১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয় যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে

-

রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এতে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরতে ট্রেনযাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। রাতের ট্রেনে ঢাকায় ফিরে যারা সকালে অফিস বা ক্লাস ধরার পরিকল্পনা করেছিলেন তারা যেমন বিপাকে পড়েছেন, তেমনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে বসে মশার কামড় খাওয়া এবং শিশু ও নারী-পুরুষের নির্ঘুম রাতযাপনের মতো ভোগান্তির যেন শেষ নেই। এ অবস্থায় চরম ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ট্রেনের ছাদে চড়ে ঢাকায় যাচ্ছেন অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের আগে থেকে রেলপথে এ অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে। ঈদের পরও সে অচলাবস্থার অবসান হয়নি, বরং তা বেড়েছে। ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে সকাল ৭টার সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছেড়েছে বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে। শনিবার রাতের ধূমকেতু ছেড়েছে গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৭টায়। এর আগে শনিবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের আন্তঃনগর ট্রেন পদ্মা এক্সপ্রেস ছেড়েছে রাত ১০টায়। রাজশাহী থেকে ঢাকামুখী ট্রেনগুলোর শিডিউলের এই অবস্থা। প্রতিটি ট্রেনই প্রায় ৬ থেকে ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে চলছে।
গতকাল রোববার রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে দেখা গেছে, রাতের ধূমকেতু ট্রেনটি সকালে প্ল্যাটফর্মে এলে ট্রেনে কয়েক শ’ যাত্রী হুড়মুড়িয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। ছোট-বড় ব্যাগ-বস্তা মালামাল নিয়ে নির্ঘুম যাত্রীদের চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ ছিল। সারা রাত মশার কামড় ও গরমে নির্ঘুম রাত কেটেছে অনেকের।
ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে যাচ্ছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেঘলা রহমান। তিনি জানান, শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে ধূমকেতু এক্সপ্রেসের ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু ট্রেনটি পরদিন সকাল ৭টায় রাজশাহীতে এসে পৌঁছায়। দীর্ঘ আট ঘণ্টা স্টেশনে ভারী ব্যাগ নিয়ে রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই অপেক্ষা করতে হয়।
পদ্মা এক্সপ্রেসে রওনা দেয়া এক যাত্রী জানান, ট্রেনটি রাজশাহী থেকে শনিবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি ছাড়ে রাত ১০টায়। প্রতিটি স্টেশনে ট্রেনটি অতিরিক্ত সময় বিলম্ব করতে থাকে। অবশেষে ট্রেনটি রাজধানী কমলাপুরে পৌঁছায় ভোরে। তার পৌঁছানোর কথা ছিল শনিবার রাত ১০টায়।
যাত্রীদের অভিযোগ, প্রতিটি বগিতে ৬০-৬২ জন যাত্রীর সিট থাকলেও বগিতে অন্তত দেড় থেকে দুই শতাধিক যাত্রী উঠে পড়ছেন। যাদের অধিকাংশেরই টিকিট নেই। এ ভিড়ের সুযোগে পকেটমার-মলমপার্টিও তৎপর ছিল। অনেকের মানিব্যাগসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন যাত্রীরা। এ সময় কোনো রেলপুলিশ বা চেকারের সহায়তা চেয়েও পাওয়া যায়নি। আবার কোনো কোনো রেলপুলিশ, আনসার বা চেকারকে টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে দেখা যায় বলেও অভিযোগ করেন অনেক যাত্রী। ট্রেনের ভেতরে দাঁড়াতে না পেরে ছাদে চড়েও অনেক যাত্রীকে কর্মস্থলে ফিরতে দেখা যায়।
ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় সম্পর্কে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার এএএম শাহ নেওয়াজ নয়া দিগন্তকে বলেন, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছাড়তে হচ্ছে প্রতিটি ট্রেন। ট্রেনের ভেতর যাত্রী উপচে পড়ছে। ছাদও ফাঁকা নেই। তাই গতির চেয়ে এখন যাত্রীদের নিরাপত্তার কথাই আগে ভাবতে হচ্ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রেনের গতি কমিয়ে আনা হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ে ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছতেও পারছে না, আবার নির্ধারিত সময়ে আসতেও পারছে না। এতে ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে।
তিনি জানান, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সিঙ্গেল লাইন যতদিন ডাবল না হবে ততদিন ট্রেনের শিডিউল ঠিক রাখা কষ্টকর। কারণ একই লাইনে একাধিক ট্রেন চলাচল করে। তা ছাড়া বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে একটি ট্রেন ধীরগতিতে চলে যাওয়ার পর অন্যটি সিগন্যাল পায়। এ ছাড়া রাজধানীতে ফেরার পথে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপে কোথাও কোথাও একেবারেই গতি কমিয়ে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। তাই ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় কাটছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 


আরো সংবাদ