১১ ডিসেম্বর ২০১৯

ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করতেই জরিমানা বাড়ানো হয়েছে : ডিএনসিসি মেয়র

-

মানুষ যেন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয় এবং আইন মেনে চলে সে জন্যই শাস্তি এবং জরিমানা বাড়িয়ে নতুন ট্রাফিক আইন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম।
গতকাল মোহাম্মদপুরের আসাদ এভিনিউতে গ্রিন হেরাল্ড স্কুলের সামনে পথচারীদের সড়ক পারাপারে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচারাভিযানকালে মেয়র এ কথা বলেন। এ সময় চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ এর প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম রতন, ডিএনসিসির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের কর্মকর্তা ও পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রচারাভিযানকালে ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে তারা পথচারী ও গাড়িচালকদের প্রচারপত্র বিতরণ করেন এবং ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার বিষয়ে গাড়িচালকদের পরামর্শ ও নির্দেশনা দেন। গ্রিন হেরাল্ড স্কুলের সামনে ডিএনসিসি স্থাপিত পুশ-বাটন চেপে সড়ক পার হওয়ার জন্য মেয়র পথচারী ও গাড়িচালকদের কাউন্সেলিং করেন। এ সময় সিগন্যাল পয়েন্টে দাঁড়িয়ে পথচারীদের সচেতন করতে চার ধরনের লিফলেট বিতরণ করেন ডিএনসিসি মেয়র। এর মধ্যে চালকের জন্য বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা পথচারীদের জন্য এক ধরনের এবং ট্রাফিক আইন ও দণ্ডগুলো সম্পর্কে অবগত করতে আরেক ধরনের লিফলেট বিতরণ করা হয়।
প্রচারাভিযানকালে মেয়র সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় কেউ আইন ভঙ্গ করেন না। কারণ সেখানে আইন ভঙ্গ করলে বড় ধরনের জরিমানা ও শাস্তি পেতে হয়। কিন্তু একই চালক ক্যান্টনমেন্টের বাইরে এসে আইন অমান্য করেন। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় এক ধরনের আচরণ এবং বাইরে আরেক ধরনের আচরণ হতে পারে না। সারা বিশ্বেই কঠোরভাবে আইন মানা হয়। সবখানেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে। এর মূল কারণ আইন অমান্য করলে কঠিন শাস্তি এবং বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হয়।’ মেয়র আরো বলেন, ‘ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করার পরে অনেকে মতা প্রয়োগ করার চেষ্টা করেন। আইন ভঙ্গকারীরা নিজের বা পরিচিত মতাবানদের পরিচয় দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করেন। এমন কর্মকাণ্ড থেকে জনগণকে বিরত থাকার আহŸান জানান তিনি।
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হলে আমাদের এ বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিা নিতে হবে। এক সময় আমাদের দেশে সিনেমার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিা ছিল না। এখন এর উন্নতি হচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে কোর্স চালু আছে। আমাদের দেশে এখন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিা চালু করতে হবে। রাস্তায় শুধু ট্রাফিক থাকলে হবে না। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার থাকতে হবে। তাহলে সুস্থ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা হবে।’
দুই সপ্তাহ মুনাফা ছাড়া পেঁয়াজ বিক্রি করুন
সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আগামী দুই সপ্তাহ মুনাফা ছাড়া পেঁয়াজ বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহŸান জানিয়েছেন ঢাকা দেিণর মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, ‘যেভাবেই হোক পেঁয়াজের দাম ক্রয় মতার বাইরে চলে গেছে। আমরা যারা ব্যবসা করি তাদের কাছে শুধু পেঁয়াজ নয়, অন্যান্য পণ্যও রয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা যদি শুধু পেঁয়াজটা যেই দামে কিনি সেই দামেই বিক্রি করি তাহলে আল্লাহর কাছেও সওয়াব পাওয়া যাবে। আমরা অন্তত আগামী দুই সপ্তাহ এটা করি।’
গতকাল নগর ভবন প্রাঙ্গণে পেঁয়াজ, চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার ল্েয ডিএসসিসির মার্কেট ব্যবসায়ী ফেডারেশনের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহবান জানান। সভায় স্বাগত বক্তৃতা করেন, ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার। এ সময় ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ ইমদাদুল হক, মার্কেট ফেডারেশনের সভাপতি জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, সাধারণ সম্পাদক মো: নাজমুল হুদা প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
সাঈদ খোকন ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার দোকানে পেঁয়াজ ছাড়াও আরো অনেক পণ্য আছে। আপনি সেগুলো থেকে লাভ করুন। কিন্তু পেঁয়াজ থেকে আগামী দুই সপ্তাহ মুনাফা করা থেকে বিরত থাকুন। আর কেউ না জানুক, আপনি তো জানলেন আপনি কতটা ভালো কাজ করেছেন। সবাই যদি এভাবে যার যার দায়িত্ব পালন করেন তাহলে পেঁয়াজের দাম নাগালের মধ্যে চলে আসবে। আমি ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে আপনাদের আছে অনুরোধ করছি আগামী দুই সপ্তাহ আপনারা এটা করুন।’
সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ীদের দাবির প্রতি একাত্মতা জানিয়ে মেয়র সাঈদ খোকন ট্রেড লাইসেন্সের সাথে উৎসে কর কমানোর বিষয়টি বিবেচনার জন্য রাজস্ব বোর্ডকে আহবান জানাবেন বলে ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন। এ জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানান মেয়র।


আরো সংবাদ