২১ নভেম্বর ২০১৯

নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মসূচি অনশন স্থগিত : প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ না পাওয়া পর্যন্ত গণ-অবস্থান

-

এমপিও নীতিমালা ২০১৮-এর স্থগিত করে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি এবং প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা গণ-অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। শিক্ষামন্ত্রীর অনুরোধে আমরণ অনশন কর্মসূচি ২০ অক্টোবর রোববার পর্যন্ত স্থগিত করে গতকাল জুমার নামাজ আদায়ের পর গণ-অবস্থানে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনশন রোববার পর্যন্ত স্থগিত করা হলেও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা।
গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও নীতিমালা ২০১৮-এর বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বলেন, নীতিমালা ২০১৮ পরিশিষ্ট খ এ নি¤œমাধ্যমিক (ষষ্ঠ-৮ম) শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থী চাওয়া হয়েছে ১৫০ জন। কিন্তু খ এ নি¤œ মাধ্যমিক (ষষ্ঠ-৮ম) শ্রেণী পর্যন্ত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও ফলাফল চাওয়া হয়নি। তাহলে নি¤œমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো কোন মানদণ্ডে এমপিও করা হবেÑ বিষয়টি আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। পরিশিষ্ট ক এ (৬ষ্ঠ-১০ম) শ্রেণী পর্যন্ত সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী চাওয়া হয়েছে শহরপর্যায়ে ৩০০ জন এবং মফস্বলে ২০০ জন। আবার বালিকা বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী চাওয়া হয়েছে শহরে ২০০ জন মফস্বলে ১০০ জন কিন্তু পরিশিষ্ট খ এ উভয় প্রতিষ্ঠানের জন্য পরীক্ষার্থী চাওয়া হয়েছে ৪০ জন। যদি ২০০ জনে ৪০ জন পরীক্ষার্থী হয় সে অনুযায়ী আনুপাতিক হারে ১৫০ জনে ২৬ জন এবং ১০০ জনে হতে হবে ১৩ জন। পরিশিষ্ট খ কলেজ (উচ্চমাধ্যমিক) শহর সহশিক্ষায় (১১-১২) ২০০ জন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থী চাওয়া হয়েছে ৬০ জন আবার নারীশিক্ষায় ১৫০ জন এ পরীক্ষার্থী চাওয়া হয়েছে ৬০ জন। ২০০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৬০ জন পরীক্ষার্থী চাওয়া হলে ১৫০ জনে ৪৫ জন হবে। মফস্বলে সহশিক্ষা ১৫০ জন শিক্ষার্থীতে পরীক্ষার্থী চাওয়া হয়েছে ৪০ জন। নারী শিক্ষায় ১২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে চাওয়া হয়েছে ৪০ জন পরীক্ষার্থী। ১৫০ জন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ৪০ জন পরীক্ষার্থী হলে ১২০ জনের ক্ষেত্রে হবে ৩২ জন। পরিশিষ্ট খ স্নাতকে (১১-১৫) সহশিক্ষায় শহরে ২৫০ জন শিক্ষার্থীতে ৬০ জন পরীক্ষার্থী কিন্তু এখানে স্নাতক শিক্ষার্থী চাওয়া হয়েছে ৫০ জন কিন্তু পরীক্ষার্থী ৬০ জন, যা সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ। আবার নারীশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ১৫০ জনের ডিগ্রি স্তরে শিক্ষার্থী ৩০ জন এর বিপরীতে ৪০ জন পরীক্ষার্থী চাওয়া হয়েছে এবং এইচএসসি বিএম স্তরে প্রতি ট্রেডে শিক্ষার্থী ৩০ জনের বিপরীতে ৪০ জন পরীক্ষার্থী চাওয়া হয়েছে। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। অনুরূপভাবে মাদরাসা, কারিগরি ও বিএম কলেজে উল্লিখিত সমস্যাগুলো ২০১৮ এমপিও নীতিমালায় বিদ্যমান।
সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদক যথাক্রমে অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয়ভূষণ রায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের আন্দোলন কর্মসূচিকে বেগবান করার লক্ষ্যে সকল নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ঢাকায় এসে চলমান গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।


আরো সংবাদ