১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

রাজশাহীতে যুবলীগ কর্মী রাসেল হত্যার ঘটনায় মামলা : গ্রেফতার ৭

-

রাজশাহীতে গত বুধবার আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে যুবলীগ কর্মী সানোয়ার হোসেন রাসেল (৩০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই মনোয়ার হোসেন রনি বাদি হয়ে বুধবার রাতেই নগরীর চন্দ্রিমা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো সাত-আটজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর বুধবার রাতভর অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নগরীর শিরোইল কলোনি এলাকার বুলবুল হোসেনের ছেলে রাব্বি (২৫), জয়নালের ছেলে মো: বাপ্পি (১৯), নূর মোহাম্মদ সরদারের ছেলে মো: শাহিন (২৪), মানিকের ছেলে মো: শুভ (২১), বাবু ইসলামের ছেলে চঞ্চল (১৯), জালাল উদ্দিনের ছেলে কালাম উদ্দিন (১৯) এবং আবুল কালাম চৌধুরীর ছেলে মোজাহিদুল ইসলাম অভ্র (১৯)।
পুলিশ জানায়, মামলাটি তদন্তের জন্য চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শরিফুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বুধবার রাতভর অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে তাদের আরো জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। গত বুধবার দুপুরে রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় সংলগ্ন রাস্তার পাশে বোয়ালিয়া থানা (পূর্ব) আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রাজা ও মহানগর বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সুজন আলী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ছয়জন আহত হন। এর মধ্যে ছুরিকাঘাতে আহত আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন রাজা, তার ছোট ভাই যুবলীগ কর্মী সানোয়ার হোসেন রাসেল ও শিরোইল এলাকার রবিউলের ছেলে আওয়ামী লীগ কর্মী সোনাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মারা যান রাসেল। তিনি শিরোইল বাস্তুহারাপাড়া এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে এবং নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য ছিলেন। পুলিশ আরো জানায়, রামেক হাসপাতালের মর্গে নিহত রাসেলের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তার ও রেলভবনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে বুধবার দুপুরে আওয়ামী লীগ নেতা রাজা ও মহানগর বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সুজন আলীর মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই গ্রুপ। পরে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম সংলগ্ন একটি দোকানের সামনে থেকে রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়।


আরো সংবাদ