১৯ মে ২০১৯

কানের জৌলুস ছড়ানোর অপেক্ষায়

কানের জৌলুস ছড়ানোর অপেক্ষায় - ছবি কানের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত

অনেক বছর ধরে মে মাসে ফ্রান্সের দক্ষিণ উপকূলীয় শহরে বসে কান চলচ্চিত্র উৎসবের জমজমাট আয়োজন। সেই আয়োজনের জৌলুস ছড়ানোর অপেক্ষায় এখন বিশ্ব সিনেমাপ্রেমীরা। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে কানের ৭২ তম আসরের পর্দা উঠবে। 

উৎসব শুরুর আগে ৭২তম আসরকে দেখা যাক সংখ্যায়। কারণ লিঙ্গ সমতার অঙ্গীকার বজায় রাখতে ফিফটি ফিফটি বাই টোয়েন্টি টোয়েন্টি বিবৃতিতে সই করেছেন তারা।

অফিসিয়াল সিলেকশনের সংখ্যা
পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র: এ বছর ১ হাজার ৮৪৫টি পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র জমা পড়েছিল। গত ১৫ বছরে এ সংখ্যা ক্রমে বেড়েছে। এর মধ্যে পাঁচ বছর ধরে প্রায় একই সংখ্যার পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র জমা পড়েছে। গত বছর ১ হাজার ৯১৬টি, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৮৮৫টি, ২০১৬ সালে ১ হাজার ৮৪৩টি, ২০১৫ সালে ১ হাজার ৮৭২টি, ২০১৪ সালে ১ হাজার ৮০৯টি, ২০১৩ সালে ১ হাজার ৮৫৮টি, ২০১২ সালে ১ হাজার ৭৭৯টি, ২০১১ সালে ১ হাজার ৭০২টি ও ২০১০ সালে ১ হাজার ৬৬৫টি পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র পেয়েছেন আয়োজকরা।

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র: নির্বাচক কমিটি জমা পড়া ৪ হাজার ২৪০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পর্যালোচনা করেছেন। এর মধ্যে নির্বাচিত হয়েছে ১১টি। গত বছর ৪ হাজার ২৭৪টি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি থেকে বেছে নেওয়া হয় ৮টি। ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৭৬৬টি ছোট দৈর্ঘ্যের ছবি থেকে নির্বাচিত হয় ৯টি। ২০১৬ সালে ৪ হাজার ৯৯১টি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি থেকে চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পায় ১০টি।

প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র: এবারের আসরের অফিসিয়াল সিলেকশনে আটজন পরিচালকের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র রয়েছে। গত বছর সাতজন, ২০১৭ সালে ১১ জন, ২০১৬ সালে সাতজন, ২০১৫ সালে আটজন ও ২০১৪ সালে পাঁচজন নবীন পরিচালকের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র ছিল তালিকায়। ৭২তম আসরে ক্যামেরা দ’র পুরস্কারের জন্য ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট ও স্যুমে দ্যু লা ক্রিতিক মিলিয়ে ২৬ জন নবীন পরিচালক বিবেচিত হবেন।
দেশ: এ বছর অফিসিয়াল সিলেকশনে থাকা পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবিগুলো ৩৯টি দেশ প্রযোজনা ও সহ-প্রযোজনা করেছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩৫। ২০১৭ সালে ৪২টি, ২০১৬ সালে ২৭টি, ২০১৫ সালে ২২টি ও ২০১৪ সালে ২৮টি দেশের প্রযোজিত ছবি স্থান পায় তালিকায়।

কানে লিঙ্গ সমতার চিত্র
আয়োজক সংগঠন: কান উৎসবকে সামনে রেখে প্রতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১০৯ জন কর্মী বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। তাদের মধ্যে ৬৬ জন নারী অর্থাৎ মোট কর্মীর ৬১ শতাংশ। আর উৎসব চলাকালে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন ৮৬৫ জন। তাদের ৪৬ শতাংশ নারী। এবারের আসরে ৫০৬ জন পুরুষ ও ৪৬৮ জন নারীসহ মোট ৯৭৪ জন কাজ করছেন। অর্থাৎ ৪৮ শতাংশই নারীকর্মী।

নির্বাচক কমিটি: এ বছরের শুরুতে উৎসব উপলক্ষে গঠিত নির্বাচক কমিটিতে চার জন পুরুষ (পল গ্র্যান্ডার্ড, লঁহা জ্যাকব, এরিক লিবিও, লুসিয়েন লোজেত) ও চার জন নারী (ভার্জিনি আপিউ, স্টেফানি লামোম, গিমেত অদিসিনো, মারি সোভিয়ন) দায়িত্ব পালন করেন। তাদের মধ্যে স্টেফানি লামোম আর্টিস্টিক পরামর্শদাতা হিসেবে ফিল্ম ডিপার্টমেন্টের প্রধান ক্রিশ্চিয়ান জ্যেঁনের সঙ্গে কাজ করেছেন।

বিচারক: অফিসিয়াল সিলেকশনের চারটি বিভাগে বিচারকদের প্রধানদের মধ্যে লিঙ্গ সমতা অর্থাৎ দু’জন পুরুষ ও দু’জন নারী রাখা হয়েছে। মূল প্রতিযোগিতায় মেক্সিকোর অস্কারজয়ী নির্মাতা আলেহান্দ্রো গঞ্জালেজ ইনারিতু, আঁ সার্তে রাগারে লেবানিজ পরিচালক নাদিন লাবাকি আর স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও সিনেফঁদাসোতে ফরাসি নির্মাতা ক্লেয়ার ডেনিস, ক্যামেরা দ’র বিভাগে কম্বোডিয়ান পরিচালক রীতি পান।

মূল প্রতিযোগিতায় আট বিচারকের চারজন পুরুষ ও চারজন নারী। প্রথমবারের মতো তিনজন নারী নির্মাতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এতে। আঁ সার্তে রাগার ও ক্যামেরা দ’রে দুই জন করে নারী-পুরুষ, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও সিনেফঁদাসোতে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

অফিসিয়াল সিলেকশনে নারী পরিচালক
প্রথমবারের মতো কানের আয়োজকরা হিসাব করেছেন, অফিসিয়াল সিলেকশনের জন্য নারী নির্মাতাদের কয়টি ছবি জমা পড়েছে। দেখা গেছে, নারীদের বানানো ২৬ শতাংশ পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র, ৩২ শতাংশ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থীদের ছবি রয়েছে সিনেফঁদাসোতে।

নির্বাচিত নারী পরিচালক

২০১৯ সালে অফিসিয়াল সিলেকশনে জায়গা পাওয়া ছবিগুলোর মধ্যে ২০টি নির্মাণ করেছেন নারীরা। এর মধ্যে প্রতিযোগিতা বিভাগে চারটি, আঁ সার্তে রাগারে আটটি, স্পেশাল স্ক্রিনিংসে তিনটি ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে আছে পাঁচটি। গত বছর ছিল নারী পরিচালকদের মোট ১১টি ছবি। ২০১৭ সালে ১২টি, ২০১৬ সালে ৯টি ও ২০১৫ সালে তাদের বানানো ৬টি ছবি স্থান পায় কানের অফিসিয়াল সিলেকশনে।

৭২তম আসরের লক্ষণীয় বিষয়, অফিসিয়াল সিলেকশনের ওপরের সারির দুই বিভাগ মূল প্রতিযোগিতা ও আঁ সার্তে রাগারে লিঙ্গ সমতা রেখেছেন আয়োজকরা। আমেরিকান নির্মাতা জিম জারমাশের ‘দ্য ডেড ডোন্ট ডাই’ ছবির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠবে এবারের উৎসবের। অন্যদিকে আঁ সার্তে রাগারের উদ্বোধনী ছবি কানাডিয়ান নারী নির্মাতা মনিয়া শকরির ‘অ্যা ব্রাদারস লাভ’।

মূল প্রতিযোগিতায় ১৭ জন পুরুষের সঙ্গে চারজন অর্থাৎ ১৯ শতাংশ ছবির নির্মাতা নারী। আঁ সার্তে রাগারে ১১ জন পুরুষের পাশাপাশি আটজন নারী পরিচালকের (৪২ শতাংশ) ছবি রয়েছে।

স্পেশাল স্ক্রিনিংসে আটজন পুরুষের সঙ্গে তিনজন অর্থাৎ ২৭ শতাংশ চলচ্চিত্র বানিয়েছেন নারীরা। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে সাতজন পুরুষের পাশাপাশি আছে পাঁচজন নারী পরিচালকের (৪২ শতাংশ) ছবি।

ক্যামেরা দ’র পুরস্কারের জন্য বিবেচিত নবীন নির্মাতাদের মধ্যে ১৩ জন নারী (৫২ শতাংশ) ও ১২ জন পুরুষ। এই নারীদের মধ্যে আটজন আছেন অফিসিয়াল সিলেকশনে, অর্থাৎ ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ। পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মিলিয়ে ৬৯টি চলচ্চিত্রের মধ্যে ১৯টি বানিয়েছেন নারীরা (২৭ দশমিক ৫ শতাংশ)।


আরো সংবাদ