২০ নভেম্বর ২০১৯

অক্টোবরের ১৮ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫২২৪

-

অক্টোবরের গত ১৮ দিনে সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ হাজার ২২৪। স্বাস্থ্য অধিদফতর অথবা সিটি করপোরেশন থেকে সেপ্টেম্বর থেকেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চলে আসার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু অক্টোবরেও তা নিয়ন্ত্রণে আসেনি। অক্টোবরের ১৮ দিনে সারা দেশের সরকারি ও তালিকাভুক্ত কিছু বেসরকারি হাসপাতালে গড়ে ২৯০ জনের বেশি ভর্তি হয়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে। অবশ্য এটা ডেঙ্গু আক্রান্তের আংশিক হিসাব। এর বাইরে আরো অনেক হাসপাতাল অথবা ক্লিনিক আছে, যারা স্বাস্থ্য অধিদফতরকে ডেঙ্গু রোগীর হিসাব দেয় না অথবা স্বাস্থ্য অধিদফতর তাদের কাছে কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে কি না তা জানতে চায় না। প্রকৃত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যে আরো বেশি, তা সহজেই অনুমান করা যায়। তবে জুলাই, আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের চেয়ে আক্রান্তের সংখ্যা যে কমেছে এটা ঠিক। এবার আগস্ট মাসে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৫২ হাজার ৬৩৬ জন আক্রান্ত হয়েছে। এর আগে এত বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়নি। এমনকি ২০০০ সালেও এত বেশি আক্রান্ত হয়নি।
চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম দিন সরকারি হিসাবে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭১ জন এবং গতকাল ১৮ অক্টোবর আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৭৮ জন। এই সময়ের মধ্যে ৩৭১-এর বেশি কখনো আক্রান্ত হয়নি। গত জুন থেকে এ পর্যন্ত দেখা গেছে শুক্র ও শনিবার আক্রান্তের কম হয়ে থাকে। রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের মধ্যে একটি সামঞ্জস্য থাকলেও শুক্র ও শনিবার আক্রান্তের সংখ্যা কমে যায়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটির থাকার কারণে রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি কম হয়। আবার তথ্য পেতেও সমস্যা হয়ে থাকে ছুটির দিনে।
রাজধানীতে মশার প্রাদুর্ভাব কিছুটা বেড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে প্রচুর বৃষ্টি হলেও মশা নিধন কর্মসূচি জোরদার ছিল বলে মশার সংখ্যাও কম ছিল। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে বেড়েছে মশা। আগে সপ্তাহে কমপক্ষে দুই দিন সিটি করপোরেশনের মশক নিধনকর্মীরা বাসার আশপাশে দিনের কোনো এক সময় ওষুধ ছিটিয়ে গেছে। কয়েক দিন ধরে ওষুধ স্প্রে করা কর্মীদের দেখা যাচ্ছে না। মশক নিধন কর্মসূচি ঝিমিয়ে পড়ার কারণে হয়তো আবারো বাড়তে পারে এডিস মশার আক্রমণ।
২০১৮ সালে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব এবারের মতো এতটা না থাকলেও সারা বছরই কিছু না কিছু ডেঙ্গু আক্রান্ত পাওয়া গেছে। এবার তা আরো বাড়তে পারে। এ ব্যাপারে রোগ তত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, এখন থেকে ডেঙ্গু সারা বছরেই পাওয়া যাবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে এটা হতে পারে। জনসাধারণের উচিত এ ব্যাপারে সচেতন থাকা এবং মশা যেন কামড়াতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া।’ গতকাল শুক্রবার রাজধানীরে ৪১ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪২। সরকারি হাসপাতালে ৪২ এবং বেসরকারি হাসপাতালে ১৫ জন আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। রাজধানীর বাইরে দেশের ৮ বিভাগে মোট আক্রান্ত ১২১ জন। গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৭৮। ডেঙ্গুতে চলতি বছর মারা গেছে মোট ২৪৬। এর মধ্যে আইইডিসিআর ১৫৮টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে ৯৮টি মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। অবশিষ্ট মৃত্যুগুলো আইইডিসিআর পর্যালোচনা করে ফল জানাবে।


আরো সংবাদ