ট) রাতে নেয়াখালী জেলা সদর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরআগে ঘটনার আটদিন পর শুক্রবার বিকালে মো. শিহাবের বিরুদ্ধে ওই শিশুর বাবা বাদি হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারকৃত শিহাব উদ্দিন উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের আবুরহাট বাজারের মো. আশরাফ উদ্দিন জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে নোয়াখালী জেলা সদরের মো.ওজিউল্যার ছেলে।

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, উক্ত ধর্ষণের ঘটনার পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল এই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য গত শনিবার (৩ আগষ্ট) সকাল ১০টায় শালিসের নামে ভূক্তভোগী শিশুটির বাবার সাথে ধর্ষকের কোলাকুলি করে মিমাংসা করে দেন। এরপর ওই শিশুর বাবা শিশুটিকে (০৪ আগষ্ট) মস্তাননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার এই ঘটনাকে ধর্ষনের ঘটনা উল্লেখ করে শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন।

এই ব্যাপারে ভূক্তভোগী শিশুর মা বলেন, গত শুক্রবার দুপুর ২টায় আমার ভাতিজির কাছ থেকে আমার পাশের বাসার ভাড়াটিয়া শিহাব উদ্দিন আমার শিশুটিকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে তার বাসায় নিয়ে যায়। এসময় আমি গোসল করার জন্য বাইরে ছিলাম। কিছুক্ষণ পর শিশুটি শিহাব উদ্দিনের বাসায় জোরে কান্নাকাটি শুরু করলে পাশের বাসার এক মেয়ে শিশুটিকে শিহাব উদ্দিনের ঘর থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। একপর্যায়ে আমি গোসল করে ফিরে আসার পর দেখি শিশুটি মাত্রাতিরিক্ত কান্না করছিলো এবং শিশুটি দাঁড়াতে ও বসতে পারছেনা। এরপর আমি শিশুটির পরনের প্যান্ট খুলে দেখি শিশুটি যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত হয়ে আছে। আমার স্বামী রাতে বাসায় ফিরলে বিষয়টি আমি তাকে জানাই।

ভূক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, আমি অত্যন্ত দরিদ্র মানুষ, তাই আমি শিশুটিকে পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নিয়ে যেতে পারিনি। পরে আবুরহাট বাজারের একটি হোমিওপ্যাথি ঔষধের দোকান থেকে সামান্য ঔষধ কিনে খাওয়াই। ঘটনার পর টাকার অভাবে ও ভয়ে তাৎক্ষনিকভাবে থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে পারিনি। তাই আজ (শুক্রবার ৯ আগষ্ট) আমি ন্যায়বিচারের আশায় জোরারগঞ্জ থানায় মামলা করতে এসেছি।

এই ব্যাপারে অভিযুক্ত শিহাব উদ্দিনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে তার প্রকৃত ঠিকানা ও ধর্ষনের ঘটনা সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসকের দেয়া রির্পোটকে ভুল বলে মন্তব্য করেন।

জারারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম জানান, শুক্রবার (৯আগষ্ট) মো.শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে এক শিশুকে ধর্ষনের অভিযোগে ওই শিশুর বাবা মামলা দায়ের হয়। এরপর রাতে অভিযান চালিয়ে নোয়াখালী সদর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


আরো সংবাদ