২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

দিনে পরিবহন শ্রমিক রাতে ছিনতাইকারী

কামরুল ইসলাম হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার ছিনতাই চক্রের তিন সদস্য হ নয়া দিগন্ত -

ওরা তিনজনই পরিবহন শ্রমিক। আবদুল হক রনি ওরফে বাবু পেশায় বাসচালক। সুজন ওরফে শাহজালাল কন্ডাক্টর আর আউয়াল হাওলাদার অটোরিকশাচালক। এরা একটি সঙ্ঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে র্যাব। চক্রের বেশ কিছু সদস্য রয়েছে। যারা ছিনতাইয়ের কাজের সুবিধার জন্য এসব পেশা বেছে নিয়েছে। এ চক্রের সদস্যরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবহনে কাজ করে। এরপর রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে তারা হয়ে ওঠে এক একজন ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারী। এ চক্রটি মাঝে মধ্যে মোটরসাইকেলে চড়েও ছিনতাই করে থাকে। সাধারণ পথচারী মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় এবং নারী পথচারীদের পরিধেয় স্বর্ণালঙ্কার লক্ষ্য করে থামা দিয়ে ছিনিয়ে নেয়। কখনো কখনো নিজেরা বাঁচতে ভুক্তভোগীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে, যা অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সম্প্রতি গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে ছুরিকাঘাতে আরএফএল কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম (৩৫) হত্যার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ওই তিনজনকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসে ছিনতাইকারী চক্রের এমন ভয়ঙ্কর তথ্য।
গতকাল দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে রথ্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে রথ্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন কলেজ গেট এলাকায় কামরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ছোট ভাই আবুল কালাম মতিউর রহমান (২২) বাদি হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় অজ্ঞাতনামা তিন-চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলা নম্বর ২৪।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত কামরুল ইসলাম নাটোর জেলার সদর থানাধীন শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের আবুল কাসেমের বড় ছেলে। তিনি আরএফএল কোম্পানির সিলেট জেলার জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সাপ্তাহিক ছুটি শেষে নাটোর থেকে ঢাকায় আরএফএল কোম্পানির প্রধান অফিসে অফিসিয়াল মিটিংয়ে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে গত ৬ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে রওনা দেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টায় টঙ্গী পূর্ব থানাধীন দত্তপাড়ায় নামামাত্র ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মকভাবে জখম করে তারা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান কামরুল।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর র্যাব গোয়েন্দা তথ্য ও তদন্তের ভিত্তিতে মূল হোতা বাবু, সহযোগী সুজন ও আউয়ালকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সুইচ গিয়ার চাকু, হত্যার সময় ব্যবহৃত অটোরিকশাসহ গ্রেফতার এবং ভিকটিমের মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।
লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, গ্রেফতারকৃতরা দিনে যাত্রী পরিবহনের সাথে জড়িত থাকলেও রাতে তারা প্রত্যেকে পেশাদার ছিনতাইকারী। বাবু বাসের চালক, আউয়াল অটোরিকশাচালক ও সুজন বাসের কন্ডাক্টর। তারা সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করে। এরপর রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে হয়ে ওঠেন ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারী। তারা সাধারণত রাত ১টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে টঙ্গীর বিভিন্ন নির্জন এলাকায় ওঁৎ পেতে থাকে এবং সুযোগ বুঝে সাধারণ পথচারীদের আক্রমণ করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়।
র্যাব জানায়, গ্রেফতার বাবু আবদুল্লাহপুর-বাড্ডা রুটের একটি পাবলিক বাসের চালক। সাত বছর ধরে এই পেশায় নিয়োজিত। পাঁচ বছর ধরে মাদকাসক্ত। তার বিরুদ্ধে টঙ্গী থানায় একাধিক ছিনতাই ও মাদক মামলা রয়েছে।
সুজন আবদুল্লাহপুর-বাড্ডা রুটে একই পাবলিক বাসের কন্ডাক্টর। কাজের সুবিধার জন্য বাবু ও সুজন বেশির ভাগ সময় একই গাড়িতে কাজ করে থাকে। সাত বছর ধরে এই পেশার পাশাপাশি ছিনতাইকারী চক্রের সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধেও একাধিক ছিনতাই ও মাদক মামলা আছে। আউয়াল হাওলাদার পেশায় অটোরিকশাচালক। সুজনের মাধ্যমে ছিনতাই চক্রে যুক্ত হয়ে অটোরিকশা চালানো শুরু করে। দিনের বেলা মাঝে মধ্যে দিন মজুরের কাজ করলেও রাত হলেই সে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নামে। মূলত ছিনতাই কাজে সহায়তার জন্যই অটোরিকশা চালায় আউয়াল।
র্যাব আরো জানায়, এ চক্রের সদস্যরা বাসে নিয়মিত যাতায়াতকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের গতিবিধি অনুসরণ করে থাকে। এমনকি কোনো প্রতিষ্ঠানের বেতনভাতা কবে দেয়া হবে সেই খোঁজখবরও তাদের কাছে থাকে। এ ছাড়া বাসে ভাড়া নেয়ার সময় যাত্রীর কাছে কী পরিমাণ টাকা আছে এবং কোনো মূল্যবানসামগ্রী আছে কি না সেটি তারা লক্ষ করে থাকে। কোনো যাত্রীর কাছে বিশাল অঙ্কের টাকা অথবা মূল্যবান সামগ্রী আছে জানতে পারলে বাস থেকে সেই যাত্রী নেমে যাওয়ার পরপরই তারা তাদের অন্য সদস্যদের ওই যাত্রীর বেশ-ভুষা ও কোথায় নেমেছে তার বিস্তারিত বিবরণ জানায়। পরবর্তীতে তাদের কথামতো ওই সব এলাকায় ওঁৎ পেতে থাকা চক্রের সদস্যরা ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করে নির্জন স্থানে যাওয়ামাত্রই অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সব কিছু ছিনিয়ে নেয়। এ ছাড়াও যারা অটোরিকশা চালায় তারা এলাকায় অপরিচিত যাত্রীদের কৌশলে নির্জনে নিয়ে সহযোগীদের সহায়তায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়।


আরো সংবাদ

হামলাকারী দেশকে ‘মূল রণক্ষেত্র’ করা হবে : ইরান দফায় দফায় উচ্ছেদের পরও যৌবন ফিরেনি বুড়িগঙ্গায় এক মাসে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন হারাল ডিএসই ধরা পড়লে কেউ চেনে না জুয়ার শীর্ষ নিয়ন্ত্রকেরা ধরাছোঁয়ার বাইরে জি কে শামীমের সাথে দু’টি ছবি নিয়ে না’গঞ্জে তোলপাড় কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে : ড. আব্দুর রাজ্জাক এরশাদের স্মরণসভায় জি এম কাদের জাতি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ দেখতে চায় সমুদ্র নিরাপত্তা ও ব্লু-ইকোনমি বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত জাতিসঙ্ঘের অধিবেশনে যোগ দিতে টেলিলিংক গ্রুপ চেয়ারম্যানের ঢাকা ত্যাগ

সকল