১১ ডিসেম্বর ২০১৯

নবীনগরে ইউএনও'র সহযোগিতায় মাথা গোজার ঠাঁই পেল অসহায় পরিবার

নবীনগরে ইউএনওর সহযোগিতায় মাথা গোজার ঠাঁই পেল অসহায় পরিবার - নয়া দিগন্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুমের সহযোগিতায় সামাজিক সংগঠন সরল পথের অর্থায়নে নবীনগর পৌর এলাকার নারায়ণপুর গ্রামের একটি অসহায় পরিবার অবশেষে মাথা গোজার ঠাঁই পেল। প্রশাসনের ও সরল পথের এমন মানবিক সহায়তা প্রদানের ঘটনায় স্থানীয় বিভিন্ন মহলে বেশ নাড়া ফেলেছে।

জানা গেছে, নবীনগরের নারায়ণপুর গ্রামের চার সন্তানের জনক আশরাফুল ইসলাম ওরফে ফোরকান মিয়া তার সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছছিলেন ফোরকান ও তার স্ত্রী জান্নাত। এক পর্যায়ে অভাবের তাড়নায় পরিবারটি কাজের সন্ধ্যানে নবীনগর ছেড়ে বাঞ্ছারামপুরের রূপসদী গ্রামে আশ্রয় নেয়। সেখানে খেয়ে না খেয়ে পরিবারটি কোনোরকমে দিনাতিপাত করছিলেন।

গত মাস তিনেক আগে ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ লেখাপড়ার চিন্তায় জান্নাতুল ফেরদৌস এক রাতে ঘুমের মধ্যে ব্রেইনস্ট্রোক আক্রান্ত হলে পরে ধার-দেনা করে চিকিৎসা শেষে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসেন জান্নাত। পরে মাথা গোজার ঠাঁই খুঁজে পেতে নিজ গ্রামের কিছু মানুষের পরামর্শে জান্নাত ছুটে আসেন নবীনগরের ইউএনও মাসুমের কাছে। ওই সময় পুরো ঘটনা শুনে ইউএনও মাসুম তাকে একটি বসতঘর তুলে দেয়ার আশ্বাস দেন।

পরে নারায়ণপুর গ্রামে থাকা তার স্বামীর দেড় শতকের ছোট্ট বাড়িটিতে স্থানীয় সরল পথ ফাউন্ডেশন, পিআইও অফিস ও স্থানীয় জনস্থাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যায়ে সোলার প্যানেল, টিউবওয়েলসহ দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি আধাপাকা টিনের বাসগৃহ নির্মাণ করে দেয়া হয়।

সোমবার দুপুরে এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে জান্নাতুল ফেরদৌসের হাতে সেই ঘরের চাবি তুলে দেন ইউএনও মাসুম। এ সময় স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দসহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, অভাবের তাড়নায় একবার ভেবেছিলাম আমি আত্মহত্যা করবো। কিন্তু ইউএনও স্যার আমাকে মাথা গোজার ঠাঁই করে দেয়ায়, নতুন করে এখন ছেলে মেয়ে নিয়ে আবার বাঁচার স্বপ্ন দেখছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম বলেন, এটি কিন্তু আমার একার কৃতিত্ব নয়। সবাই মিলে আমরা একটি অসহায় পরিবারকে বাঁচাতে যার যার অবস্থান থেকে কেবল একটু হাত বাড়িয়ে দিয়েছি মাত্র। প্রেরক- জালালউদ্দিন মনির,নবীনগর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া। 


আরো সংবাদ