১৮ নভেম্বর ২০১৯

ডিএসসিসির ক্ষতি ২৪ লাখ টাকা ‘আপাতত বন্ধেই’ দুই বছর পার সায়েদাবাদ গাড়ি পার্কিং ইজারা

-

সব প্রক্রিয়া সম্পন্নের পরও রাজধানীর সায়েদাবাদ জনপথ মোড়ের ত্রিভুজ আকৃতির গাড়ি পার্কিং ইজারা দেয়নি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তারা। ‘আপাতত বন্ধ’ লিখে সংশ্লিষ্ট ফাইলটি গত দুই বছর ধরে ফেলে রাখা হয়। এতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। ওই সময় ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন খান মোহাম্মদ বিলাল এবং সম্পত্তি কর্মকর্তা ছিলেন কামরুল ইসলাম। ডিএসসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, তাদের দু’জনের নির্দেশেই তখন গাড়ি পার্কিং এলাকাটি ইজারা দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে এরপর প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া সরকারের ওই দুই কর্মকর্তা বদলি হয়ে নতুন কর্মকর্তারা এলেও তাদের কাছেও ফাইলটি আর উপস্থাপন হয়নি। এতে নতুনরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। বিষয়টি সম্প্রতি ডিএসসিসির দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির কাছে ধরা পড়ার পর ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।
রাজধানীর সায়েদাবাদ বাসটার্মিনাল সংলগ্ন জনপথের মোড়ের ত্রিভুজ আকৃতির গাড়ি পার্কিং ইজারার জন্য ২০১৭ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কয়েকজন এ দরপত্রে অংশ নেয়ার পর সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হন ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন গেসু। প্রায় তিন বিঘা পার্কিং এলাকার জন্য তিনি অস্বাভাবিকভাবে দর দেন ১০ লাখ টাকা। এ জন্য তিনি সিকিউরিটি বাবদ ওই টাকার ৩০ শতাংশ অর্থাৎ তিন লাখ টাকা জমা দেন। তবে প্রথমে পুলিশের আপত্তির কারণে পার্কিং এলাকাটি ইজারা দেয়া থেকে বিরত থাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কয়েক দিন পরই পুলিশের পক্ষ থেকে ইজারা দিতে কোনো বাধা নেই বলে জানান হয়। কিন্তু ডিএসসিসির তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল ও সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের নির্দেশে সর্বোচ্চ দরদাতা গিয়াস উদ্দিন গেসুকে আনুষ্ঠানিকভাবে আর ইজারা দেয়নি ডিএসসিসি। কিন্তু গিয়াস উদ্দিন গেসু ঠিকই দরপত্র দাখিলের পর ওই পার্কিং এলাকা নিজের দখলে রেখে সায়েদাবাদ টার্মিনালের বাস ও অর্ধশতাধিক রিকশা রেখে প্রতি মাসে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করে আসছিলেন। পার্কিং হিসেবে যানবাহন থেকে টাকা আদায় করলেও তিনি দরপত্রের উল্লিখিত প্রতি বছরের ১০ লাখ টাকা ডিএসসিসিকে দেননি। এভাবে গত দুই বছর ধরে তিনি পার্কিং এলাকাটি ভাড়া দিয়ে টাকা আয় করেছেন। কিন্তু এ দুই বছরে ডিএসসিসির কোষাগারে একটি টাকাও জমা পড়েনি। ফলে ইজারার ২০ লাখ ও ২০ শতাংশ ভ্যাট-ট্যাক্সের চার লাখ টাকাসহ প্রায় ২৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। অভিযোগ রয়েছে ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে যোগসাজশ করে তিনি এ টাকা দেয়া থেকে বিরত থাকেন। বিনিময়ে ডিএসসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওই টাকার একটি অংশ প্রতি মাসে দিয়ে যেতেন, যা ডিএসসিসি ও সরকারের কোষাগারে জমা পড়েনি। মো: রাসেল সাবরিন সম্প্রতি ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর বিষয়টি তার নজরে আসে। তিনি বিষয়টি ডিএসসিসির দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সামনে আনলে তারা পার্কিং এলাকাটি নতুন করে দরপত্র আহ্বান না করেই আবারো গিয়াস উদ্দিন গেসুকেই ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গেসুকে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যাদেশও দিয়েছে ডিএসসিসি। বিগত দুই বছরের টাকা আদায় না করেই তাকে আগের নির্ধারিত বার্ষিক ১০ লাখ টাকা হারেই আগামী এক বছরের জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে। এর সাথে ভ্যাট-ট্যাক্স বাবদ আরো দুই লাখ টাকা জমা দিয়েছেন গেসু।
এ ব্যাপারে ডিএসসিসির বর্তমান প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো: রাসেল সাবরিন নয়া দিগন্তকে বলেন, গিয়াস উদ্দিন গেসু সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১০ লাখ টাকা দর দিলেও তখন পুলিশের আপত্তির কারণে আর আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ইজারা দেয়া হয়নি বলে শুনেছি। বিষয়টি জানতে পেরে আবার ফাইলটি ওঠানো হয়েছে। নতুন করে আবার গেসুকেই আগের দরেই ইজারা দেয়া হয়েছে। তবে নতুন করে আর দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। ইতোমধ্যে তিনি ইজারার ১০ লাখ এবং ভ্যাট-ট্যাক্সের দুই লাখ টাকাও জমা দিয়েছেন। গত দুই বছরে গিয়াস উদ্দিন গেসু ডিএসসিসিকে কোনো টাকা দিয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাকে ওই সময় আনুষ্ঠানিকভাবে ইজারা দেয়া হয়নি। এ কারণে ডিএসসিসিও কোনো টাকা পায়নি।
এ ব্যাপারে ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগের অফিস সহকারী মো: ইসহাক নয়া দিগন্তকে বলেন, ২০১৭ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে অনাপত্তি দেয়া হয়। কিন্তু তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল নির্দেশ দেন ‘আপাতত ফাইল বন্ধ’ রাখতে। এরপর তৎকালীন প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলামও ফাইল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পুলিশের অনাপত্তির পরও কী কারণে পার্কিং জায়গাটি ইজারা দেয়া হয়নি তা বলতে পারব না।
একই ধরনের তথ্য দেন সম্পত্তি বিভাগের সার্ভেয়ার মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ওই সময়ই পুলিশের পক্ষ থেকে অনাপত্তি দেয়া হয়। কিন্তু কী কারণে পার্কিং এলাকাটি ইজারা দেয়া হয়নি তা কর্মকর্তারাই বলতে পারবেন। তিনি জানান, সম্প্রতি দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভায় বিষয়টি জানতে পেরে নতুন করে আবার গিয়াস উদ্দিন গেসুকেই ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সাথে গত দুই বছরে কেন ওই ফাইলটি আর দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সামনে আনা হয়নি সে জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের জন্যও মেয়রের কাছে ফাইল পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, গিয়াস উদ্দিন গেসু পার্কিং এলাকাটি গত দুই বছর ভাড়া দিয়েছেন কি না তা আমরা জানি না। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ইজারাদার গিয়াস উদ্দিন গেসু বলেন, আমি দরপত্রে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ার পরও ২০১৭ সালে আমাকে পার্কিং এলাকাটি ইজারা দেয়া হয়নি। এখন আবার নতুন করে দিয়েছে। এ জন্য আমি টাকাও জমা দিয়েছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইজারা না দিলে আমি কিভাবে পার্কিং এলাকাটি ব্যবহার করব? সরকারি জায়গা কি এভাবে ব্যবহার করা যায়? তবে ওই এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিক ইজারা না পেলেও গত দুই বছর ঠিকই পার্কিং এলাকাটি নিজের দখলে রেখেছিলেন গিয়াস উদ্দিন গেসু। সায়েদাবাদ টার্মিনালের বাস ও রিকশা গ্যারেজ ভাড়া দিয়ে তিনি নিয়মিত টাকা আদায় করতেন। এ নিয়ে প্রায়ই বাসের হেলপার-সুপারভাইজারদের সাথে তার লোকের ঝামেলা বাধত। বিভিন্ন সময়ে টাকা কম দিলেই মারপিটের শিকার হতেন হেলপার-সুপারভাইজাররা। এ ছাড়া সেখানে ৫০টির মতো রিকশা রাখতেন একজন মালিক। তার কাছ থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের ভাড়া আদায় করতেন গেসু।

 


আরো সংবাদ

এফআর টাওয়ারের মালিকসহ ৩ জনের জামিন কুমিল্লায় কাভার্ডভ্যান থেকে ১০ লাখ টাকা মূল্যের সেগুন কাঠ জব্দ রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরে প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ময়মনসিংহে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ বিপিএল খেলে কোন ক্রিকেটার কত টাকা পাবেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমকে হাইকোর্টে তলব সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশী যুবকের মৃত্যু মোরশেদ খান ও তার ছেলের ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকবে কুমিল্লায় মেয়েকে ধর্ষণ করতে বাবাকে অপহরণ! পেঁয়াজের বাজার ‘অতিদ্রুত’ স্বাভাবিক হবে : বাণিজ্য সচিব যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৪

সকল