১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

এফআর টাওয়ারের নকশা জালিয়াতি মামলায় তাসভীর গ্রেফতার

-

বনানীর এফআর টাওয়ার নকশা জালিয়াতি মামলার আসামি কাসেম ড্রাইসেল ব্যাটারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সভাপতি তাসভীর উল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার বিকেলে সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে দুদকের উপপরিচালক আবুবকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে একটি টিম তাকে গ্রেফতার করে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতিষ্ঠান জিএসপি ফাইন্যান্স থেকে ৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে। এর আগে একই মামলায় গত ৩০ জুলাই রাজউকের সহকারী পরিচালক শাহ মো: সদরুল আলমকে গ্রেফতার করা হয়। দুদক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে ১৬ থেকে ২৩ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগে এফআর টাওয়ারের মালিক, রাজউকের সাবেক দুই চেয়ারম্যান এবং রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে গত ২৫ জুন পৃথক দুই মামলা করে দুদক।
মামলায় ভুয়া ছাড়পত্রের মাধ্যমে এফআর টাওয়ারের ১৯ তলা থেকে ২৩ তলা নির্মাণ, বন্ধক প্রদান ও বিক্রি করার অভিযোগে দণ্ডবিধির সাতটি ধারা উল্লেখ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। মূলত এই মামলায় তাসভীর উল ইসলামকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
অপর মামলায় এফআর টাওয়ারের ১৫ তলা পর্যন্ত অনুমোদন থাকলেও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ১৯৯৬ লঙ্ঘন করে নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে ১৮ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণের অভিযোগ আনা হয়। গত ২৮ মার্চ দুপুরে বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুন লাগে। এতে অন্তত ২৭ জন নিহত হন।
এই দুর্ঘটনার পর ভবনের নকশা অনুমোদনে জমির মালিক এসএমএইচআই ফারুক হোসেন ও রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল, কাসেম ড্রাইসেল ব্যাটারির মালিক ও এফআর টাওয়ারের বর্ধিত অংশের মালিক তাসভীর উল ইসলাম এবং রাজউকের সংশ্লিষ্ট ইমারত পরিদর্শকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের পর মামলার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।
ফারুক হোসেন ১৯৯৬ সালে তার মালিকানাধীন ১০ কাঠা জায়গায় ১৮ তলা ভবন নির্মাণের জন্য রাজউকে আবেদন করেন। প্রথমে ১৫ তলার অনুমোদন পেলেও পরবর্তীতে রাজউকের সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে অবৈধভাবে ১৮ তলা ভবন নির্মাণ করে। ২০০৫ সালে ১৮ তলার উপর ভবনের মালিক ফারুক হোসেন ও রূপায়ণ গ্রুপ অবৈধভাবে ২৩ তলা নির্মাণ করে। ২০০৭ সালে বিষয়টি তদন্ত করে অনুমোদিত নকশায় অতিরিক্ত পাঁচটি ফ্লোর নির্মাণের প্রমাণ পেয়েও কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিশেষ সুবিধা নিয়ে অবৈধভাবে নির্মিত অংশ বিক্রির অনুমোদন দিলে কাসেম ড্রাইসেল ব্যাটারির মালিক তাসভীর উল ইসলাম তা কিনেন।


আরো সংবাদ