২১ নভেম্বর ২০১৯

আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার রায় বৃহস্পতিবার

আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার রায় বৃহস্পতিবার - ছবি : সংগৃহীত

 ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর)। জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

দুপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিচারক রায়ের জন্য এই দিন ধার্য করেন। ইতিমধ্যে এই মামলায় ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮৭ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

নিহত নুসরাতের মা শিরিন আক্তার অধ্যক্ষসহ ১৬ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি আশা করে বলেন, ‘নুসরাত হত্যার রায়ের মাধ্যমে অপরাধীরা যেন আর কোনো অপরাধ করার সাহস না পায়। এ রায় যেন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।’

মামলার বাদী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা আশা করি ন্যায় বিচার পাব।’

নুসরাত হত্যা ঘটনায় ৮ এপ্রিল নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন।

নুসরাত মারা যাওয়ার ৬ মাস ১৩ তিন পর আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনীর পিবিআই পরিদর্শক মো. শাহ আলম ১৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৬ জন আসামির মধ্যে ১২ জন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রভুক্ত ১৬ আসামি হলেন- সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আবদুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আবদুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।

মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. হোসাইন বলেন, ‘নুসরাত শিক্ষা দিয়ে গেছেন কিভাবে প্রতিবাদ করতে হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অসংখ্য নুসরাত নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এখনও অসংখ্য সিরাজ স্কুল-মাদরাসায় ঘাপটি মেরে বসে আছে। নুসরাতের খুনিদের বিচারের মাধ্যমে নুসরাতরা কিছুটা হলেও শান্তি পাবে।’

উল্লেখ্য, চলতি বছর ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে আটক করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা পরীক্ষা কেন্দ্রের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে না নেয়ায় তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় বলে মৃত্যুশয্যায় বলে গেছেন নুসরাত। টানা ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে সে মারা যায়। সূত্র : ইউএনবি


আরো সংবাদ