১৫ নভেম্বর ২০১৯

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারে নিরাপদ পরিবেশ দরকার : মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী 

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারে নিরাপদ পরিবেশ দরকার : মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী  - নয়া দিগন্ত

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির এবং স্থানীয় বাসিন্দারের জন্য পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বেশ কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শন করে গেলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার সকালে মার্কিন সরকারের সহকারী পররাস্ট্রমন্ত্রী এলিচ ওয়েলস কক্সবাজারের টেকনাফের শামলাপুর শরণার্থী শিবির এবং ইউএসএআইডি’র উপ প্রশাসক বনি গ্লিক কক্সবাজার সদর ও রামুর বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনে যান। সকালে টেকনাফের শামলাপুর শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন তিনি। রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে দুপুরে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন সরকারের সহকারী পররাস্ট্রমন্ত্রী এলিচ ওয়েলস।

বৈঠক শেষে তিনি বলেছেন,রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারে নিরাপদ পরিবেশ দরকার। প্রত্যাবাসন অবশ্যই স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে। তিনি কক্সবাজারের টেকনাফের রেরাহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে দুপুরে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রান ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, থাইল্যোন্ডে অনুষ্ঠিত উন্দো-ফ্যাসিফিক সন্মেলনে এই বিষয়টির উপর গুরুত্বারোগ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন তরান্বিত করতে সকল আন্তজার্তিক সম্প্রদায়কে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের অবস্থানের কারণে এখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের উপর যে জাতীগত নিধনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘঠিত হয়েছে এসব বিষয় নিয়েও চিন্তা করা দরকার। আমরা আরও চিন্তা করছি রোহিঙ্গা সমস্যার যাতে দ্রুত এবং টেকসই সমাধান হয় সে জন্য আন্তজার্তিক সম্প্রদায়কে কাজ করতে হবে।

বৈঠকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহাবুব আলম তালুকদারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে ইউএসএআইডি’র উপ প্রশাসক বনি গ্লিক সাংবাদিকদের বিফ্রিংকালে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে একটি আন্তজার্তিক সমস্যা। সারাবিশ্ব এই সমস্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এটি মূলত মিয়ানমারের কারণেই হয়েছে। বাংলাদেশে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে সারাবিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এসময় তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্ঠি করেছে মিয়ানমার সরকার। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য মার্কিন সরকার মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। ট্রাম্প সরকার ইতিমধ্যে মিয়ানমার সরকারের উপর অর্থনৈতিক নানা বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে, চার সামরিক কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞাও জারী করেছে।

তিনি বলেন, মার্কিন সরকার চায় রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন। এ ব্যাপারে আন্তজার্তিক সম্প্রপ্রদায়কে নিয়ে মার্কিন সরকার রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে।

ব্রিফিংকালে তিনি আরো বলেন, মানব পাচারের জন্য বাংলাদেশ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। মানব পাচার এ দেশের অন্যতম সমস্যা। এটি ক্রমান্বয়ে ঝুঁকির দিকে যাচ্ছে।বিশেষ করে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা বাংলাদে;শের ক্যাম্পে রয়েছে। তারাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশকে মানব পাচার রোধে কাজ করতে হবে।ইউএসএআইডি মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশকে নানাভাবে সহযোগিতা দিয়ে আসছে।

এ সময় তিনি কক্সবাজার সদরের পাওয়ার হাউস এলাকায় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ইপসা’র ভিকটিম শেল্টার হোম এবং রামুতে ইউএিএআইডি’র অর্থায়নে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দরিদ্র নারীদের সঙ্গে স্যানিটেশন বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং স্কুল শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় নাটিকা উপভোগ করেন।

পরে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস এয়েলস ও বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার কক্সবাজারের টেকনাফ বাহারছড়া শাপলাপুর গ্রামে কোডেক এনজিওর পরিচালনাধীন সূর্যমূখী কামিনী নামক ২টি লার্নিং সেন্টার পরিদর্শন করেছেন।
কর্মকর্তাবৃন্দ এসব লার্নিং সেন্টারে অধ্যায়নরত রোহিঙ্গা শিশুদের কাছে জানতে চান তোমাদের কোন সাবজেক্ট বেশি ভাল লাগে! তখন রোহিঙ্গা শিশুরা কেউ ইংরেজী, কেউ গণিত, কেউ বা বার্মিজ ভাষার সাবজেক্ট বেশি ভাল লাগে বলে উত্তর দেয়। আবার তোমরা বড় হয়ে ভবিষ্যতে কি হতে চাও এমন প্রশ্নের জবাবে রোহিঙ্গা শিশুরা কেউ ডাক্তার,কেউ শিক্ষক,কেউ সমাজ সেবক হতে চান জানান। এ সময় রোহিঙ্গা শিশুদের স্বপ্নের কথা শুনে অতিথিরা উচ্ছাস প্রকাশ করেন এবং বেশ কিছুক্ষণ সময় রোহিঙ্গা শিশুদের সাথে আড্ডায় মেতে উঠেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ ও কোডেক এনজিওর বিভিন্ন কর্মকর্তারা।

চলমান মানবপাচার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ইউএসএআইডি’র তহবিল কমিয়ে দেয়া হবে

বাংলাদেশের চলমান মানবপাচার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ইউএসএআইডি’র তহবিল কমিয়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির উপ প্রশাসক বনি গ্লিক। কক্সবাজার পরিদর্শনকালে তিনি একথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজার পরিদর্শন করেছেন। এসময় তারা রোহিঙ্গা এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন।

আমেরিকার উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজার পরিদর্শন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি)’র উপ প্রশাসক বনি গ্লিক কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মানোন্নয়নে ইউএসএআইডি পরিচালিত বেশ কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে মানবপাচারের দিক থেকে বাংলাদেশ ‘দুই নম্বর ধাপের নজরদারিতে’থাকা দেশের তালিকায় রয়েছে। পরিস্থিতি অবনতি হতে থাকলে ইউএসএআইডি’র তহবিল কমিয়ে দেয়া হবে।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক উপপ্রধান সহকারী মন্ত্রী এলিস ওয়েলস। এসময় তিনি বলে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে আশিয়ান সহ এই অঞ্চলের বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজার পৌঁছে এলিস ওয়েলস শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এর আগে কক্সবাজার পৌঁছেন ইউএসএআইডি’র উপ প্রশাসক বনি গ্লিক। এসময় সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। আমেরিকার উচ্চ পর্যায়ের এই প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি সরকারী ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথেও কথা বলেন।

 

 


আরো সংবাদ