১৭ নভেম্বর ২০১৯

না’গঞ্জে বিএনপির কর্মসূচি পণ্ড

সাধারণ সম্পাদকের কলার ধরে পুলিশের টানাহেঁচড়া
-

বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যার বিচারের দাবিসহ সমসাময়িক ইস্যুতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা বিএনপির সমাবেশ পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে। পুলিশের মারমুখী আচরণের একপর্যায়ে সমাবেশ না করেই চলে যায় বিএনপির নেতৃবৃন্দ। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে শার্টের কলার ধরে টেনেহিঁচড়ে পুলিশ ভ্যানে তোলার চেষ্টা করে। পরে সমাবেশ করবে না এ শর্তে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের বালুর মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সহসভাপতি মনিরুল ইসলাম রবি, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেলসহ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের পাশের গলিতে জড়ো হতে শুরু করে। এর আগেই ওই স্থানে বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়। সকাল সোয়া ১০টার দিকে নেতৃবৃন্দ সমাবেশে দাঁড়াতে শুরু করলে সদর মডেল থানা পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলাম ও এএসআই শামসুর নেতৃত্বে একদল পুলিশ এসে বাধা দেয়।
এ সময় অধ্যাপক মামুন মাহমুদের শার্টের কলার চেপে ধরে তাকে টেনে পুলিশ ভ্যানের দিকে নিয়ে যেতে থাকে এক পুলিশ। বিএনপির আরেক কর্মীকে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তার গায়ের গেঞ্জিই খুলে ফেলে পুলিশ।
একপর্যায়ে মামুন মাহমুদ নিজেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিলে এসআই সাইফুল মারমুখী ভঙ্গিতে বলেন, ‘কিসের সেক্রেটারি? ফাইজলামি শুরু করছেন? পিডান না খাইলে ভাল্লাগে না, না? ছবি না উঠাইলে ভাল্লাগে না? এসপি নিষেধ করছে তাহলে আপনাকে কি চুম্মা দিবো? কথা বাড়াইয়েন না যান।’
এদিকে পুলিশের এই আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছিলাম। এটি একটি জাতীয় ইস্যু। আমরা তো সরকার বিরোধী আন্দোলনের জন্য আসি নাই। কিন্তু পুলিশ এসে আমাদের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিয়েছে। আমরা আগে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মসূচির জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছি। অনুমতি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে বাধা দেয়।
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল বলেন, এমন আচরণ করতেছেন ক্যান? মারতে চাইলে মারেন। মারার জন্য তো আর মিছিল লাগে না। সব ক্ষমতাই তো এখন আপনাদের হাতে। বললাম মিছিল করব না, তারপরও তেড়ে আসতেছেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি খন্দকার আবু জাফর, মনিরুল ইসলাম রবি, কাজী নজরুল ইসলাম টিটু, মাহমুদুল রহমান সুমন, যুগ্ম সম্পাদক এম এ আকবর, মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, সহসাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার, সহযুব বিষয়ক সম্পাদক জুয়েল আহমেদ, সদস্য আফজাল হোসেন, জেলা তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অলিউল্লাহ খোকন প্রমুখ।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, রাস্তা বন্ধ করে তাদের কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেয়া হয়নি। তারা রাস্তা বন্ধ করে কর্মসূচি পালন করতে চাইলে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়।

 


আরো সংবাদ