২২ নভেম্বর ২০১৯

‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিন জেলায় ৪ জন নিহত

-

কক্সবাজার, ময়মনসিংহ ও জয়পুরহাটে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনায় দুই রোহিঙ্গাসহ চারজন নিহত ও চার পুলিশ আহত হয়েছে।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে আবদুল মোতালেব এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে নিহত হয়েছে আমিনুর ইসলাম ক্যাসেট। পুলিশ দাবি করেছে মোতালেব ডাকাত সর্দার ও ক্যাসেট অপহরণকারী। এ দিকে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় হোয়াইকং এলাকায় বিজিবির গুলিতে দুই রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছে। তারা হচ্ছে আবুল হাশেম ও নূর কালাম। বিজিবির দাবিÑ নিহত দুই যুবক ইয়াবা কারবারি।
গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মোতালেব (৪২) নামে এক ডাকাত সর্দার নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় এসআই আক্রাম হোসেন আহত হয়েছেন। নিহত মোতালেব গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ছয়ানি গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে।
গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর আঞ্চলিক সড়কে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ নিশ্চিত করেছেন।
ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, ডিবি পুলিশের দু’টি টিম গফরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী ও বিশেষ অভিযান চালানোর সময় গোপন সংবাদে জানতে পারে, আন্তঃজেলা ডাকাত দল রসুলপুর আঞ্চলিক সড়কে ডাকাতি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ সময় ডিবির দুইটি টিম ওই স্থানে পৌঁছানো মাত্রই ডাকাত দল ডিবি পুলিশকে লক্ষ্য করে অতর্কিতভাবে গুলি চালাতে থাকে। এতে পুলিশের এসআই আক্রাম হোসেন আহত হন। পরে পুলিশ সরকারি সম্পদ ও আত্মরক্ষার্থে শর্টগানের গুলি ছুড়লে ডাকাত দল গুলি করতে করতে পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে ডাকাত সর্দার মোতালেবকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, ১০ রাউন্ড গুলি ও ২০টি কার্তুজের খোসাসহ ডাকাত সর্দার মোতালেবকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গফরগাঁও থানার ওসি অনুকুল সরকার বলেন, নিহত মোতালেব আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার ছিল এবং তার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন যাবৎ আঞ্চলিক সড়কে যাত্রীবাহী বিভিন্ন যানবাহনে ডাকাতি করে আসছিল।
তার বিরুদ্ধে পাঁচটিরও বেশি ডাকাতির মামলা রয়েছে।
পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা জানান, শুক্রবার ভোররাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভারাহুত (ভুতগাড়ী) গ্রামে সন্ত্রাসী-পুলিশ বন্দুকযুদ্ধে আমিনুল ইসলাম ক্যাসেট (৪০) নামের এক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। সে পিয়ারা গ্রামের মৃত আবুল খন্দকার ওরফে শাহাবুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ভোর ৩টায় ভারাহুত গ্রামে অপহরণ চেষ্টার সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অপহরণকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে ক্যাসেট ঘটনাস্থলে মারা যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, সাত রাউন্ড গুলি, একটি চাপাতি ও ৭৮ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুর রহমান ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মাদক কারবার, ছিনতাইসহ প্রায় এক ডজন মামলার পলাতক আসামি ছিল ক্যাসেট। তাদের হামলায় তিন পুলিশ আহত হয়েছে।
ইউএনবি জানায়, টেকনাফে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিলের নাফ নদীর কিনারায় বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গা যুবক নিহতের কথা জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
তারা হলেনÑ উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ/৩ ব্লকের সোলতান আহমদের ছেলে মো: আবুল হাশেম (২৫) ও একই ক্যাম্পের সি/১-এর আবু ছিদ্দিকের ছেলে নুর কামাল (১৯)। তাদেরকে ইয়াবা পাচারকারী দাবি করছে বিজিবি।
টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: ফয়সাল হাসান খান বলেন, নাফ নদীর হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচারের গোপন সংবাদ পেয়ে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল ওই স্থানে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। একপর্যায়ে চার-পাঁচজন ইয়াবা পাচারকারী নৌকা যোগে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশের জলসীমার কিনারায় পৌঁছলে বিজিবি জওয়ানরা তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় দুই পাচারকারী পালিয়ে গেলে বিজিবি জওয়ানরা তাদের ধাওয়া করে এবং ওঁৎ পেতে থাকা ইয়াবা কারবারিরা অতর্কিতভাবে বিজিবির ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এ সময় তিনজন বিজিবি সদস্য আহত হন।
তার দাবি, আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও গুলি বর্ষণ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ৮-১০ মিনিট গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ঘটনাস্থল তল্লাশি চালিয়ে দুই ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। বিজিবি সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে টেকনাফ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানে পৌঁছার পর চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন। ওই কর্মকর্তার দাবি, নিহতদের পকেটে থাকা পরিচয়পত্র থেকে তাদের নাম-পরিচয় চিহ্নিত করা হয়। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ৫০ হাজার ইয়াবা বড়ি, দেশীয় তৈরি একটি বন্দুক, তিন রাউন্ড তাজা কার্তুজ, দু’টি ধারালো কিরিচ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বিজিবি।
তিনি আরো বলেন, টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে অসাধু মাদক পাচারকারী চক্র বেপরোয়া হওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের অপচেষ্টা প্রতিরোধ করার জন্য সীমান্ত প্রহরী বিজিবি জওয়ানরা সদা প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তে মাদক পাচারকারী ও চোরাচালান রোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া সংঘটিত ঘটনার ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


আরো সংবাদ