২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ১ সফর ১৪৩৯

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে সঠিক তথ্য না দেয়ার অভিযোগ ভোলার আব্দুল করিম তালুকদার ওয়াক্ফ এস্টেট

-

ভোলার হাজী আব্দুল করিম তালুকদার ওয়াক্ফ এস্টেটের সম্পত্তি উদ্ধার, ক্ষতিপূরণ এবং জালিয়াতকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট দফরগুলো। উল্টো প্রকৃত সত্য আড়াল করে ভুল তথ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতি আরো পোক্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, যেহেতু এস্টেটের ২৮৪ একর সম্পত্তির মধ্যে ২৮০ একর সম্পত্তি বেহাত করার পেছনে দুর্নীতিবাজ মোতাওয়াল্লি ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর কিছু অসাধু কর্মকর্তাও জড়িত, তাই তারা প্রকৃত সত্য আড়াল করে প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়কে ভুল তথ্য দিয়ে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।
জানা গেছে, ভোলা ইসি-১৪১৬ হাজী আব্দুল করিম তালুকদার ওয়াক্ফ এস্টেটের স্বত্বভোগের অধিকারী ভোলার জামিরালতা মিয়াবাড়ির শামীম আহম্মেদ এই এস্টেটের সম্পত্তি রক্ষা ও নিজের অধিকার আদায়ের জন্য দীর্ঘ দিন ধরে সরকারের বিভিন্ন মহলে ধরনা দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিক মামলাও দায়ের করেন। তার অভিযোগ, ভোলায় হাজী আব্দুল করিম তালুকদার ওয়াক্ফ এস্টেটের প্রায় সবটুকু সম্পত্তি বিক্রি হয়ে গেছে। ওয়াক্ফ প্রশাসন ও তাদের একতরফা নিয়োগ করা মোতাওয়াল্লিø মিলেমিশে ২৮৪ একর সম্পত্তির মধ্যে ৪ পয়েন্ট ৪৫ একর জমি ছাড়া সব জমি বিক্রি করে দিয়েছে। ওয়াক্ফ প্রশাসনের দুর্নীতির কারণে ওয়াক্ফ সম্পদ বেহাতকারীরাই বারবার মোতাওয়াল্লির দায়িত্ব পেয়ে প্রতিনিয়ত ওয়াক্ফ সম্পত্তি বিক্রি করছে। এই এস্টেটের স্বত্বভোগের অধিকারীদের বৃহৎ অংশই এখন সুবিধাবঞ্চিত হয়ে সব হারিয়ে পথে নেমেছে। ওয়াক্ফ এস্টেটের সম্পত্তি উদ্ধার করতে গিয়ে শামীম আহম্মেদও আজ সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। তার দাবি, ওয়াক্ফ সম্পত্তি উদ্ধার করে বিগত দিনের ওয়াক্ফ দলিলে শর্ত মোতাবেক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও জালিয়াতকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া নেয়া হোক, যা নিয়ে বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়।
শামীম আহম্মেদের আবেদন ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-১২ মোহাম্মদ মমিনুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো হয়। একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিষয়টি প্রচলিত আইনের বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে নেয়ার জন্য বলা হয়। সেই সাথে বিষয়টি নিয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হলো সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অভহিত করার জন্যও বলা হয়।
ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো: জিয়াউদ্দিন ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত অপর এক চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পরিচালক-১২ বরাবর প্রেরণ করা হয়, যাতে উল্লেখ করা হয়Ñ ‘ভোলা জেলা জজ আদালত পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মোতাওয়াল্লি নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রম স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেন, যার কারণে শামীম আহম্মেদের আবেদনের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না।’
ভুক্তভোগী শামীম আহম্মেদ অভিযোগ করেন, তারা কেউ মোতাওয়াল্লি নিয়োগের ব্যাপারে কোনো দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেননি। তাদের দাবি ছিলÑ সম্পত্তি উদ্ধার, ক্ষতিপূরণ এবং জালিয়াতকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের। তিনি আরো বলেন, নাছির আহমেদ মিয়া কখনোই মোতাওয়াল্লি ছিলেন না। এমনকি তার ছেলে শামীম আহম্মেদকে দেয়া আমমোক্তারনামাও বাতিল হয়নি। অথচ ওয়াক্ফ প্রশাসক এমন মিথ্যা তথ্য চাউর করছেন।
এ ব্যাপারে ওয়াক্ফ প্রশাসক মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখে বেহাত হওয়া আংশিক সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়া হয়েছে। আশা করি বিষয়টির একটি সুরহা হবে।


আরো সংবাদ