০৮ ডিসেম্বর ২০১৯

পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তরুণদের নিরাপদ পৃথিবীর দাবি

-

জলবায়ু ধর্মঘট করে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবীর দাবিতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তরুণেরা। এতে তারা বলেন, কার্বন নিঃসরণে যাদের ভূমিকা সবচেয়ে কম, তারাই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্য দিকে এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশ্ব নেতৃত্ব জোরালো কোনো ভূমিকা পালন করছে না।
‘গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক’ এর অংশ হিসেবে তরুণসহ নানা বয়সের মানুষ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে এ বক্তব্য রাখেন। তাদের এই দাবির সাথে সংহতি প্রকাশ করে পাশে দাঁড়ায় একশন এইড বাংলাদেশ।
জলবায়ু ন্যায্যতা এবং শূন্য কার্বন নিঃসরণের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি নিয়ে জলবায়ু ধর্মঘটে রাস্তায় নামেন শত শত তরুণ। তাদের দাবি, পৃথিবী একটাই আর এই পৃথিবীকে রক্ষা করতে হলে জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এখনই। এই আন্দোলনে অংশ নেয় ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস নামক একটি যুব নেটওয়ার্ক।
এর কো-অর্ডিনেটর সোহানুর রহমান বলেন, জলবায়ু সঙ্কট আমাদের দেশ ও পৃথিবীর জন্য এক বিপর্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু সঙ্কট উত্তরণে প্রয়োজন দূষণকারী দেশগুলো থেকে প্রাপ্য ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ হচ্ছে তরুণ, যারা জলবায়ু সঙ্কট মোকাবেলার প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করতে সক্ষম। জলবায়ু পরিবর্তনের যেসব ঝুঁকি আমরা মোকাবেলা করছি, সে বিষয়ে আমাদের কথা নীতিনির্ধারকদের শুনতে হবে এবং তা বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে কর্মপন্থা গ্রহণ করতে হবে। আমাদের সবুজ উদ্যোগে বিনিয়োগ ও বাড়াতে হবে। আমরা দূষণের বিরুদ্ধে এবং জলবায়ু সঙ্কটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সুবিচারের পক্ষে। আমাদের দাবি পরবর্তী প্রজন্মকে বাঁচাতে হবে। পৃথিবীকে খুন করার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে।
একশন এইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম পরিচালক মো: আসগর আলী সাবরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যেসব সঙ্কট তৈরি হচ্ছে তা সমাজে আরো বেশি অসমতা সৃষ্টি করছে। এই অসমতা দূর করতে এবং জলবায়ু সঙ্কট মোকাবেলা করতে জোরালো দাবি তোলা প্রয়োজন, যা বিশ্বব্যাপী তরণদের মধ্যে থেকে উঠে আসছে।
একশন এইড বাংলাদেশের রেজিলিয়েন্স এবং ক্লাইমেট জাস্টিস ইউনিটের প্রধান তানজীর হোসেন বলেন, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বসবে। যেখানে প্রতিটি দেশই তাদের নিজেদের অবস্থান থেকে কথা বলবে।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয় প্লাস্টিক ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য দিয়ে তৈরি একটি দানবাকৃতির মূর্তি, যাকে বলা হচ্ছে ‘প্লাস্টিক দানব’। প্লাস্টিক ও ইলেকট্রনিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য কিভাবে পৃথিবীকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে তার প্রতীকী চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এই দানবের মধ্য দিয়ে। ধর্মঘটে আরো অংশগ্রহণ করে তরুণদের প্লাটফর্ম একটিভিস্টা, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউল্যাব বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, প্লান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, কেয়ার বাংলাদেশ, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা।

 


আরো সংবাদ