১৮ নভেম্বর ২০১৯
আশাবাদ বাণিজ্যমন্ত্রীর

পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে ভারত

-

পেঁয়াজ রফতানি থেকে নিষেধাজ্ঞা ভারত চলতি মাসের শেষের দিকে তুলে নিতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি। এর ফলে পেঁয়াজের বাজার শিগগিরই স্বাভাবিক হবে বলে মনে করছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, যেসব ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়ে পেঁয়াজ গুদামজাত করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পেঁয়াজ আমদানিতে বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রæপকে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গতকাল সোমবার বস্ত্র খাতের সামগ্রিক বিষয়ে আলোচনা ও ‘জাতীয় বস্ত্র দিবস-২০১৯’ উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় কমিটির সভার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, মিয়ানমারে একটা সাধারণ উৎসব থাকায় তারা পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ রেখেছিল। তাই পেঁয়াজের সরবরাহ কম হয়েছে। তবে আমরা পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। আমি অবশ্য দেশে ছিলাম না। তবে আমাদের সচিব পেঁয়াজ আমদানিকারকদের সাথে ইতোমধ্যেই বৈঠক করেছেন। বড় কিছু আমদানিকারক যেমন সিটি গ্রæপের সাথে কথা হয়েছে। এ ধরনের বড় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পেঁয়াজের দামের সমস্যাটা সাময়িক। কারণ সোর্স যেটা ছিল সেটা বন্ধ হওয়ার কারণে চাপটা বেড়ে গেছে। ভারতেও এখন ৫৫ থেকে ৬০ রুপিতে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। মিয়ানমারে উৎসবের কারণে পেঁয়াজ সরবরাহ বন্ধ থাকার যে সমস্যা ছিল তা মিটে গেছে। তারপরও অন্যান্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি বলেন, এরপরও পেঁয়াজের দাম তৃদ্ধি কিছু দিন থাকতে পারে। ভারত পেঁয়াজ রফতানিতে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল আমরা আশা করছি এ মাসের শেষ নাগাদ তা তুলে নেবে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে আমার কথা হয়েছে, তাতে আশা করা যায় চলতি মাসের শেষ নাগাদ তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রীও এমনটাই আশা করেছেন।
চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় গুদামে পেঁয়াজ পচে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে যুগ্ম সচিবদের প্রধান করে কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তারা বিভিন্ন জায়গা ও বাজারে গিয়ে দেখেছে, কোথাও কোনো মজুদ আছে কি না। যেসব দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির কাজ চলছে সেগুলোও দেখা হচ্ছে। আমি তাদের সাথে বৈঠক করব।
কিছু দিন কমেছিল আবার বাড়ল এমন প্রশ্নের জবাবে টিপু মুন্শি বলেন, আমাদের পেঁয়াজ আমদানি হয় মূলত ভারত থেকে। ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় সবাই মিয়ানমারে গেছে তখন একটু চাপ পড়েছে। তারপরও মিয়ানমার পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করলেও সাথে সাথে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়া ঠিক নয়। বাংলাদেশে মিয়ানমারের প্রভাব পড়তে অন্ততপক্ষে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগার কথা। তারপরও সাথে সাথেই দাম বেড়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা এ সুযোগ নিচ্ছে।
সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে যাওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি অবৈধভাবে পেঁয়াজ মজুদ করে রাখে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হবে। বাজারে কী অবস্থা বিরাজ করছে তাও দেখব। ১৫ দিন আগে বলেছিলেন পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিটা বেশি দিন থাকবে না। আবার দাম বাড়ল এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে কী বলবেন এমন প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমি আজকেও বলব প্রধানমন্ত্রী বলেছেন একটু কষ্ট করতে হবে। যেহেতু আমাদের নিজেদের উৎপাদনে ঘাটতি রয়েছে, যেহেতু পরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, অন্যের পকেটে টাকা রেখে আমরা তো বলতে পারব না তবে আশা করতে পারি। আমরা আশা করছি আমদানি বাড়াতে পারব। ভারত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আমাদের এ চাপটা থাকবে।
বাজারের নিয়ন্ত্রণ কি সরকারের হাতে নেই এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যেমন বন্যার নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই, বন্যায় যদি কোনো এলাকা ডুবে যায় আমরা কি নিয়ন্ত্রণ করতে পারব? চেষ্টা করতে পারি তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য। রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মিয়ানমারের সাথে আমাদের একটা স্নায়ুবিক অবস্থান সৃষ্টি হয়েছিল সেখানে কৃষি পণ্যের জন্য তাদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে এটা কি বাংলাদেশকে দুর্বল করে দিচ্ছে না প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা হলেও তাদের সাথে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে সমস্যা হয়নি। সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে এটা আলোচনা করে সমাধান হবে। তাই বলে সব কিছু বন্ধ করে দিয়ে নয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। এই খবরে খুচরা ও পাইকারি বাজারে রাতারাতি হু-হু করে পেঁয়াজের মূল্য বাড়তে থাকে। পরদিন সব ধরনের পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে ১০৫ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১৩০ টাকায় ওঠে। এর পরে মাঝখানে পেঁয়াজের দাম কমলেও কয়েক দিন থেকে আবার বাড়তে শুরু করে। গতকাল ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ভালোমানের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজি ১০০ টাকা করে।


আরো সংবাদ