১৫ নভেম্বর ২০১৯

খোকার স্মরণে দোয়া মাহফিল দুর্নীতির জন্যই সরকারের পতন হবে : মওদুদ

সাদেক হোসেন খোকার স্মরণে স্বাধীনতা ফোরামের আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখছেন মওদুদ আহমদ হ নয়া দিগন্ত -

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, এই সরকার তাদের নিজেদের দুর্নীতি ও ব্যর্থতার কারণেই পতন ডেকে আনবে। নিজেদের দুর্বলতা ও ব্যর্থতার কারণেই তাদের পতন হবে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার স্মরণে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাধীনতা ফোরাম এ সভার আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তব্য রাখেনÑ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, জাতীয় দলের এহসানুল হুদা, ওলামা দলের শাহ মো: নেছারুল হক প্রমুখ।
মওদুদ আহমদ বলেন, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী জাসদ নেতা মইন উদ্দীন খানের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে শোক প্রকাশ করেছেন। ক্ষণিকের জন্যও তিনি সাদেক হোসেন খোকার নাম উল্লেখ করেননি; কিন্তু কেন? এর কারণ কি এটা যে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সাদেক হোসেন খোকা আজকের প্রধানমন্ত্রীকে তখন হারিয়ে দিয়েছিলেন? সাদেক হোসেন খোকা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং উঁচু মাপের ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বাংলাদেশকে ভালোবাসতেন। তার অবদান এ দেশের মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। একজন সৎ ও সাহসী নাগরিক ছিলেন। সে কথা কি তার মনে আসেনি? আমরা তো মনে করি, প্রধানমন্ত্রী একজন বিরাট মনের মানুষ। তার উচিত ছিল সর্বপ্রথম খোকার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রাখা। আমরা লজ্জা পেয়েছি; কিন্তু মৃত্যুর পর খোকা প্রমাণ করেছেন তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা। তিনি আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবেন। বিএনপি তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
মওদুদ আহমদ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের অনেকের মধ্যে একটা শঙ্কা ও ভয়ভীতি আছে। আমরা রাস্তায় নামছি না বা নামতে পারছি না। আর সে কারণে হয়তো এ সরকারের পতন হবে না; কিন্তু আমি হতাশ নই। আমাদের অতীত বলছে, যেভাবে আন্দোলন করে একটা সরকারের পতন ঘটাতে হয়, সে ধরনের আন্দোলন সব সময় হয় না। আমি মনে করি, বর্তমান সরকার নিজেদের দুর্নীতির কারণেই তাদের পতন ডেকে আনবে। দুর্নীতির যে শিকড় সেগুলো তারা তৈরি করেছে। খালেদ মাহমুদ ও জি কে শামীমের বিচার করে দুর্নীতি দমন হবে না। শোভন-রাব্বানীর তো বিচারই হচ্ছে না। আপনারা মনে করছেন, হাতেগোনা কয়েকজনের বিচার করে আপনারা পার পেয়ে যাবেন। এটা কিন্তু যথেষ্ট নয়। জনগণ জানে দেশে কোনো প্রকার বিচার নেই। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার দলীয় শাসন চালাচ্ছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২১ মাস ধরে কারাগারে বন্দী। তিনি চিরদিন বন্দী থাকবেন না। আমরা খালেদা জিয়াকে যেকোনো সময় মুক্ত করে আনব। যেকোনো সময় ছোট্ট একটি ঘটনা সরকারের পতন ডেকে আনতে পারে। এর আগে বেশ কয়েকটি উদাহরণ আমরা দেখেছি।
মওদুদ আহমদ বলেন, আজ সরকার বলছে, খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন! কিন্তু আমরা বলছি, তিনি অসুস্থ। আমরা খালেদা জিয়াকে দেখতে যেতে চাই, আসলে তিনি কি অসুস্থ না সুস্থ। আমরা সরকারের কথায় আস্থা রাখতে পারছি না।
আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, সাদেক হোসেন খোকা ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। আজকে দেশে রাজনীতি বলে কিছুই নেই। আমরা মনে করি, সরকারের পতন অবশ্যম্ভাবী। তবে আমাদের দলীয় সক্ষমতাও দরকার। এই সাংগঠনিক সক্ষমতা তখনই হবে যখন আমাদের সামনে রাজনীতি থাকবে। সাদেক হোসেন খোকা দলের বাইরেও সর্বস্তরের মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। দলীয় কর্মকাণ্ডের বাইরে সামাজিক কর্মকাণ্ড তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়।
ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ আজ প্রতিহিংসার রোল মডেল। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর জন্য আরেকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অপেক্ষা করছে। পৃথিবীতে কোন দেশ আছে যে সে দেশের নাগরিক পাসপোর্ট পায় না? আজকে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সাদেক হোসেন খোকা দেশের মাটিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারেননি। এটা জাতির জন্য সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য। সাদেক হোসেন খোকার অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি মেয়র হওয়ার পর শিক্ষিত সব ধরনের লোককে নিয়ে প্রতি মাসে মতবিনিময় করতেন।
আ স ম আবদুর রব বলেন, বাংলাদেশে আজ কোনো রাজনীতি নেই। জনগণের স্বাধীনতাও নেই। দেশের স্বাধীনতা চুরি হয়ে গেছে। আমার জানা নেই যে, বিশ্বের কোনো দেশে হিটলার মুসোলিনিসহ কোনো ব্যক্তির নামে ক্যান্টনমেন্ট আছে কি না? ক্যান্টনমেন্ট একটি ব্যক্তির নামে কিভাবে হয়? সাদেক হোসেন খোকার শৌর্য বীর্য ও সাহস সম্পর্কে অনেকের ধারণা নেই। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে ঢাকা শহরে অনেকগুলো অপারেশন করেছেন। ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তি বা সেক্টর কমান্ডারের নামে যেসব সড়কের নামকরণ হয়েছে তা খোকার আমলেই হয়েছে। একটা মানুষের ভুল-ত্রুটি থাকতেই পারে; কিন্তু এই সরকার বোকা। তারা তার নাম স্মরণও করে না। মানুষ রাস্তায় নেমে গেলে সরকার টিকতে পারবে না।


আরো সংবাদ