১১ ডিসেম্বর ২০১৯

বুয়েট শিক্ষার্থীদের শঙ্কা কাটছে না

-

শঙ্কা কাটছেই না বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থীদের। অভিযুক্ত ২৫ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হলেও তাদের মধ্যে চারজন এখনো অধরা থাকায় যেকোনো সময় হামলাসহ জীবননাশের শঙ্কায় দিন কাটছে তাদের।
গতকাল বুধবার দুপুরে বুয়েটের একাধিক শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে তারা জানান, আবরার হত্যার বিচারসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবি ছিল প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি। শিক্ষার্থীরা দায়িত্ববোধ থেকে মিছিল-মিটিংয়ে সময় দিয়েছেন। শুধু বুয়েট ক্যাম্পাস নয়, সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে তখন একই দাবিতে আন্দোলন হয়েছে। এখন একটি পক্ষ বুয়েটের একাধিক শিক্ষার্থীকে বিএনপি-জামায়াতের ট্যাগ লাগিয়ে হয়রানির চেষ্টা করছে। তাতে অনেকে এখন ক্যাম্পাসে আসা পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছেন।
১৬তম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আন্দোলন চলাকালীন ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অন্তরা তিথি ক্যামেরার সামনে কয়েকবার কথা বলেছিলেন। এখন তার বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টিকারী ও আন্দোলনের হোতা হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আরো যারা আন্দোলনের সময় ক্যামেরার সামনে ছিলেন, তাদেরও একইভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানান ওই শিক্ষার্থী।
১৭তম ব্যাচের শেরেবাংলা হলের অপর এক শিক্ষার্থী জানান, হলের পরিবেশ আগের চেয়ে ভালো মনে হচ্ছে। হল প্রভোস্ট শিক্ষার্থীদের রুমে রুমে গিয়ে খোঁজ রাখছেন। তবে এই অবস্থা কত দিন থাকবে তা নিশ্চিত নয়। এ ছাড়া বুয়েট প্রশাসনের ওপরও আস্থা রাখতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা।
সর্বশেষ গত সোমবার বিকেলে ক্লাসে ফিরতে বুয়েট প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তখন শহীদ মিনারের পাদদেশে ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সংশপ্তক এ তথ্য জানান। একই দিন বেলা ১টার দিকে বুয়েট প্রশাসনের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হন শিক্ষার্থীরা।
বৈঠকে বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম দাবিগুলো বিবেচনা করতে তিন সপ্তাহ সময় চান। তখন উপস্থিত ডিনরা দুই সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ করতে চেষ্টা করবেন বলে জানান। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হচ্ছেÑ মামলায় অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বুয়েট থেকে স্থায়ী বহিষ্কার, আহসানউল্লাহ, তিতুমীর ও সোহরাওয়ার্দী হলে র্যাগিংয়ে অভিযুক্তদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি, সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি এবং র্যাগিংয়ে শাস্তির বিধান স্পষ্ট করা।
১৬তম ব্যাচের অপর এক শিক্ষার্থী জানান, সম্প্রতি শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বুয়েটের আন্দোলনে ‘এক অভিভাবক জড়িত’ বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে ক্যাম্পাসে অবস্থান ও পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আন্দোলন ছিল একটি সার্বজনীন দাবি। শুরু থেকেই সেখানে কোনো রাজনীতি বা কোনো পক্ষকে আমরা আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ নিতে দেইনি। এ ছাড়া অভিযুক্তদের শাস্তির বিধান ও দাবিকৃত তিন দফা পূরণেও প্রশাসনের গাফেলতিকে দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, প্রশাসন চাইলে অল্প সময়ে তিন দফা দাবির বাস্তবায়ন সম্ভব। এই তিন দফার কারণে তাদের পরীক্ষাও পিছিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অভিযুক্তদের শাস্তি হবে। তিনি বলেন, আশা করছি শিগগিরই একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।


আরো সংবাদ

সকল