২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কাতারপ্রবাসীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মাদক মামলায় গ্রেফতারের অভিযোগ

-

মুন্সীগঞ্জ সদর এলাকার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা কাতারপ্রবাসী ব্যবসায়ী মো: ইউসুফ হাসানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ইয়াবা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ইউসুফ হাসানের স্ত্রী রুমি আক্তার।
রুমি বলেন, আমার স্বামী ইউসুফ হাসান দীর্ঘ দিন ধরে কাতারে পোশাকের ব্যবসা করে আসছেন। তিনি প্রতি মাসেই ব্যবসায়িক কাজে কাতারে আসা-যাওয়া করেন। তিনি এলাকার সব মানুষের বিপদ-আপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। সেই সুবাদে তিনি মুন্সীগঞ্জে সবার কাছে একজন জনপ্রিয় লোক। তিন মাস আগে মোল্লøাকান্দি ইউনিয়ন এবং জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের অনুরোধে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী হন তিনি। তিনি ছোটবেলা থেকেই ছাত্রলীগ, পরে যুবলীগ এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তবে কখনোই কোনো পদ-পদবির লোভ করেননি এবং নিতেও চাননি। গত ৪ সেপ্টেম্বর মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল এবং সেই সম্মেলনে ইউসুফ হাসানকে সভাপতি মনোনীত করার সব কাজ চূড়ান্ত করেছিলেন উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। সম্মেলন উপলক্ষে ৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আমাদের নিজ বাড়িতে একটি সভার আয়োজন করা হয়। এতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কল্পনা আক্তার এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ফরহাদ খাঁ উপস্থিত ছিলেন; কিন্তু সন্ধ্যা ৭টায় সাদা পোশাকে র্যাব-১১-এর একদল সদস্য আমার বাসায় ঢোকেন। তারা আমার বাসা থেকে আমার স্বামী ছাড়া বাকি সবাইকে বের করে দেন। এরপর কোনো কারণ ছাড়াই র্যাব আমার স্বামীকে হেনস্তা করে। র্যাব তাকে বের করে নিয়ে যেতে চাইলে স্থানীয় জনগণ মানবপ্রাচীর তৈরি করে ব্যারিকেড দেয়। পরে র্যাব সদস্যরা তাদের নির্ধারিত পোশাক পরে এবং আমার স্বামীকে বাড়িসংলগ্ন নদীর পাড়ে নিয়ে যান। আমার এলাকার জনগণ সেখানেও র্যাবকে ঘেরাও করে। সে সময় র্যাব এলাকার নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দুই শতাধিক মানুষকে পিটিয়ে আহত করে। পরে ইউসুফকে র্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এলাকার মানুষ সেখানে গিয়েও তার মুক্তির দাবিতে রাতভর বিক্ষোভ করে। পরে ৪ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় তাকে হস্তান্তর করা হয়। পরে ইউসুফ হাসানের বিরুদ্ধে মাদক ও ভাঙচুরের মিথ্যা মামলা দায়ের করেন র্যাব কর্মকতা মো: নবী হোসেন। এ মামলাগুলো সম্পূর্ণ উদ্দ্যেশ্যপ্রণোদিত বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
রুমি বলেন, আমার স্বামী একজন প্রতিষ্ঠিত বস্ত্র ব্যবসায়ী। তিনি কখনো মাদক সেবন করেননি এবং তার জীবনের কোনো পর্যায়েই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন না। তার নামে কোনো থানায় কোনো মামলাও নেই।
ইউসুফ হাসানের স্ত্রী রুমি আক্তার সংবাদ সম্মেলনে আরো জানান, ঘটনার এক দিন পরে আমরা জানলাম নব্য আওয়ামী লীগের একটি অংশ র্যাবকে ম্যানেজ করে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। এমনকি এলাকায় খুনি পরিবার নামে খ্যাত একজনকে মামলায় র্যাব সাক্ষী করেছে। পিন্টু মিয়া নামে অন্য একজনকেও সাক্ষী করা হয়েছে, যিনি জানেনই না তাকে সাক্ষী করা হয়েছে। রুমি বলেন, আমার স্বামী একজন হার্টের রোগী। হার্টে দু’টি রিং বসানো আছে। রুমি তার স্বামীর মুক্তি ও ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


আরো সংবাদ

ভারতের খনিতে ৩ হাজার টন সোনার খবর মুহূর্তেই উধাও! মার্কিন নারীদের মধ্যে বাড়ছে অ্যালকোহলজনিত মৃত্যু অপ্রতিরোধ্য মেসির ৪ গোল খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি আজ স্বাধীনতার গৌরব থেকে বামপন্থীদের বাদ দেয়া যাবে না : মেনন ঢাকা ট্যাকসেস বারের সভাপতি ইকবাল সম্পাদক সূফী মামুন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় জেলে দিয়ে আ’লীগ নিজেদের ফাঁদে পড়েছে : হাসান সরকার বাহান্নর ভাষা আন্দোলনেই স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ বপন হয়েছিল : জি এম কাদের প্রতিবন্ধকতার দেয়াল ভেঙে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে : শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিক সুমন হত্যাচেষ্টা মামলায় আরো একজন গ্রেফতার খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে উচ্চ আদালতের দিকে তাকিয়ে বিএনপি

সকল