১৯ অক্টোবর ২০১৯

বড়াল নদীর স্লুইস গেটের নিচ থেকে ৩টি লাশ উদ্ধার

-

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বড়াল নদীর স্লুইস গেটের নিচ থেকে তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা লাশগুলো উদ্ধারকাজ শুরু করেন। বিকেল ৩টায় উদ্ধারকাজ শেষ হয়। এ সময় পুলিশের ক্রাইম সিন ইউনিট (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তাদের উপস্থিতিতে সুরতহাল শেষে লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ দিকে পরিচয় শনাক্তে লাশগুলোর ডিএনএ সংগ্রহ করা হবে বলে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়।
উদ্ধারকাজ শেষে চারঘাট থানার ওসি সমিত কুমার কুণ্ডু সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে লাশগুলো ভেসে আসার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। লাশগুলো কচুরিপানার মধ্যে ঢেকে ছিল। তার অংশবিশেষ ওপর থেকে দেখে মনে হচ্ছিল চারটি লাশ রয়েছে। তবে উদ্ধার করতে গিয়ে দেখা গেছে তিনটি লাশ, অন্যটি মহিষ। সেটিও পচে গেছে। গবাদিপশু হওয়ায় সেটি আর উদ্ধার করা হয়নি। অপর তিনটি লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য রামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তিনি আরো জানান, লাশগুলোর মধ্যে তিনটিই পুরুষের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে লাশগুলো পচে যাওয়ায় ঠিকমতো চেনা যাচ্ছে না। লাশগুলো অন্তত ১০ দিন আগের। এগুলো পাশের দেশ থেকেও ভেসে আসতে পারে। তবে যাচাই-বাছাইয়ের আগে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
রাজশাহী পুলিশ সুপার মো: শহিদুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করার জন্য লাশগুলোর ময়নাতদন্ত হবে। আর পরিচয় শনাক্তের জন্য তাদের ডিএনএ সংগ্রহ করা হবে। এ ছাড়া এ ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, নিহতদের বয়স ১৮ থেকে ৩০ অথবা ৩৫ এর মধ্যে। তাদের একজনের কোমর থেকে চাবি পাওয়া গেছে, একজনের দেহে সাদা লুঙ্গি পাওয়া গেছে, আরেকজনের বুকের ওপরে ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ আশপাশের জেলার বিভিন্ন এলাকার থানায় তারা খবর নিয়েছেন। কিন্তু কোনো থানা থেকেই কারো নিখোঁজের খবর পাওয়া যায়নি।
এরপরও ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছেন। পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি এবং পিবিআইও কাজ করছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো: শহিদুল্লাহ।

 


আরো সংবাদ