১০ ডিসেম্বর ২০১৯

সাগর-রুনি হত্যা মামলার অগ্রগতি জানাতে ৪ মার্চ পর্যন্ত সময় দিলেন হাইকোর্ট

-

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় কারা জড়িত তা খুঁজে বের করার জন্য মামলার তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি জানানোর জন্য ২০২০ সালের ৪ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সাথে ফৌজধারী কার্যবিধি ১৭৩ অনুযায়ী মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামি তানভীরকে বিচারিক আদালতে হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
আদালত বলেছেন, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তদন্তের মাধ্যমে এ মামলার রহস্য উদঘাটিত না হওয়া এবং অপরাধীদের চিহ্নিত, গ্রেফতার এবং বিচারের সম্মুখীন না করতে পারা নিঃসন্দেহে দুঃখ ও হতাশার বিষয়।
আদালত বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর অভিজাত (এলিট) ও চৌকস বাহিনী হিসেবে খ্যাত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), দেশে জঙ্গি সন্ত্রাস মাদক, বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার, ভেজাল প্রতিরোধসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অনন্য সফলতা থাকলেও সেসব কিছু ম্লান হবে, যদি এ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দোষীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করে বিচারের সম্মুখীন করতে না পারে।
হাইকোর্ট বলেন, আদালত প্রত্যাশা করে যে, র্যাব দ্রুত সময়ের মধ্যে এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে হত্যার রহস্য উন্মোচন ও প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত এবং গ্রেফতার করে বিচারে সোপর্দ করতে সক্ষম হবে। বিশেষায়িত এ বাহিনী ব্যর্থতার দায়ভার বহন করুক এটা কারো কাম্য নয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো: মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব মন্তব্য করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো: সারওয়ার হোসেন। আসামি তানভীরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে আদালত আসামি তানভীরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন।
এর আগে গত ১১ নভেম্বর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। ওই দিন শুনানির শুরুতে আদালতের তলবে হাজির হয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার শফিকুল আলম বলেন, এখনো তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। চারটি ডিএনএ প্রতিবেদনের মধ্যে দু’টি মিলেছে। এ দু’টিতে আসামিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে সেগুলো ফের আমেরিকায় এফবিআইর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে আট আসামি। বাকি দু’টি প্রতিবেদন পাওয়া গেলে অগ্রগতি হবে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন নাহার রুনি। দু’জনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।


আরো সংবাদ