১৫ নভেম্বর ২০১৯

ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে ঢাকায় দিনভর গার্মেন্ট শ্রমিকদের বিক্ষোভ

-

কথায় কথায় নির্যাতন এবং কথায় কথায় ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে গতকাল রাজধানী ঢাকায় দিনভর বিক্ষোভ করেছে গার্মেন্ট শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠন। এ সময় তারা নিজ নিজ সংগঠনের ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এবং এর আশপাশে মানববন্ধন করেন। এ সময় তারা নতুন করে ছাঁটাই-নির্যাতন বন্ধের পাশাপাশি বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করা শ্রমিক নেতাদের চাকরি ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান।
রাজধানীর দক্ষিণখানের চৈতী গ্রুপ ও সুপারটেক্স গার্মেন্টে বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুতসহ ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা ও হামলা-হুমকি-নির্যাতন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ, পতাকা র্যালি ও মানববন্ধন করেন তারা। অন্য দিকে শ্রমিক ছাঁটাই, নির্যাতন ও কালো তালিকা করে হয়রানি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১০২ ও ১৯০ নম্বর ধারায় অনুস্বাক্ষরের দাবিতে পতাকা র্যালি করেছে জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ নি¤œ আয় থেকে মধ্যম আয়ের দেশ হতে চলেছে। মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এবং গড় আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক। জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি অবদান তৈরি পোশাক শিল্পসহ দেশের শ্রমিকদের। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে, শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইএলও কনভেনশনের ১০২ ও ১৯০ অনুস্বাক্ষর এখনো করেনি সরকার। ফলে পোশাক শিল্পের শ্রমিকসহ সব শ্রমিক সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত। যৌন নির্যাতনের শিকারও হচ্ছে নারী পোশাক শ্রমিকরা। আইএলও কনভেনশনের এই দুই ধারায় অনুস্বাক্ষর ও নারী পোশাক-শ্রমিকদের যৌন নির্যাতন বন্ধেরও দাবি জানান তারা। গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই সঙ্কট কাটাতে হলে আমাদেরকে সংগঠিত হতে হবে। লড়াই করতে হবে। এ ছাড়া এই সঙ্কট থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো পথ নেই। তিনি বলেন, সরকার ও মালিক পক্ষ উভয়ে মিলেই এই চেষ্টা চালিয়েছে যে গার্মেন্ট শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন দেয়া যাবে না। সরকার ও বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতিকে (বিজিএমইএ) উদ্দেশ করে বলতে চাই, আপনারা যদি এ ধরনের পাঁয়তারা করেন তার জবাব শ্রমিকরা দেবেন।


আরো সংবাদ